Featuredইসলাম থেকে

সদকাতুল ফিতর

সদকাতুল ফিতর’—এখানে দুটি আরবী শব্দ রয়েছে।

এক. ‘সদকা’, দুই. ‘ফিতর’।

সদকা মানে দান, আর ফিতর মানে রোযারসমাপন বা ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাযের আগে আদায় করা সদকাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়। এ ছাড়া এটিকে যাকাতুল ফিতর বা ফিতরাও বলা হয়ে থাকে।

শরীয়ত মতে, সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে: হযরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন—সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বুখারি শরীফ, হাদীস : ১৫১২)

সদকাতুল ফিতর কেন?
এটি যাকাতের মতো একটি আর্থিক ইবাদত। পবিত্র মাহে রমযানে সিয়াম পালনকালে মানুষের যে ভুলত্রুটি হয়ে যায়, সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদতের নাম। সদকাতুল ফিতরকেমহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র উপহার হিসেবেও চিহ্নিত করা যেতে পারে।

আমাদের সমাজে সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য হিসেবে শুধু ‘গরিব-দুঃখীদের ঈদের খুশিতে শরীক করা’ দেখা হয়ে থাকে। মূলত এই ধারণা যথার্থ নয়। কেননা হাদীস শরীফে সদকাতুল ফিতরকে ‘কাফফারাতুন লিসসাওম’—রোযা অবস্থায় অবচেতনভাবে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সদকাতুল ফিতর কার উপর ওয়াজিব?
ঈদের দিন সকাল বেলায় যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের ব্যবসায়িক পণ্যের) মালিক থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের ছোট–বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তাঁর প্রতি ওয়াজিব। ইসলামী বিধান অনুযায়ী সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব (ফরজের কাছাকাছি)। মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এক সা পরিমাণ যব, খেজুর, পনির কিংবা কিসমিস কিংবা এর সমপরিমাণ টাকা আদায় করতে হবে। সদকায়ে ফিতর আদায় করা না হলে বড় গুনাহগার হবেন।

বছর ফিতরার পরিমাণ কত?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক এ বছর (২০২০) জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ইংল্যান্ড £৫ থেকে £১৫

সাদকাতুল ফিতর মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, আজাদ-গোলাম সকলের উপর ওয়াজিব।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে আজাদ, গোলাম, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের উপর একসা’ খেজুর, বা এক সা’ যব সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন।

পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব নয়, কিন্তু কেউ যদি আদায় করে, তাহলে নফল সদকা হিসেবে আদায় হবে। ওসমান রাদিআল্লাহু আনহু পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতেন। ফিতরা নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে আদায় করবে। যেমন স্ত্রী ও সন্তান। যদি তাদের নিজস্ব সম্পদ থাকে তবে তাদের সম্পদ থেকে ইসদকাতুল ফিতর আদায় করবে।

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন :

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ﴾ [التغابن: ١٦]

‘তোমরা সাধ্য অনুপাতে আল্লাহকে ভয় কর।'[তাগাবুন : ১৬]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

«إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ»

‘আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে আদেশ করি, তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন কর।’ [বুখারী ও মুসলিম]

লেখক: মাওলানা নুরুর রহমান, বহুগ্রন্থ প্রণেতা, ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে, সত্যয়ানকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে, প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে,  পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close