Featuredইসলাম থেকে

ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান: ঈমানের রোকনসমূহের একটি হলো ফেরেশতার প্রতি ঈমান। ফেরেশতার প্রতি ঈমানের অর্থ হলো- এ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে আল্লাহ তাআলার ফেরেশতা রয়েছে, যারা নূর দ্বারা সৃষ্ট, যারা আল্লাহর কোনো নির্দেশই অমান্য করেন না এবং আল্লাহ তাআলা তাদের যে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তারা তা যথার্থরূপে পালনরত। [দেখুন আল আস-ইলা ওয়াল আজওয়েবা আল উসূলিয়া: পৃ: ২১]

ফেরেশতারা অদৃশ্য জগৎ। আল্লাহ তাদেরকে নূর দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালনে রত আছেন। “তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” [সূরা তাহরীম, আয়াত:০৬]

ফেরেশতা হলো আল্লাহ তাআলার এক প্রকার মাখলুক। তাঁদের অস্তিত্ব এবং কোরান-সুন্নাহয় তাদের যেসব গুণাবলি ও কর্মের কথা উল্লিখিত আছে তার প্রতি কোনো কমবেশ ও বিকৃতিসাধনের আশ্রয়ে না গিয়ে, ঈমান না-আনলে কারও ঈমানই শুদ্ধ হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন , آَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ‘রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না।

আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল’- (সূরা আর বাকারা , ২৮৫)। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জিবরিলে এসেছে। ‘ঈমান কি?’ জিবরীল আলাইহিস সালামের এ প্রশ্নের জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং ভাগ্যের ভালোমন্দের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করবে।’ [বুখারি ও মুসলিম] ফেরেশতাদের অস্তিত্ব অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এ কারণেই ফেরেশতাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা আল কোরান ও মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী কুফরি। ইরশাদ হয়েছে , وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিনকে অস্বীকার করবে, সে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত হবে’ -(সূরা আন-নিসা, ১৩৬)

 ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে

১. এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব রয়েছে, তারা আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ও পরিচালনাধীন। “তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোন কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তারা কাজ করে যায়।” [সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ২৬-২৭] এবং “তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।”[সূরা তাহরীম, আয়াত: ০৬] এবং “তারা অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর তাসবীহ পাঠ করে, তারা শিথিলতা দেখায় না।” [সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১৯:২০]

২. যে সব ফেরেশতার নাম জানা গেছে তাদের নামের প্রতি ঈমান আনা। যেমন জিব্রাইল (আঃ), মিকাইল (আঃ), ইস্রাফিল (আঃ), মালিক (আঃ), রেদোয়ান (আঃ) প্রমুখ।

৩. যেসব ফেরেশতার কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা জানতে পেরেছি সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা। যেমন আমরা হাদিসের মাধ্যমে জানতে পেরেছি- জিব্রাইল (আঃ) এর দিগন্ত জুড়ানো ছয়শত ডানা রয়েছে।

৪. ফেরেশতাদের যেসব দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা। যেমন- অহী বহনের দায়িত্বে আছেন জিব্রাইল (আঃ), যে অহী হচ্ছে- আত্মার জীবন। শিংগায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে আছেন ইস্রাফিল (আঃ)। বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্বে আছেন- মিকাইল (আঃ)। জাহান্নামের দায়িত্বে আছেন- মালিক (আঃ)।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টির প্রতি আমাদেরকে ঈমান আনতে হবে তা হচ্ছে- প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে দুইজন করে ফেরেশতা থাকে। এ ফেরেশতাদ্বয় ব্যক্তির আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। “স্মরণ করুন!দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।” [সূরা কাফ, আয়াত ১৭-১৮] অর্থাৎ এ শ্রেণীর ফেরেশতা সর্বদা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকে।

অতএব, সাবধান হে মুসলিম! এ ফেরেশতাদ্বয় যেন এমন কিছু লিপিবদ্ধ করতে না পারে যা কিয়ামতের দিন আপনার জন্য অকল্যাণকর হবে। আপনি যা কিছু বলেন বা উচ্চারণ করেন সবই লিপিবদ্ধ হচ্ছে। কেয়ামতের দিন এই লিপিকা বের করে বান্দার সামনে পেশ করা হবে। “এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য আমি বের করব একটি কিতাব, যা সে পাবে উন্মুক্ত। পাঠ কর তোমার কিতাব, আজ তুমি নিজেই তোমার হিসাব-নিকাশকারী হিসেবে যথেষ্ট।”[সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১৩-১৪]

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের সমস্ত গুনাহ গোপন রাখেন এবং এড়িয়ে যান। নিশ্চয় তিনি প্রার্থনায় সাড়াদানকারী। সর্ব শক্তিমান আল্লাহ সবকিছু ভাল জানেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close