Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

যে কারণে অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার: আলোচনায় অ্যাম্বাসি ক্যাট

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গোপন দলিলপত্র ফাঁস করে দিয়ে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটেনের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত সাত বছর ধরে ইকুয়েডরে রাজনৈতিক পুনর্বাসনে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ। বৃহস্পতিবার হঠাৎ তার মাথার ওপর থেকে হাত তুলে নেয় ইকুয়েডর। ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফাল করিয়ার চোখে হিরো হয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে থাকাকালে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সন্তানেরা তাকে একটি বিড়াল উপহার দিয়ে গিয়েছিল। বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস-এর প্রতিষ্ঠাতার নিঃসঙ্গতা ঘোচাতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল তার ছেলেমেয়েরা।

তবে অ্যাসাঞ্জকে‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ গ্রেফতারের পর সেই বিড়ালটিই এবার নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অ্যাসাঞ্জের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় প্রাধান্য পেতে শুরু করেছে তার বিড়ালটিও।

৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ইকুয়েডর সরকারের উচ্চপর্যায়ের দু’টি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে তাড়ানো হতে পারে।

সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার হওয়ার পর একা হয়ে পড়েছে তার পোষা বিড়ালটি।

ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে জেলের থেকেও সংকুচিত জায়গায় থাকতে হতো অ্যাসাঞ্জকে। সন্তানদের দিয়ে যাওয়া বিড়ালটির দেখভাল করেই সময় কাটতো অ্যাসাঞ্জের। ইন্টারনেট জগতে অ্যাসাঞ্জের বিড়ালটি পরিচিতি পেয়েছে অ্যাম্বাসি ক্যাট নামে।

অ্যাসাঞ্জের মতোই এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত বিড়ালটি। তাই অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তাকে নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ প্রশ্ন করছেন, কী হবে বিড়ালটির। কেউ আবার আগ বাড়িয়ে নিজের কাছেই রেখে দিতে চাচ্ছেন।

ডাইস নামে একজন সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, অ্যাসাঞ্জের বিড়ালটি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। সারা নামে আরেকজন লিখেছেন, বিড়ালটির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে তা আমরা কেউ জানি না। অ্যানি হ্যাক নামের একজন বিড়ালটির দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, অ্যাসাঞ্জের বিড়ালটিকে অনেক ভালোবাসি। দয়া করে বিড়ালটির কেউ দায়িত্ব নিন। তার জীবন নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমি একে পোষ্য হিসেবে নিতে চাই। বিড়ালটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে বেনামে ওয়েবসাইট চালানোর অভিযোগ তুলেছে মোরেনো সরকার। ২০১৭ সালে লেনিন মোরেনো ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে অ্যাসাঞ্জের।

অভিযোগ উঠে, মোরেনোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করা হয় ওই বেনামী ওয়েবসাইটে। সেখানে আইএনএ পেপার্স নামে একটি নথি প্রকাশিত হয়। যেখানে জানানো হয় যে, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে মোরেনোর ভাই ও পরিবার ইউরোপে বিলাসবহুল জীবনযাপন কাটিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, সেই নথিতে মোরেনো ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত ছবিও ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে অ্যাসাঞ্জের ওপর ক্ষেপে যান মোরেনো। তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও ছবি হ্যাক করার অধিকার কে দিয়েছে প্রশ্ন ছুড়েন অ্যাসাঞ্জকে।

মোরেনোর এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে উইকিলিকস। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। এতে অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নেয় ইকুয়েডর সরকার।

উল্লেখ্য, ১১ এপ্রিল অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের পর তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে। বৃহস্পতিবার অ্যাসাঞ্জ নিরাপত্তা হেফাজতে রাত কাটিয়েছেন। রয়েল কোর্টে তার সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে তার।

অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সাপেক্ষে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিকে ২০১০ সালে সরকারি গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের সন্দেহে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইকুয়েডর সরকার।

এদিকে আটক করার পর জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে। কম্পিউটার হ্যাক করার ষড়যন্ত্রের মামলায় সেখানে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক এবং কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

২০০৬ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওয়েবসাইট উইকিলিকস চালু করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়।

সুইডেনে তার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জামিনে থাকার সময় ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসটিতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close