Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

পরমাণু চুক্তি ব্যর্থ হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে মধ্যপ্রাচ্য

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইরানের পরমাণু চুক্তি ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্য অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। ১৫ জুলাই সোমবার ব্রাসেলসে ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি বহাল রাখতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

জেরেমি হান্ট বলেন, ইরানের পরমাণু চুক্তিকে বাঁচানোর পথ খুব বেশি নেই। এ চুক্তি সঠিক পথে না হাঁটলে পুরো অঞ্চলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি ‘বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির’ মুখে পড়বে। তখন এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও এটি অর্জন করবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নে যে ধরনের অগ্রগতির প্রয়োজন হয় তা থেকে ইরান এখনও এক বছর দূরে আছে। এখন চুক্তি রক্ষায় আলোচনার জানালা খোলা রাখতে হবে।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রচেষ্টায় চুক্তি টিকিয়ে রাখার ওপরও জোর দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশগুলোর উচিত সমঝোতা বাঁচাতে ইরানকে উৎসাহিত করা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার দেখতে চায় না। তবে এ অঞ্চলকে কিভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করা যায় তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মতভিন্নতা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

জেরেমি হান্ট বলেন, যুক্তরাজ্য চুক্তি বাঁচাতে চায় এবং তার দেশ সংকট উত্তরণের একটি উপায় খুঁজছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সার্বিয়া সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট সোমবার রাতে বেলগ্রেডে স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্প, পুতিন ও রুহানির সঙ্গে তার আসন্ন সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা যে কোনও সময় যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা জানান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভ লু দ্রিয়ঁ।

এ সময় তিনি তেহরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং একে কেন্দ্র করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর সমালোচনা করেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দুই বাজে সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের উত্তেজনা যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ কারও কাছেই প্রত্যাশিত নয়। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তেজনার মাত্রা কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান।

পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বছরের নভেম্বর থেকে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন।

ইউরোপীয় দেশগুলো চুক্তি বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান। ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয় তেহরান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ৭ জুলাই সেই সময়সীমা শেষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয় ইরান। ২০১৫ সালের চুক্তিতে এই মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close