Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

প্রেমের টানে ব্রাজিলের তরুণী জকিগঞ্জে

রিপন আহমদ: প্রেম নিয়ে জগতে অনেক ইতিহাস রয়েছে, তেমনি প্রেম নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ব্রাজিলের তরুণী বাখজিয়াং সিটির একটি হাসপাতালের হেল্প লাইনে কর্মরত ও সিডনির কন্যা লুসি ক্যালেন। প্রেমের টানেই সমাজ-সংসারের সব প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে প্রেমিকের সঙ্গে মিলন ঘটাতে সুদূর ব্রাজিল থেকে সিলেটের জকিগঞ্জে ছুটে আসেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্রে পরিচয় হয় জকিগঞ্জ উপজেলার বিলপার গ্রামের আনসার সদস্য সাহেদের সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। এরপর বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের দূরত্ব ঘুচিয়ে এই যুগল এখন পরিণয়ে আবদ্ধ। সিলেটের জকিগঞ্জের সাহেদের প্রেমের সফল পরিণতির এই গল্প জকিগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে। প্রণয় থেকে পরিণয়ের এই গল্প শুনতে যাই সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিলপার গ্রামে। এই গ্রামেই বসবাস করেন তৈয়ব আলীর পুত্র সাহেদ আহমদ।

পেশায় আনসার সদস্য সাহেদের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ব্রাজিলের বাখজিয়াং সিটির একটি হাসপাতালের হেল্প লাইনে কর্মরত ও সিডনির কন্যা লুসি ক্যালেন। এলাকার একটি ছেলের প্রেমে পড়ে ব্রাজিল থেকে তরুণী এসেছেন- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো উপজেলার শত শত মানুষ প্রতিদিন সাহেদের বাড়িতে লুসি ক্যালেনকে দেখতে ভিড় করেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গেও হাসিমুখে কথা বলেন লুসি ক্যালেন। কথা বলে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ১৮ মাস আগে জকিগঞ্জ উপজেলার বিলপার গ্রামের আনসার সদস্য সাহেদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। লুসি ক্যালেন দীর্ঘদিন সাহেদের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে অবশেষে গত ২০শে ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিলেট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে সাহেদ তাকে গ্রহণ করেন। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের দিনে সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে লুসি ক্যালেন সিলেট আদালতে উপস্থিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নাম রাখেন খাদিজা বেগম। এরপর সাহেদ ও খাদিজা ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে, প্রেমের সাগরে ডুবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ব্রাজিল তরুণী প্রেমিকা লুসি ক্যালেন জানান, বাবা-মায়ের ইচ্ছে মতোই বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছি। আমি আগে কোনো ধর্মাবলম্বী ছিলাম না। মুসলিম ধর্ম গ্রহণের প্রবল ইচ্ছা ছিল। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনেক ভালো লাগে জানিয়ে

তিনি গণমাধ্যমকে আরো বলেন, ‘সত্য ভালোবাসা সীমানা মানে না। ভালোবাসার জন্য মরণও আনন্দের। প্রেম মানুষকে মহান করে তোলে।’ বিবাহ সম্পন্ন করতে ১৫ দিনের জন্য কর্মস্থল থেকে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তার সঙ্গে বাবা ও মা বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে আসতে পারেন নি। লুসি বলেন, গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তাকে আকৃষ্ট করেছে। স্বামীর বাড়িতে বেশি সময় কাটাতে ছুটি নিয়ে আবারো বাংলাদেশে আসবেন।

প্রেমিক সাহেদ জানান, ব্রাজিলের নাগরিক লুসি ক্যালেন প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসার পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে মুসলিম নিয়ম মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছি। ফেসবুকে চ্যাট করেই লুসি ক্যালেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি ইংরেজি তেমন না বুঝলেও গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্য নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে আমিও ইংরেজিতে অনেকটা দক্ষ হয়ে যাই। লুসি ১৫ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছে। এই সপ্তাহের মধ্যে ব্রাজিলে চলে যাবে। সে সেখানে গিয়ে আমাকেও ব্রাজিল নেয়ার ব্যবস্থা করবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close