Featuredরাশিয়া মহাদেশ

পুতিনের জনপ্রিয়তায় ধস

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার খবর দিয়েছে এএফপি।

ওই ফরাসি বার্তা সংস্থার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাস মোকাবিলায় শৈথিল্য এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যাপক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুতিনের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন যখন সাংবিধানিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে করোনার আঘাত তার জন্য হতাশা সৃষ্টি করেছে।

শনিবার নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মস্কোর রেড স্কোয়ারে জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক মহড়া আয়োজনের কথা ছিল। চীনা নেতা শি জিনপিং ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। কথা ছিল ১৫ হাজার সেনা সমাবেশসহ দেশটির সর্বাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনী হবে।

তবে আয়োজনটি সীমিত করেছে ক্রেমলিন। এখন সামরিক জেটগুলো নিস্তরঙ্গ মস্কোর আকাশে উড়বে আর লাল, সাদা ও নীল ধোঁয়া নিক্ষেপ করবে। পুতিন পরিত্যক্ত রেড স্কোয়ারের কাছে একটি সমাধিসৌধে ফুল এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

এএফপি বলছে, পুতিন যখন এবার ভাষণ দেবেন, তখন তিনি ক্ষুব্ধ একটি জাতির সামনে দাঁড়াবেন, যারা নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে গৃহীত সরকারের পদক্ষেপে বিরক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক কুচকাওয়াজ করোন মহামারির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে তা নয়।  বরং এটা রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং পুতিনের জনপ্রিয়তা সূচকে ধস নামিয়ে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে নিজ সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন পুতিন। গণহারে পরীক্ষা এবং হতাহতের সংখ্যা সীমিত রাখার মাধ্যমে রাশিয়া অন্য দেশের সামনে মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে দাবি তার। তবে বেশির ভাগ রাশিয়ান এতে সহমত পোষণ করছে বলে মনে হচ্ছে না। মহামারী মোকাবেলায় অন্য বিশ্ব নেতাদের বিপরীতে পুতিনের জনপ্রিয়তা সূচক কমেছে।

স্বাধীন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান লেভাডা বলছে, গত এপ্রিলে পুতিনের অনুমোদন সূচক ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। গত মার্চে এই হার ছিল ৬৩ শতাংশ। এএফপি বলছে, পুতিনের জন্য এ বসন্ত যেখানে বিজয় উদযাপনের মৌসুম হওয়ার কথা ছিল, তা রাজনৈতিক হতাশায় পরিণত হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের পক্ষে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাতিয়ানা স্টানোভায়া নামে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ২০ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো কোনো সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন পুতিন। এটি তার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।

শুরুতে পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় কমসংখ্যক আক্রান্তের খবর এলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ায় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার হু হু করে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণের আরেকটি রেকর্ডের কথা নিশ্চিত করেছেন। মোট সংক্রমণের দিক থেকে রাশিয়া এখন বিশ্বের পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে।

কোভিড-১৯-এ মারাত্মক আক্রান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়ায় তুলনামূলক মৃত্যুহার কম। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, মৃত্যুর গণনায় তারতম্যে এমনটা হচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় আগে থেকেই জর্জরিত রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে করোনা মহামারি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে ক্রেমলিনের প্রতি জনগণের অসন্তোষ আরও গভীর হতে পারে।

গত মাসে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য ভোট দেয়ার কথা ছিল রুশদের। জনগণ পক্ষে রায় দিলে পুতিনের ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পথ প্রশস্ত হতো। তবে নভেল করোনাভাইরাসে এ পরিকল্পনাও ভেস্তে গিয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close