Featuredসিলেট থেকে

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে যাবে বিএনপি যদি পূর্ননির্বাচনের এজেন্ডা থাকে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার সংলাপে অবশ্যই ‘নির্বাচন বাতিলের’ বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থাকতে হবে। এ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এজেন্ডা জানলে সংলাপে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করবেন।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আবার আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। আজ মির্জা ফখরুলকে ওই সংলাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বলেন, সংলাপের এজেন্ডা তো আমরা জানি না। নিঃসন্দেহে যখন আমাদের এজেন্ডা জানাবেন, তখন আমরা সে বিষয়ে বিবেচনা করব।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সংলাপ যদি গতবারের মতো হয়, তাহলে সেটি অর্থবহ হবে না। সংলাপের আহ্বান করা হলে আমাদের এজেন্ডা একটি—এই নির্বাচন (একাদশ জাতীয় সংসদ) বাতিল করতে হবে। পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এজেন্ডায় যদি বিগত নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের বিষয় থাকে, তা হলে আমরা সংলাপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করব। কারণ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিল তা অর্থবহ হয়নি।

জামায়াত নিয়ে ড. কামালের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত নিয়ে কামালের বক্তব্য গণফোরামের। এটি ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে এখনও কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।

জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে ফাটল ধরবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। অটুট থাকবে। কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি।

সিলেটের বালাগঞ্জে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সোহেলের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

সোমবার বিকালে তারা সোহেলের পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তারা সেখানে ফাতেহা পাঠ ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

মির্জা ফখরুলসহ নেতারা সোহেলের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় সোহেলের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম নিহত হওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ও তার স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেটে যান।

বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তারা। বিমানবন্দরে দলীয় নেতারা স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আটটি আসন পায়। এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি এবং ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক গণফোরাম দুটি আসন পায়। এই আট বিজয়ী এখনো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নির্বাচন নিয়ে আজ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের রায়কে ডাকাতের মতো ডাকাতি করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। দখলদারি সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে নিয়ে গেছে। সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মতো ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরকারের পরিবর্তন ঘটায় না।

সুতরাং এ নির্বাচনগুলো মুখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় না। এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, যার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো; সারা বিশ্বের সবাই দেখেছে কতটা অযোগ্য এই নির্বাচন কমিশন। তাদের কোনো যোগ্যতাই নেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার। সুতরাং তাদের অধীনে নির্বাচন করার কোনো প্রশ্নই নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ–সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close