Featuredইসলাম থেকে

আল্লাহ্‌র সাহায্য

মুমিন বান্দা কখনও কোনও বিপদেই হতাশ হয় না। কোনও পেরেশানিই তাকে বিচলিত করতে পারে না। কারণ বিপদ-আপদ মহান আল্লাহর পক্ষতে মুমিন বান্দার জন্য এক মহাপরীক্ষা। আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য লাভে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিকল্প নেই। যুগে যুগে নবি-রাসুল, ওলি-আওলিয়া, আলেম-ওলামাগণ বহু পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। যে যতো বেশি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আল্লাহর দরবারে তিনি ততবেশি মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।

বিপদ যতো ছোট বা বড় হোক। দু’টি কাজের মাধ্যমে মুমিন বান্দার এ সমাধান খুঁজবে। দুই উপায়ে সাহায্য চাইলে আল্লাহ বান্দার সব বিপদ সহজ করে দেবেন। এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। ভালোমন্দ সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপকারের জন্যই সংঘটিত হয়। তাই সর্বাবস্থায়, সব ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা উচিত। বিপদ-আপদ ও সংকট মোকাবেলায় আল্লাহর সাহায্যের কাছে দুনিয়ার কোনও সাহায্যই সমকক্ষ হতে পারে না। রাতের বেলা সাধারণ বাতাসে যদি কারও আলো নিভে যায় কিংবা বিদ্যুৎ চলে যায়, তাতেও আল্লাহকে স্মরণ করা, আর বলা, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কোনও হাতাশা বা পেরেশানিতে পরলেও বলা, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

অনেকেই বিপদে পড়লে আল্লাহ্‌র সাথে শরিক করে ফেলেন। তারা বিভিন্ন মাজার, দরগা, পীর, ফকীর ইত্যাদির ওয়াসিলায় আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চায়। অথচ রাসুল (সঃ) আমাদেরকে ভিন্ন পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। আজকে এমন একটি মূল্যবান হাদিস শেয়ার করলাম যাতে আপনারা শিখতে পারেন কিভাবে বিপদে পড়লে আল্লাহ্‌র কাছে দুআ করতে হয়। তিন ব্যক্তির একটি হাদিস শুনুন তারা বিপদে কিভাবে তাদের ভালো কাজের ওয়াসিলায় আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া করেছিলেন এবং বিপদ থেকে উদ্ধার হয়ে বেঁচে ফিরেছিলেন।
.
সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ”তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন লোক হেঁটে চলছিল। তাদের উপর বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় পাহাড় থেকে একটি পাথর তাদের গুহার মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলে। তাদের একজন অপরজনকে বললঃ তোমরা তোমাদের কৃত আমলের প্রতি লক্ষ্য করো, যে নেক আমল তোমরা আল্লাহর জন্য করেছ; তার ওসিলায় আল্লাহর নিকট দু’আ করো। হয়তো তিনি এটি সরিয়ে দিবেন।
.
তখন তাদের একজন বলল ইয়া আল্লাহ! আমার বায়োবৃদ্ধ মাতাপিতা ছিল এবং ছেটি ছোট শিশু ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মাঠে পশু চরাতাম। যখন সন্ধায় ফিরতাম, তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগেই পিতামাতাকে পান করতে দিতাম। একদিন সেগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। ফলে আমার ফিরতে রাত হয়। ফিরে দেখলাম তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি যেমন দুধ দোহন করতাম, তেমনি দোহন করলাম। তারপর দুধ নিয়ে এলাম এবং উভয়ের মাথার কাছে দাড়িয়ে রইলাম। ঘূম থেকে তাদের উভয়কে জাগানো ভাল মনে করলাম না। আর তাদের আগে শিশুদের পান করানোও অপছন্দ করলাম। আর শিশুরা আমার দু’পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। তাদের ও আমার মাঝে এ অবস্থা চলতে থাকে। অবশেষে ভোর হয়ে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই একাজ করেছি। তাই আপনি আমাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পায়।
.
দ্বিতীয় ব্যাক্তি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আমার একটি চাচাতো বোন ছিল। আমি তাকে এতখানি ভালবাসতাম, যতখানি একজন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসতে পারে। আমি তাতে একান্তভাবে পেতে চাইলাম। সে অসম্মতি জানাল, যতক্ষণ আমি তার কাছে একশ দ্বীনার উপস্থিত না করি। আমি চেষ্টা করলাম এবং একশ স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করলাম। এগুলো নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যে বসলাম, তখন সে বলল, হে আবদুল্লাহ! আল্লাহকে ভয় করো; আমার কুমারিত্ত নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে গেলাম। ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন যে, কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই আমি তা করেছি। তাই আমাদের জন্য এটি ফাঁক করে দিন। তখন তাদের জন্য আল্লাহ আরও কিছু ফাঁক করে দিলেন।
.
শেষের লোকটি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আমি একজন মজদুরকে এক “ফারক” চাউলের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ শেষ করে এসে বলল, আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি তার প্রাপ্য তার সামনে উপস্থিত করলাম কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করলো। তারপর তার প্রাপ্য আমি ক্রমাগত কৃষিকাজে খাটাতে লাগলাম। তার দ্বারা অনেকগুলো গরু ও গাধা জমা করলাম। এরপর সে একদিন আমার কাছে এসে বললঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমার উপর যুলম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও। আমি বললামঃ গরু ও রাখালের কাছে চলে যাও। সে বললঃ আল্লাহকে ভয় করো, আমরে সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম তোমার সঙ্গে আমি উপহাস করছি না। তুমি ঐ গরুগুলো ও তার গাধা নিয়ে যাও। তারপর সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, তা আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্যই করেছি, তাই আপনি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দিন। তারপর আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন।” ( বুখারী (ইফাঃ ৫/ আচার ব্যবহার। হাদিসঃ ৫৫৪৯)
.
দেখলেন তো কিভাবে বিপদে পড়লে আল্লাহ্‌র সাহায্য চাইতে হয়? আমাদের এমন কোন কাজ আছে কি যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইতে পারি?  আপনি কি নিজের পিতামাতাকে প্রথম ব্যক্তিটির মত প্রাধান্য দিতে পারবেন? আপনি কি পারবেন দ্বিতীয় ব্যক্তিটির মত কোন মেয়ের দুই পায়ের মাঝে বসে (একদম বিশেষ মুহূর্তে) শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র ভয়ে ফিরে আসতে? বরং সমাজে দেখা যায় একটা মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য যুবকেরা বিভিন্ন ফন্দি করে থাকে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন ভাইবোনেরা। আপনি কি পারবেন তৃতীয় ব্যক্তির মত এমন মহৎ কাজ করতে যেখানে কাজের লোকের পারিশ্রমিক তো দিয়েছেই বরং তার থেকে যেই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে সেটাও ফিরত দিয়েছে !! ভাবুন…

লেখক: ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান, ইসলাম বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close