Featuredদুনিয়া জুড়ে

যুক্তরাজ্যের সমর্থন চায় হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক: টানা ১৫ সপ্তাহে গড়িয়েছে হংকং-এর চীনবিরোধী বিক্ষোভ। ইতোমধ্যেই এ গণবিক্ষোভ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। বিক্ষোভকারীরাও চাইছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিদের মতো দেশগুলোর কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দিতে।

এর অংশ হিসেবে রবিবার চীনের হংকং নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সমর্থন চেয়েছে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা। এদিন তারা হংকং-এর ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সামনে সমবেত হয়ে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন বহাল রাখতে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যের পতাকা এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের হংকং-এর পতাকা নিয়ে কনস্যুলেটের সামনে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটিশ সরকারের প্রতি তাদের দাবি, ১৯৮৪ সালের সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার প্রতি বেইজিং যেন সম্মান প্রদর্শন করে।

ওই ঘোষণায় চীন ‘এক দেশ, দুই নীতি’ শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর আওতায় ৫০ বছর হংকং-এর নাগরিকদের পুঁজিবাদ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিতে সম্মত হয় বেইজিং; যে স্বাধীনতা চীনের মুল ভূখন্ডে নিষিদ্ধ। এর ভিত্তিতেই ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই গ্রেট ব্রিটেন সরকার হংকং ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চীনের কাছে হস্তান্তর করে।

এখন বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই চুক্তির একটি পক্ষ হিসেবে যেন এটি মানতে বেইজিং-এর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাজ্য। এক দেশ, দুই নীতি’ শাসনব্যবস্থার আওতায় হংকং-এর বাসিন্দারা যেন তাদের রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা করতে পারে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৪ সালের সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিতে বেইজিং-এর আইনগত দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দৃশ্যত ওই ঐতিহাসিক দলিলকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করছে।

চীনের কবল থেকে হংকং-এর সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেরও সহায়তা চেয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অঞ্চলটির স্বাধীনতা অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত গেয়ে এবং দেশটির পতাকা উড়িয়ে এমন আহ্বান জানায় হংকং-এর বিক্ষুব্ধ অন্দোলনকারীরা।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন।

গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম।

তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close