Featuredযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

জরুরি অবস্থা ঘোষণা নয় অর্থ চাইলেন ট্রাম্প

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য ৫৭০ কোটি ডলার অনুমোদন দেয়ার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটরা এই অর্থ ছাড়ের পক্ষে সায় দিচ্ছে না। ফলে আটকে আছে ট্রাম্পের অনেক কাজ। তাকে এই অর্থ ছাড় না দিলে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন- এমনটা বলা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প তা করেন নি।

তিনি ওভাল অফিসে বসে প্রথমবার প্রাইম টাইম ভাষণ দেন টেলিভিশনে। তাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ক্রমশ নিরাপত্তা ও মানবিক সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এ জন্য তিনি ডেমোক্রেটদের দায়ী করেন।

তবে তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পরই ডেমোক্রেট শিবির থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি সত্য কথা না বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। ওই সীমান্ত নিয়ে তিনি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওভাল অফিস থেকে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে ট্রাম্প জনসমর্থন পাওয়ার জন্য ‘ব্লান্ট’ ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই সীমান্ত দিয়ে যেভাবে অবৈধ অভিবাসী ও মাদক আসছে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। তিনি ডেমোক্রেটদের অর্থ ছাড়ে অনুমোদন দেয়া বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন- কংগ্রেস সফল হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের আর কত রক্ত প্রয়োজন?

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়কে তিনি ইঙ্গিত করেন। কয়েকদিন ধরেই ইঙ্গিত মিলছিল যে, যদি কংগ্রেস তাকে ওই কাঙ্খিত অর্থের ছাড় না দেয় তাহলে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এটা করা হলো অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের জন্য তাকে কংগ্রেসের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হতো না। তিনি সরাসরি অর্থ নিতে পারতেন। কিন্তু ট্রাম্প তা না করে কংগ্রেসে এ নিয়ে অচলাবস্থার একটি সমাধানের প্রত্যাশা করেছেন।

ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের প্রেক্ষাপটে ১৮ দিন ধরে সরকারি কার্যক্রমের অনেকাংশে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাধ্যতামুলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

ওদিকে ট্রাম্পের সরাসরি টেলিভিশন ভাষণে দেয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট দলের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আতঙ্ককে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা চাই বাস্তবতাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করতে। স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাপনের স্বস্তির খাতে গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোকে জিম্মি করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি সারাদেশের নিরপরাধ কর্মী, যাদের বেশির ভাগই বর্ষীয়ান এমন ৮ লাখ কর্মীর বেতন আটকে আছে।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে রয়টার্স/ইসসোস মঙ্গলবার একটি জরিপের ফল প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনটা মনে করছেন প্রাপ্ত বয়স্কদের শতকরা ৫১ ভাগ। শতকরা ৩২ ভাগ দায়ী করছেন কংগ্রেশনাল ডেমোক্রেটদের। শতকরা ৭ ভাগ দায়ী করছেন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close