Featuredসিলেট থেকে

সিলেটে ধরপাকড় আতঙ্কে প্রচারণায় নামতে পারছেন না খন্দকার মুক্তাদির

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ধরপাকড়ে ক্ষুব্ধ সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। নিজেই পড়েছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কে। পুলিশ তাকে ফলো করছে। যেদিকেই যাচ্ছেন পুলিশ তার পিছু পিছু ছুটছে।

এ কারণে প্রচারণা সংকোচিত করে এনেছেন তিনি। গতকাল তিনি কোথাও প্রচারণা চালাননি। বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়েছেন- রাত হলেই শুরু হয় গ্রেপ্তার অভিযান। এতে করে বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছেন না সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এলাকা ভিত্তিক ব্লক রেইডও চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজ কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন- তারা ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে সিলেটে গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে ক্ষমতাসীন সরকার।

শুধু গ্রেপ্তার নয়, ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তাদের বাধার কারণে সোমবার কোনোরূপ প্রচারণা করতে পারিনি। ‘আমাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রোববার রাতে ৩ দফায় তিনটি সভাস্থল থেকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে সাদা পোশাকের পুলিশ। কৌশলে আমি গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছি।

মুক্তাদির বলেন, গত দু’দিনে বিএনপি ও ২৩ দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মুফতি বদরুন নুর সায়েক, হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা আজির উদ্দিন, মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ওলিউর রহমান ডেনি, মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, ১৬ নম্বর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি বেলাল আহমদ, যুবদল নেতা গাজী লিটন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মীর্জা জাহেদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষ্ণঘোষ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহজাহান আহমদ, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চমক আলীর পুত্র সোহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জাহেদ আহমদ, সোহেব খান, তানজিল আহমদ, ১৬নং ওয়ার্ড জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রুমান খান, বিএনপি কর্মী হাবিবুর রহমান ডালিম, খোরশেদ আলম প্রমুখ।

তিনি জানান, এদের গ্রেপ্তার করা ছাড়াও প্রতিটি সেন্টার কমিটির সভার পর পরই পুলিশ ওই এলাকায় হানা দিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাদের না পেয়ে ৩০ তারিখে এলাকায় না থাকার জন্য পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে।

ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি একেএম তারেক কালাম, খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন, টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ আহমদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশির নামে ভাঙচুর চালিয়েছে পুলিশ। গত দু’দিনে শাহপরাণ, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট ও দক্ষিণ সুরমা থানায় আরো ৪টি গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট থানায় বিএনপির ৫৭ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। শাহপরাণ থানার গায়েবি মামলায় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাজাহারুল ইসলাম ডালিমসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সাদা পোশাকে গতকাল দুপুরে সদর উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আবদুস সালাম বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বদর, মহানগর বিএনপি নেতা ডা. আশরাফ আলী, মাজহারুল ইসলাম ডালিম, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আফম কামাল, অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close