Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

দুই কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ: সম্মেলনের প্রস্তুতি সিলেট আওয়ামী লীগে

ওয়েছ খছরু:  হঠাৎ করেই সিলেট আওয়ামী লীগে সম্মেলনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিলেট সফর করে যাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেন নেতারা। একটি সূত্র বলেছে, আজই নির্ধারিত হতে পারে সম্মেলনের দিনক্ষণ। এ কারণে আহ্বান করা হয়েছে সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার। আর এতে যোগ দিতে আসছেন দলটির বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমদ। আজকের সভার পর কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে- সেটি নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই সিলেটের নেতাদের। তবে যে সিদ্ধান্তই আসুক তারা প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে বাকি থাকা জেলাগুলোর সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রের তাগিদ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে এসেছেন। তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মূল্যায়নে সিলেট আওয়ামী লীগের অবস্থান ততোটা সুসংহত নয়। সিটি নির্বাচনের পর সিলেটের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভেদ, দ্বন্দ্ব ‘ট্রেডমার্ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সিলেট সফরকালে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকও সেটি জানিয়ে গেছেন। এরপরও ভ্রুক্ষেপ নেই সিলেটের নেতাদের। ঐক্য ও একতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সিলেট আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরের দুটি কমিটিই ৫ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ। ৮ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০১১ সালের ২১শে নভেম্বর দুটি ইউনিটের অর্ধাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রায় এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় কমিটি গঠন নিয়েই বিভেদ, কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছিলো। শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ২০১৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে দুটি কমিটিই। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান। তার মৃত্যুর পর অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত করেই চলছে কার্যক্রম। বাস্তবিক অর্থে সিলেট জেলা ও মহানগরের দুটি কমিটি চলছে দুই নেতানির্ভর।

এর মধ্যে মহানগরের কর্তৃত্ব রয়েছে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও জেলার কর্তৃত্ব রয়েছে শফিকুর রহমান চৌধুরীর হাতে। বিগত দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সিলেট আওয়ামী লীগে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকলেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে জয় ঘরে তুলতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই বিভেদ প্রকাশ্য হয়নি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে সিলেট আওয়ামী লীগে। মন্ত্রী পরিবারের চাহিদা বিবেচনায় আসতে পারে আমূল পরিবর্তন- এমন গুঞ্জনও রয়েছে সিলেটে। সিলেট জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের পর থেকে এবার এমন আভাস পাওয়া গেছে। সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ মূল দল। এখানে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হবে। কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ফলে এ ক্ষেত্রে সতর্ক রয়েছেন দলের নেতারা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বয়সের ভারে ন্যূব্জ। এ কারণে এই পদে আসতে পারে পরিবর্তন। দলের সাংগঠনিক গতি সচল রাখতে শেষ মূহূর্তে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীই নিতে পারেন সভাপতির দায়িত্ব। আর তার চেয়েও সিনিয়র কাউকে সভাপতি করা হলেও সেক্ষেত্রে শফিকুর রহমান চৌধুরী তার জায়গাতেই থাকতে পারেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীমের হাত থেকে সাধারণ সম্পাদক পদটি শফিকুর রহমান চৌধুরীর হাতে আসার পর তিনি ‘বিতর্কহীন’ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ফলে শফিকুর রহমান চৌধুরীর অবস্থান সুসংহত রয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে গেলে সাবেক ছাত্রনেতাদের হাতেই চলে যেতে পারে সাধারণ সম্পাদকের কর্তৃত্ব। এ ক্ষেত্রে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান কিংবা উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী আসতে পারেন মূল লড়াইয়ে। অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন সহ কয়েকজন নেতাও লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও সাবেক ছাত্রনেতাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তাকে নিয়ে এবার আরো বেশি স্বপ্ন দেখছেন নেতাকর্মীরা। অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ পরপর তিনবার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে এবার মিসবাহ সিরাজ এ পদ থেকে সরে যেতে পারেন। আর তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। বিগত উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন নির্বাচনে কামরান শুধু সিলেট জেলাই নয়, সিলেট বিভাগে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ কারণে তার মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের কাছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার কারণে এখন ঢাকায় বেশি দৌড়ঝাঁপ করতে হয় কামরানকে। এ কারণে এবার মহানগর সভাপতির পদটি পরিবর্তন হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন হতে পারেন মহানগরের শীর্ষ নেতা। তার সঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বাঁধতে পারেন জুটি। গত কমিটিতেও নাদেল সাধারণ সম্পাদক পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আজকের বর্ধিত সভার পর যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি আমরা পালন করবো। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পালনে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তারা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close