Featuredফিচার

ইউইতে বলকানের অন্তর্ভুক্তি ব্রেক্সিটের ক্ষতি কি পূরণ করতে পারবে?

এ বছরের শেষ দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিদায় নিয়ে খোদ ব্রিটেনে যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ইউরোপের অন্যত্র। ইউরোপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলো মনে করে, ব্রিটেনের বিদায় ইউরোপের ঐক্যকে দুর্বল করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো ইউরোপীয় ভূখণ্ডের প্রধান দেশগুলো ব্রিটেনকে ইউরোপের মূল দেশ বলে মনে করে না। তাদের কাছে ইংলিশ চ্যানেল যেন এক অনতিক্রম্য বাধা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবিকাশের ইতিহাসটি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, তারা এক লাফে অতি উচ্চতায় পৌঁছে যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের স্বার্থে ১৯৫৮ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬২ সালে কয়লা ও লৌহ উত্পাদনকারী এই দেশগুলো ছোটো আকারের ‘কমন মার্কেট’ ধারণায় একত্রিত হয়। প্রথম থেকেই গ্রেট ব্রিটেন এ ধরনের শক্ত কাঠামোযুক্ত গঠনের বিরোধিতা করে। তারা সহজ শর্তের আরেকটি সংগঠন দাঁড় করায়। তারা এটার নাম দেয়, ইউরোপিয়ার ফ্রি ট্রেড এরিয়া—ইএফটিএ।

পরবর্তী রোম ঘোষণার মাধ্যমে অন্য রাষ্ট্রগুলো অধিকতর সহযোগিতার হস্ত সম্প্রসারিত করে। ক্রমশ দেশগুলো একই ধরনের নীতি ও কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করে। এমনকি তারা অধিভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের পার্লামেন্ট এবং আদালত গঠন করে। সম্মিলিত কার্যব্যবস্থার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্য সব জাতিগুলোর আগ্রহ ও আস্থা অর্জন করে। সংস্থার সদস্যপদ ছয় থেকে ২৭-এ দাঁড়ায়। ১৯৭৩ সালে গ্রেট ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক; ১৯৮১ সালে গ্রিস; ১৯৮৬ সালে স্পেন ও পর্তুগাল; ১৯৯৫ সালে সুইডেন, অস্ট্রিয়া ও ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করে। ক্রমশ পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি পরিত্যাগ করে পুঁজিবাদী অর্থনীতি গ্রহণ করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আগ্রহ দেখায়। ২০০৪ সালে সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মালটা, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০০৭ সালে রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া শামিল হয়। এভাবে প্রায় সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা প্রভাব বলয়কে সম্প্রসারিত করে। ভূখণ্ডগত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নীতি ও নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস বা শিথিলতা দেখা যায়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুসৃত নীতি মোতাবেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে নিজ নিজ অর্থনীতি, সমাজনীতি, শাসনব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতি ঢেলে সাজাতে হয়। তবে স্ব স্ব দেশের ভিন্নমত ও ভিন্নপথের ক্ষেত্রে এসব আনুষ্ঠানিকতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এটা ছিল অনেকটা বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঐক্য। তবে এই অধিকতর ঐক্য ও সংহতি ব্রিটেনের মতো সমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণ-অসন্তোষ সৃষ্টি করে। ব্রিটেন অভিবাসী ভারে ভারাক্রান্ত হয়। প্রকারান্তরে ব্রিটেনের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর বিরূপ হয়ে ওঠে। এর চূড়ান্ত ফলরূপে পৃথিবী ব্রেক্সিটের দীর্ঘ নাটকীয়তা লক্ষ করে। ব্রেক্সিট প্রস্তাবনার পরপরই ইউরোপের অপরাপর রাষ্ট্রেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধী মনোভাব লক্ষ করা যায়।

আগেই লক্ষ করা গেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমৃদ্ধি দেখে সব রাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কাতারবন্দি হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি, অখণ্ড যুগোস্লাভিয়ার ভাঙন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রার পর ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বের রাষ্ট্রগুলো, যা একত্রে ‘বলকান’ নামে পরিচিত, তারাও পরবর্তীকালে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর একই ইচ্ছা পোষণ করে। এ রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, বিশৃঙ্খলা, গৃহযুদ্ধ, গণহত্যা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করে না। তাই এদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

ইইউ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এসব দেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন তথা মানবাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিবিধ পদক্ষেপ নেয়। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের ফলে বলকান দেশগুলোর ত্বরিত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচিত হচ্ছে, এরকম নয়। তবে গণমাধ্যমে বলকান দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পেয়েছে এটি সত্য। যেসব শর্ত ও নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে বলকান রাষ্ট্রগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে, তা বেশ কঠিন। পূর্ব দিক থেকে রুশ ফেডারেশনের সম্প্রসারণবাদী কার্যক্রমের কারণে পাশ্চাত্যমুখী ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলকান রাষ্ট্রগুলোকে নিশ্চয় মস্কোর তাঁবেদার হতে দিতে চাইবে না। সে কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পূর্বমুখী সম্প্রসারণ সব সময় অব্যাহত থেকেছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০১৩ সালের ১ জুলাই বলকানের প্রথম রাষ্ট্র ক্রোয়েশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করে। বলকান উপদ্বীপের সাতটি দেশের মধ্যে ক্রোয়েশিয়া প্রথম সদস্যপদ লাভ করল। তাই এখন বাকি থাকল আর ছয়টি রাষ্ট্র—মন্টিনিগ্রো, সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও কসোভো। এর মধ্যে ভালো অবস্থা কসোভোর। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির জন্য যে আইনগত কাঠামো দেওয়া আছে তা অতিক্রম করা দেশগুলোর পক্ষে সহজ নয়। ১৯৯৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্থিতিশীলতা ও সংস্থাভুক্তকরণের প্রক্রিয়া—এসএপি বাতলে দেয়। ২০০৮ সালে এই প্রক্রিয়া আরো ঘনীভূত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলকান দেশগুলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার যোগ্যতার সার্টিফিকেট দেয়। ইউরোপের সমকক্ষতার এই সার্টিফিকেট ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুমোদন করে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিটি বলকান রাষ্ট্রের জন্য পৃথক পৃথক মূল্যায়ন পেশ করে।

