Featuredযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

বেকারভাতার দাবি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ওয়াশিংটন ডিসি: মার্কিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চললেও দেশটির শ্রমবাজার কোভিড মন্দার ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় বেকারত্ব বাড়ছেই। গত সপ্তাহে সর্বশেষ পৌণে ৯ লাখেরও বেশি মার্কিন নাগরিক বেকারভাতার জন্যে আবেদন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকারখানাগুলোতে কোভিডের জন্যে যে লেঅফ চলছে তা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। টানা ৬ মাস এধরনের প্রতিবন্ধকতায় মার্কিন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে দেশটির বেকারত্ব। আরটি

মার্কিন শ্রমবিভাগের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে বেকারভাতার জন্যে এত বিপুল পরিমান আবেদন এর আগে কখনো পড়েনি। কোভিডে এপর্যন্ত ২২ মিলিয়ন মানুষ কাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সাময়িকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছিল এমন কর্মীদের পুনরায় কাজে যোগদানের সুযোগ দিচ্ছে কোনো কোনো কোম্পানি কিন্তু সে সংখ্যা যথেষ্ট নয়।

কারণ, গত জুন থেকে এধরনের পুনরায় কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে যারা সাময়িক ছাঁটাই হয়েছিলেন তাদের স্থায়ী ছাঁটাইয়ের ভয় পেয়ে বসেছে। কারণ নতুন কোম্পানিতে কাজ খুঁজে পাওয়া তাদের জন্যে খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই তাদের পুরোনো কর্মীরা ফিরে আসার জন্যে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে।

মার্কিন সরকার বলছে গত আগস্টে ১.৪ মিলিয়ন মানুষ নতুন করে কাজ পেয়েছে। এর আগের মাস জুলাইতে কাজ পেয়েছিল ১.৭ মিলিয়ন। এও দাবি করা হচ্ছে, বেকারত্বের হার ১০.২ থেকে ৮.৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি কোভিড সহায়তা প্যাকেজ ৯ (সপ্তাহে ৬’শ ডলার) দেয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস একমত না হওয়ায় বেকার মার্কিন নাগরিকরা আরো বিপাকে পড়েছে। এছাড়া বেকারভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহে ৩’শ ডলারের বেকারভাতা পেয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, আরিজোনা, ফ্লোরিডা ও টেক্সাস সহ মাত্র ১২টি রাজ্য। নিউইয়ক, মিশিগান ও ইলিনয়েসে এ সুবিধা বেকাররা এখনো পায়নি। একই সঙ্গে লেঅফের শিকার মার্কিন নাগরিকদের অর্ধেকই গত সপ্তাহে সরকারি সুবিধা চেয়েছে। মার্কিন শ্রমবিভাগ থেকে বলা হচ্ছে ২৯.৬ মিলিয়ন বেকারকে ফেডারেল গভর্নমেন্ট বা সরকারের পক্ষ থেকে বেকার ভাতা দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে কোনো কোনো রাজ্যে এধরনের হিসেব দুইবার গণনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা বিশেষ করে ছোট কোম্পানিগুলো এখনো তাদের ছাঁটাইকৃত কর্মীদের পুনরায় নিয়োগের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহার রয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে এধরনের কোম্পানিগুলো গতবছরের চেয়ে ৯শতাংশ কম কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়েছে।

তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুনরায় নিয়োগ শুরু করেছে ভালভাবেই। অ্যামাজন আগামী কয়েকমাসে ৩৩ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ইউপিএস খণ্ডকালীন হিসেবে ১ লাখ কর্মী নিয়োগ করার কথা বলেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখনো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে।

ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল গত বুধবার জানায় স্থায়ীভাবেই তারা তাদের ৬৭৩টি করপোরেট পদে কর্মরতদের ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃতদের এর আগে গত মার্চে অস্থায়ীভাবে ছাঁটাই করার কথা বলা হলেও এখন ম্যারিয়ট বলছে এটা স্থায়ীভাবেই করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ১৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিক অব্যাহতভাবে বেকারভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু যে হারে লেঅফ বাড়ছে তাতে বেকারভাতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এরফলে মার্কিন নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে কেনাকাটা, ভ্রমণ, বাইরে খেতে যাওয়াসহ অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। কোভিডে আক্রান্ত হবার হার কমলেও ভ্যাকসিন সহজলভ্য না হয়ে ওঠা পর্যন্ত সার্বিক অর্থনীতিতে গতি সৃষ্টি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না বলে অর্থনীতিবিদরা বলছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close