Featuredসিলেট থেকে

ঈদের ছুটি কাটাতে সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের জন্য অপরুপ সিলেট

শীর্ষবিন্দু নিউজ: এই ঈদে যারা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সিলেটের বিছনাকান্দিতে একটা দিন কাটিয়ে আসতে পারেন অনায়াসে।

পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জলরাশিতে অবগাহন, বিস্তীর্ণ চা বাগান বা ঘন সবুজ বনে হারিয়ে যাওয়া কিংবা সুউচ্চ পাহাড় থেকে নেমে আসা ফেনিল জলধারায় স্নাত হওয়া-রূপ লাবণ্যের অপরূপ সিলেট সবই যেন সাজিয়ে রেখেছে নিপুণ হাতে।

নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে সিলেট। সেই ডাক উপেক্ষা করতে পারেন না সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরাও।

এবার ঈদ এসেছে বৃষ্টির মৌসুমে। আর এসময় সিলেটের সৌন্দর্য আরো চমকপ্রদ হয়ে ফুটে ওঠে। সবুজ প্রকৃতির আসল রূপ ধরা দেয় এই সময়। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্যের আধার সিলেটে ঘুরে বেড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়।

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানিগঞ্জ ও জৈন্তাপুরে রয়েছে বেশ কিছু মনোহরিণী স্থান। জল-পাথর-পাহাড়ের মিতালির বিছনকান্দি, প্রকৃতিকন্যা জাফলং, দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে খ্যাত দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, মায়াবী সৌন্দর্যের মায়াবন, বিস্তীর্ণ ঝর্ণাধারার পাংথুমাই এসব রয়েছে গোয়াইনঘাটে। জৈন্তাপুরে আছে ‘নীলনদ’ খ্যাত পান্না সবুজ জলের লালাখাল, ঐতিহাসিক মেগালিথিক পাথর ও ঐতিহ্যের স্মারক জৈন্তিয়া রাজবাড়ি।

সীমান্তবর্তী আরেক উপজেলা কানাইঘাটে রয়েছে প্রকৃতির আশ্চর্যময় সৌন্দর্যের লীলাভূমি লোভাছড়া। এখানে আছে সবুজের শ্যামলিমার আচ্ছাদন, চা বাগান, শতবর্ষী ঝুলন্ত ব্রিজ, পাথর অঞ্চল, হাতি নিয়ে চলা মাহুত, চা পাতার প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি। সিলেটের আরেক সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারি।

এসব সীমান্তবর্তী উপজেলা থেকে বাংলাদেশের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সৌন্দর্যও সহজেই অনুধাবন করা যায়। সীমান্তে পাহাড়ের বুকে স্বচ্ছ ফেনিল জলরাশির ঝর্ণা, পাহাড়ে এসে মুখ লুকানো সাদা মেঘ, আকাশের সাথে পাহাড়ের মেলবন্ধন আর চোখজুড়ানো সবুজ যে কাউকে মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে রাখে।

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার এই পর্যটনকেন্দ্রটি সাম্প্রতিককালে দেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় সারাবছর বিছনাকান্দি ভ্রমণ করা গেলেও বর্ষাকালে পর্যটকদের ভিড় বেশি হয়। এই বসন্তেও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসছে প্রচুর পর্যটক।

বিশাল সবুজ মেঘালয় পাহাড়কে দুই ভাগ করে সীমান্তের অপার থেকে নেমে এসেছে স্বচ্ছ জলের ঝরনা। বর্ষায় এই জল নিয়ে আসে মূল্যবান পাথর। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট যেন এক পাথরের বাগান। পাহাড়ি ঝরনার গতিপথে অসংখ্য ছোটবড় পাথর। তারের মতো স্বচ্ছ পানির নিচের পাথরগুলোও যেন আপনাকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত।

আর স্বচ্ছ জলে খুব ছোটছোট মাছের ছুটাছুটিও চোখে পড়ে। ঝরনাটি গিয়ে মিশেছে পিয়াইন নদের সাথে। উপরে তাকালেও অপার বিস্ময়! সুনীল আকাশের নিচে সবুজে ঢাকা বিশাল পাহাড় যেকারো হৃদয় নাড়া দিয়ে যায়। তারই ঢালুতে ভারতীয় খাসিয়া পল্লী ও বাসিন্দাদের চোখে পড়ে। এখানে পর্যটকদের ছবি তুলে দিতে কাজ করছে মেঘালয়-বিছনাকান্দি সমিতির প্রায় ১০০ জন তরুণ সদস্য।

পিয়াইনের দুই তীরে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাথর কোয়ারি-বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারি। সেখানে শত শত পাথর শ্রমিকের জীবনযুদ্ধও খুব কাছে থেকে দেখে আসতে পারেন। বর্ষায় নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্বচ্ছ পানিতে পিয়াইনের রূপ রীতিমতো অপরূপ হলেও বসন্তেও কিন্তু বিছনাকান্দি মুগ্ধ করছে হাজার হাজার পর্যটককে।

রাজধানী থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানযোগে আপনি সিলেট মহানগরীতে প্রবেশ করতে পারেন। সায়েদাবাদ-ফকিরাপুল থেকে দূরপাল্লার বাসে সিলেটের দক্ষিণ সুরমাস্থ কদমতলী যেতে আপনার খরচ পড়বে সাড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। সেখান থেকে বন্দরবাজার যেতে রিকশায় খরচ হবে ৩০ থেকে ৫০ টাকা আর সিএনজি অটোরিকশায় ৭০ থেকে ১০০ টাকা। বন্দরবাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আম্বরখানা যেতে খরচ পড়বে জনপ্রতি ১০ টাকা। আম্বরখানা থেকে বিছনাকান্দি পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে গেলে খরচ পড়বে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।

আর রিজার্ভ মিনিবাসে খরচ পড়বে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। তবে রিজার্ভ ছাড়াও যাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় গোয়াইনঘাটের হাদারপার পর্যন্ত যেতে খরচ পড়বে জনপ্রতি ১২০ টাকা। সেখান থেকে বিছনাকান্দি পর্যটনকেন্দ্রে যেতে আবারও রিজার্ভ সিএনজি অটোরিকশা নিতে হবে। খরচ পড়বে ৩০০ টাকার মতো। আর মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ১০০ টাকা।

সিলেট শহরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, দরগাহ গেইট এলাকায় প্রচুর আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে থাকার খরচ পড়বে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কয়েকটি অভিজাত হোটেলও আছে।

হাদারপার থেকে বিছনাকান্দি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সতর্কতা অবলম্বন না করলেও যখন তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছাড়া দিনের আলোতেই শহরে ফিরে আসা উত্তম। রাতে ডাকাত-ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার ঝুঁকি আছে। সাথে শহর থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারলে ভালো। পর্যটনকেন্দ্রে একটি রেস্টুরেন্ট থাকলেও তার মান তেমন একটা ভালো নয়।

এসবের বাইরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাস্থ বৃহৎ হাকালুকি হাওর, পর্যটনকেন্দ্র শ্রীপুর, সিলেট শহরতলিস্থ লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগান, ঘন সবুজ অরণ্যের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, সিলেট নগরীতে থাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার, ঐতিহ্যের ক্বিনব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি, ‘সেলফি ব্রিজ’ খ্যাত নান্দনিক কাজিরবাজার সেতু পর্যটকদের মন ভরিয়ে দিতে যথেষ্ট।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close