Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিতীয় দফা ভোট আজ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ভোটাভুটির কথা রয়েছে।

সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারি পার্লামেন্টে থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা অনুমোদন প্রশ্নে ভোটাভুটি হয়েছিল। তবে তা পাস হয়নি। ৪৩২ জন এমপি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আর থেরেসা মে’র প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছিলেন মাত্র ২০২ জন এমপি।

তবে এবার থেরেসা দাবি করেছেন, ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পূর্ববর্তী পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আর সংশোধিত সে পরিকল্পনার ওপরই ভোটাভুটি হবে আজ।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসতে (ব্রেক্সিট) আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা। দিনটিকে সামনে রেখে পার্লামেন্টে নিজের প্রস্তাব করা সংশোধিত ব্রেক্সিট পরিকল্পনা পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে গত নভেম্বরে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন থেরেসা।

সে ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ব্রিটিশ এমপিরা থেরেসা মে’কে ইইউ’র সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ দেন। সোমবার (১১ মার্চ) ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর থেরেসা দাবি করেন, পরিকল্পনায় ‘আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক’ পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে থেরেসার সে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে ।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে থেরেসা মে’র পরিকল্পনা নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক হবে। আর তার আগে মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন থেরেসা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে থেরেসার সংশোধিত ওই ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে ভোটাভুটি করবে হাউস অব কমন্স।

থেরেসার প্রথম খসড়া প্রস্তাবে থাকা আইরিশ ব্যাকস্টপ পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ রিপাবলিকের মধ্যে দৃশ্যমান সীমান্ত ও কাস্টমস চেক না রাখতে আইরিশ ব্যাকস্টপ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর মানে হলো ইইউ-এর একক বাজারের কিছু নীতিমালা মেনে চলবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্য ও ইইউ-এর মধ্যে টেকসই কোনও বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরভাবে যুক্তরাজ্য শুল্ক সংঘে থাকবে। কনজারভেটিভ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা ও ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি ব্যাকস্টপের বিরোধিতা করছে।

কারণ, তাদের আশঙ্কা এ নীতি স্থায়ী রূপ লাভ করতে পারে এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম জারি হতে পারে। সোমবার ইইউ’র নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর থেরেসা মে বলেন, ‘ব্যাকস্টপের ক্ষেত্রে আইনগত পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন এমপিরা।

তারা বলেন, আজ আমরা সে আইনগত পরিবর্তনগুলো আনতে সক্ষম হয়েছি। এবার এ সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তিকে সমর্থন দিতে একত্রিত হওয়ার সময় হয়েছে। আর লেবার পার্টির নেতাদের দাবি, থেরেসা চুক্তিতে নতুন কোনও পরিবর্তনই আনতে পারেননি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতেও থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যদি তার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে এ সপ্তাহে আরও দুইটি ভোটাভুটি হবে।

নো ডিল (চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট) পরিস্থিতি এড়াতে এমপিরা তাদের চূড়ান্ত রায় দেবেন তখন। আবার থেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা যদি পাস হয়, তবে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে নতুন একটি ভোটাভুটি হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, টোরি ব্রেক্সিটপন্থী ও ডিইউপি নেতারা পরিকল্পনায় আনা নতুন পরিবর্তন সম্পর্কে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন।

ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) জানিয়েছে, থেরেসার পরিকল্পনাকে সমর্থন দেওয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করছে তারা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close