Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রিটিশ মুদ্রায় অ-ব্রিটিশ টিপু সুলতানের বংশধর নুর ইনায়েত খান

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন কাঁপিয়ে তুলে বিশ্ব। যার ছোয়া এসে লাগে ব্রিটেনও। অনেক কৃতদাস ব্যবসায়ীর মুর্তি সরাতে হয়েছে বৃটিশদের।

অনেক জল ঘোলা হলেও এবার উপনিবেশের অস্বস্তিকর ইতিহাস সরিয়ে রেখে নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করতে উদগ্রীব ব্রিটেন। এক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন ব্রিটিশ চ্যন্সেলর ঋষি সুনাক।

ঋষি সুনাক জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন ‘অ-ব্রিটিশ’-এর সম্মানে বিশেষ মুদ্রা তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্য জেহরা জাইদি। খবর দ্যা টেলিগ্রাফের।

সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছেন অর্থমন্ত্রী। এসব অ-ব্রিটিশের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত টিপু সুলতানের বংশধর নুর ইনায়েত খানের নামও। নুর ছাড়াও ‘স্মারক মুদ্রার’ তালিকায় রয়েছেন ক্রিমীয় যুদ্ধের নিহত কৃষ্ণাঙ্গ নার্স মেরি সিকোল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করা গোর্খা রেজিমেন্টের কুলবীর থাপা প্রমুখ।

জার্মানির দাখাউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ১৯৪৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই তরুণীকে। নাৎসি ক্যাম্পে মারা যাওয়ার সময় তিনি শুধু বলেছিলেন– লিবের্ৎ। ফরাসিতে যার অর্থ– স্বাধীনতা! আগের রাতে ভয়াবহ অত্যাচার করা হয়েছিল নুরের ওপর। কিন্তু মুখ খোলেননি তিনি। বলেননি তার আসল নামটুকুও।

জার্মানরা জানত, তার নাম নোরা বেকার। সন্দেহ করেছিল। তিনি একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর। সন্দেহ ঠিকই ছিল। তরুণীর আসল নাম নুর ইনায়েত খান। টিপু সুলতানের বংশধর। নাৎসি বাহিনীর হাতে হত্যার সময়ে বয়স ছিল ৩০।

মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ব্রিটেনের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘জর্জ ক্রস’ দেয়া হয়েছিল ইনায়েতকে। মরনোত্তর ‘ক্রোয়া দ্য গ্যের’ (ফ্রান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্মানও (‘যুদ্ধের ক্রস’) দেয়া হয়েছিল তাকে। তাছাড়া লন্ডনের গর্ডন স্কোয়ারে তার একটি মূর্তি রয়েছে। তার ছবি ব্রিটেনের স্ট্যাম্পে রয়েছে, ইনায়েতের সম্মানে তার লন্ডনের বাড়ির সামনে ‘ব্লু প্লাক’ বসানো হবে। এতদিন বিস্মৃতির অতলেই রয়ে গেছেন তিনি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close