Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রীকেও তাড়াবে ব্রেক্সিট ভূত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রেক্সিটই সম্ভবত ব্রিটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়া দেশটির জন্য যতটা সহজ ছিল বের হওয়ার প্রক্রিয়াটা এখন ততটাই কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

এটাকে এখন অনেকেই ‘ব্রিটেনের গলার কাঁটা’ বলেও অভিহিত করছেন। কেউ আবার এটাকে বলছেন ‘দুষ্ট ভূত’ যা হোমরা-চোমরা সব ব্রিটিশ রাজনীতিবিদকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই ভূতের মুখে পড়ে এখন পর্যন্ত দু-দু’জন প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। একের পর এক সরে যেতে হয়েছে এক ডজনের বেশি মন্ত্রীকেও।

প্রথমে ব্রেক্সিট গণভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় নেন ডেভিড ক্যামেরন। সর্বশেষ তিন বছরের চেষ্টায়ও ব্রেক্সিটের অঙ্গীকার রক্ষা করতে না পেরে দলের নেতৃত্ব ছাড়েন তেরেসা মে। চলে যায় তার প্রধানমন্ত্রীর পদও। কিন্তু সংকট কাটেনি বরং ক্রমেই বেড়েছে।

আগামী বুধবারই (২২ জুলাই) তেরেসার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপরও আসর করবে ‘নাছোড়বান্দা’ ব্রেক্সিট ভূত।

১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের দখল নেয়ার পরই তার প্রথম ও একমাত্র কাজ হবে- প্রায় দু’বছরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তেরেসা যে বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তা সফলভাবে শেষ করা। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সফল বিচ্ছেদ ঘটানো।

ব্রেক্সিটের ঝক্কি ও বিপদ জেনেও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়াইয়ে নামেন কনজারভেটিভ পার্টির অন্তত ১১ জন এমপি। কয়েক সপ্তাহের লড়াই শেষে এখন বাকি আছেন মাত্র দু’জন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। কে আসছেন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনে- আগামী বুধবারই জানা যাবে।

যাইহোক, দু’জনই বেশ জোরের সঙ্গে বলছেন, তারা শুধু একটি আনকোরা নতুন ব্রেক্সিট চুক্তিই উপহার দেবেন না, সেই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেই চুক্তি পাসও করে ছাড়বেন। বলছেন, ইইউ থেকে দেশ যথাসময়েই বেরিয়ে আসবে।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের এ দাবিকে অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ব্রেক্সিট ডেডলাইন তথা শেষ সময় চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে ব্রেক্সিট সম্পাদনে হাতে মাত্র তিন মাস সময় পাবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে তিন বছরেও সক্ষম হননি তেরেসা সেখানে নতুন প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসে কীভাবে সফল হবেন।

সিএনএনের বিশ্লেষক লিউক ম্যাকগির মতে, তাদের এমন আশার কারণ দুটি। প্রথমত, তারা মনে করছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে চায় ইইউ। ইইউ দু’বার সময়সীমা বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইইউও মনে করে না যে, কোন প্রস্তাব পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করা সম্ভব।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close