Featuredইউরোপ জুড়ে

ফরাসি গণমাধ্যম ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের হাতে জিম্মি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা ফাঁস করার অভিযোগ এনে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে অনেক সাংবাদিককে। একইসঙ্গে ও একাধিক সাংবাদিক দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জেরার মুখে পড়েছেন।

Une manifestation pour la liberté de la presse à Paris après les attentats sur Charlie Hebdo du 11 Janvier 2015

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সময়ে ফ্রান্সের গণমাধ্যম চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জার্মান সংবাদসংস্থা ডয়চে ভেলে মঙ্গলবার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের একটি নতুন অনলাইন গণমাধ্যম ‘ডিসক্লোজ’ সংগৃহীত এক ভিডিও ফুটেজে ইয়েমেন যুদ্ধে ফরাসি ট্যাঙ্কবহর কীভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সেটি দেখা যায়।

ফুটেজটিতে আরও দেখা যায়, ডিসক্লোজের একজন সম্পাদক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথিস দেসতাল ব্যাখ্যা করে বলছেন কেন তিনি ও তার দল বিশ্বাস করে ফ্রান্সের সরকারি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেক্সটার’ সৌদি আরবকে অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক সরবরাহ করছে। যেগুলো মূলত ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফরাসি সরকার সে সম্পর্কে সম্পূর্ণই অবগত।

ডিসক্লোজের ওই ভিডিও প্রতিবেদনটি কেবল দর্শককে হতবাকই করেনি, পরবর্তীতে ফরাসি সরকারের তোপের মুখে পড়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসের অভিযোগ এনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক দেসতালকে অভিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি, দেসতাল ও ডিসক্লোজের আরও দুই সাংবাদিককে গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

দেসতাল জানান, আমাদেরকে দু’জন নারী গোয়েন্দা কর্মকর্তা একটি জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বেজমেন্ট থেকে আরও চারতলা নিচে নিয়ে যায়।

সেখানে আমাদেরকে ডিসক্লোজের সম্পাদকীয় নীতি, অর্থের উৎস এবং রাষ্ট্রের গোপনীয়তা বলতে ডিসক্লোজ কী বোঝে সেবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসবই আমাদেরকে ভয় দেখাতে করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেসতালকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৮৫,৪০০ ডলার জরিমানা করা হতে পারে। ডিজক্লোজই একমাত্র গণমাধ্যম নয় যাদেরকে সরকারের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে।

ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত ৩ মাসে ইয়েমেনে অস্ত্র সংক্রান্ত প্রতিবেদন করায় ‘লো মোন্দ’সহ একাধিক সংবাদসংস্থার ৮ সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এদিকে, প্যারিস-ভিত্তিক এনজিও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’র মুখপাত্র পলিন অ্যাদেস-মেভেল বলেন, ফ্রান্স সরকারের এধরনের আচরণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর চরম আঘাত।

গোপন গোয়েন্দা বাহিনীর এভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের জেরা করা একটি বিশাল সমস্যা। আর এত কম সময়ের মধ্যে এত সাংবাদিককে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনি সংকেত।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close