১. আলবেনিয়া: আলবেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল। ২০১২ সালে কমিশন অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং সদস্যপদের উপযুক্ততা অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আলবেনিয়ায় বহমান সংস্কারের সফলতার কথা বলে। সংস্কারের শর্তটি ২০১৩ সালের অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বহুলাংশেই পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই মন্তব্যের আলোকে ২০১৪ সালের জুন মাসের মধ্যে আলবেনিয়ার সদস্যপদ অর্জনের কথা এই কমিশন আলবেনিয়ার সঙ্গে ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আলোচনা চালিয়ে যায়। ২০১৯ সালে অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়। ফ্রান্স নতুন করে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। এভাবে আলবেনিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ার সদস্যপদ ফ্রান্সের আপত্তিতে আটকে যায়।

২. বসনিয়া-হার্জেগোভিনা: আলবেনিয়ার মতোই ২০০৮ সালের জুন মাসে প্রাক উপযুক্ততা-বিষয়ক নিয়মকানুন পূরণ করে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্দেশিত কিছু মানবাধিকার বিধিমালা বাস্তবায়নে এর ব্যর্থতা হেতু বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি। ২০১৫ সালের ১ জুন বসনিয়া-হার্জেগোভিনা পূর্বনির্দেশিত কমতি ঘাটতি পূরণ করে দরখাস্ত করে। দেশটি বারবার দরখাস্ত করেও এ পর্যন্ত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবারই নানা প্রতিবন্ধকতা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে মুসলিম দেশ তুরস্ক হাজারো চেষ্টা করেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জন করতে পারেনি। কোনো কোনো ইউরোপীয় শীর্ষ নেতা কোনো মুসলিম দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ না দেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন।

৩. উত্তর মেসিডোনিয়া: সাবেক যুগোস্লাভিয়ার মেসিডোনিয়া এখন উত্তর মেসিডোনিয়া নামে পরিচিত। ২০০০ সালের মার্চ মাসে মেসিডোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু মেসিডোনিয়া নাম ব্যবহারে গ্রিসের আপত্তির কাছে তার প্রার্থী-পদ স্থগিত হয়ে যায়। পরে উত্তর মেসিডোনিয়া নামে আলোচনা অগ্রসর হলেও অগ্রগতি হয়নি। সেখানে নতুন করে ফ্রান্স নতুন দাবি উত্থাপন করে।

৪. কসোভো: বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মতো কসোভোও একটি যথার্থ রাষ্ট্র। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি এককভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দেয়। সাইপ্রাস, গ্রিস, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন স্বাধীনতার প্রতি স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। সার্বিয়া-বসনিয়া-হার্জেগোভিনা কসোভোকে স্বীকৃতি দানে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ইউরোপীয় কমিশন ঘোষণা করে যে, কসোভো এর সদস্যপদ পাওয়ার সর্বশেষ শর্তটি পূরণ করেছে। কিন্তু বলকান দ্বীপের অন্যান্য দেশ কসোভোর স্বাধীনতার ব্যাপারে কিছু আইনগত বিষয় উত্থাপন করে।

৫. মন্টেনিগ্রো: মন্টেনিগ্রো ২০০৬ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য দরখাস্ত পেশ করে। ২০১০ সালে মন্টেনিগ্রোকে সদস্যপদ দেওয়া হয়। ২০১২ সালে এর সদস্যপদের যথার্থতা তুলে ধরার জন্য বলা হয়। মন্টেনিগ্রোর সংবিধানের কতিপয় বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়গুলো মীমাংসিত হলে ২০২৫ সালের মধ্যে মন্টেনিগ্রো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে।

৬. সার্বিয়া: সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্য হওয়ার জন্য দরখাস্ত করে ২০০৯ সালে এবং ২০১২ সালে প্রার্থিতার স্ট্যাটাস লাভ করে। সার্বিয়ার স্বাধীনতার দলিলপত্রে অসংগতি দেখা যায়। বলকান দেশগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে অবাস্তব ও অসংলগ্ন দাবি উত্থাপিত হয়। সার্বিয়ার এ ধরনের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট যথার্থ আন্তরিকভাবে বলকান রাষ্ট্রগুলোর বিবদমান বিষয়গুলোর সমাধান করা একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, যখন দাবিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের স্বল্পমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে যদি কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে বা যদি ক্ষতি হওয়ার কারণ হয়, তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান কাঠামোর মধ্যে সমাধান করতে হবে। বলকান অঞ্চল একটি বিরাট সমৃদ্ধিশালী অঞ্চল, সন্দেহ নেই। কিন্তু সংকটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সেখানে কোনো শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দেখা দেয়নি। সুতরাং ব্রেক্সিটের বদলে বলকান ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমৃদ্ধ করবে—এ আশা দুরাশামাত্র।

লেখক: . আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক, সরকার রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close