Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

লন্ডনে ন্যাটো সম্মেলনে সবার চোখ এরদোয়ানের দিকে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ২৮টি সদস্য দেশের শীর্ষ ব্যক্তিকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শুরু হতে যাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জৌলুস হারানো এই জোটকে আবার সক্রিয় করে তোলার ব্যাপারে সেখানে আলোচনা হবে। এ সংক্রান্ত এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই বলছে, আলোচনায় যেমন মতৈক্য হবে, তেমনি মতানৈক্যও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে থাকবে তুরস্ক।

১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট  ন্যাটো। এটি একটি আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতার জোট। আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এই জোটের সদস্য। সিরিয়া অভিযান ও রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অনেকেই তুরস্কের ওপর ক্ষুব্ধ।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, সম্মেলনে এরদোয়ন সিরিয়াকেই সবথেকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপনের চেষ্টা করবেন। সেখানে কেমন করে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়ছে তার ওপর আলোকপাত করবেন তিনি। নিজের প্রস্তাবিত ‘সেফ জোন’ তৈরিতে  রাজনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা চাইবেন। তবে জোটের অন্যান্য সদস্য তুরস্কের এই নীতির ব্যাপারে খুব একটা ইতিবাচক নয়।

আলোচিত হতে পারে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সংকট

গত মাসে বাল্টিক দেশগুলোতে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তুরস্ক। তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সিরিয়ায় তুর্কি অভিযানের পাশাপাশি এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে আঙ্কারার ওপর চাপা ক্ষোভ রয়েছে ফ্রান্সের। জোটের এক সূত্র জানায়, তুরস্ক চায় সিরিয়ার কুর্দি পিপল প্রটেকশন (ওয়াইপিজি)-কে যেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঘোষণা করে ন্যাটো।

তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াইপিজিকে তুরস্কের জন্য হুমকি বিবেচনা করে না। তবে আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এর শাখা বিবেচনা করে। এই গোষ্ঠীকে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তুর্কি এক নিরাপত্তা সূত্র মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কৌশলগত কারণেই পরিকল্পনাটি আটকে দেওয়া হয়েছে। এই অচলাবস্থায় তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গ নিয়মিত ফোনে কথা বলছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টির গুরুত্বও বেড়েছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক জার্মান মার্শাল ফান্ড এর তুর্কি পরিচালক ওজগার আনলুহিসারসিকলি মনে করছেন, এই সম্মেলনে বিষয়টির সমাধান হতে পারে। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতোই তুরস্ক ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। আমি নিশ্চিত তুরস্ক ও অন্যান্য সহযোগী দেশ এই সংকট কাটানোর চেষ্টা করবে।

কে মৃত: ন্যাটো নাকি ম্যাক্রোঁ?

নভেম্বরের শুরুর দিকে ন্যাটোকে মৃত আখ্যা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা যা দেখছি তাতে আসলে ন্যাটোকে কার্যতমৃত বলেই মনে হচ্ছে। জবাবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, কারও যদি মৃত্যু হয়ে থাকে তাহলে সেটা ম্যাক্রোঁর হয়েছে, ন্যাটোর নয়। সমালোচনার জবাবে এরদোয়ান পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ফ্রান্সের সেনারা (ন্যাটোর উপস্থিতি) তুরস্কে কী করছে?

তুরস্কের এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ন্যাটো আঙ্কারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ , তারা এই জোটের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর আগে মিডল ইস্ট  আইকে দেওয়ার সাক্ষাতকারে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। তাদের প্রশ্ন, এটি একটি নিরাপত্তার ছাতা যেখানে আমরা আমাদের অর্থ ও রক্ত বিনিয়োগ করেছি। কেন আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাবো।

পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগর বিরোধ

তুরস্ক ও জাতিসংঘ সমর্থিত লিবীয় সরকার গত সপ্তাহে গ্রিস ও সাইপ্রাসের নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে। জবাবে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকি বলেছেন, তিনি ওই অঞ্চলে তুরস্কের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ন্যাটোর কাছে সমর্থন চাইবেন।

তবে তুর্কি কর্মকর্তারা মনে করেন, লিবিয়ার সঙ্গে তাদের চুক্তি সাফল্য এনেছে। কারণ এটা গ্রিস, সাইপ্রাস ও মিসরীয়দের বিভক্ত করেছে যা তাদের জন্য লাভজনক। গত সপ্তাহে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, তারা এখনও গ্রিস ও মিসরের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

সিরিয়া

তুরস্ক ও ন্যাটোর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা সিরিয়ায় ‍তুর্কি অভিযান নিয়ে কথা বলবেন। গত সপ্তাহে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন এককভাবে সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত করা চলবে না। জবাবে এরদোয়ান বলেন, ফ্রান্স তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি বলেন, আপনার সিরিয়ায় কী কাজ?

সিরিয়ায় অভিযানের পর ফ্রান্স, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো তুরস্কে অস্ত্র রফতানির সীমিত করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তুরস্ক অবশ্য এই দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়। সিরিয়ায় অভিযান ও সেফ জোনের ব্যাপারে রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন দেশটির। মঙ্গলবার ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে বৈঠক করবেন এরদোয়ান।

জার্মান মার্শাল ফান্ড এর তুর্কি পরিচালক উনলুজিসাসিকলি বলেন, ‘তুরস্ক কর্তৃক রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারটিও আলোচনায় আসতে পারে। সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার সমালোচনা করবেন ম্যাক্রোঁ।

আর বাকি সবাই সমালোচনা করবে এস-৪০০ কেনার প্রশ্নে। এরদোয়ান হয়তো সবারই সমালোচনা করবেন যে তারা কেউ তুরস্ককে সহায়তা করছে না।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close