Featuredফিচার

সমাজে কি বাস করতে পারবে না নারীরা!

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার লেখার উক্তিতে বলেছিলেন, বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

মহান সৃষ্টিকর্তা, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর পরিপূর্ণতার জন্য হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। সমাজ যেমন পুরুষ ছাড়া অচল, তেমনি নারী ছাড়া অচল। নারী-পুরুষ মিলেই সমাজ। মা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ আসে নি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ব্যতীত। তার মানে নারী সমাজের অনবদ্য এবং আবশ্যক। নারী ছাড়া সমাজ অচল, অকেঁজো। সমাজে চলতে সমাজের বিধি নিষেধ মানতে হয়। স্রষ্টা বিধি নিষেধ দিয়েই মানুষকে প্রতিনিধি করে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন। বিধি নিষেধ তো হায়ওয়ান বা পশুর মানতে হয় না। তাদের বিবেক নেই, নেই বুদ্ধি। এরপরও তারা তাদের মতো সুশৃঙ্খল। কিন্তু মানবরূপী বর্বর কিছু উদ্ভট নেকঁড়েদের খামচে আজ সমাজ ক্ষত বিক্ষত, কলুষিত। সমাজকে অশৃঙ্খল করছে, অশান্ত করছে, করছে দূর্বিষহ।

তর্কের খাতিরে বলবো, ধর্মের অনুশাসন না মানলেও সমাজের অনুশাসন মানতে হয়। না হয় সমাজকে সমাজ হিসেবে বিবেচিত করা যায় না। তবে কিছু মানবরূপী পশু ও হায়েনার কারণে সমাজ পচেঁ যায় না। তবে সমাজ হয়ে উঠে কঠিন, অনিরাপদ, বসবাসের জন্য কষ্টকর। কিছু উচ্ছিষ্টদের কারণে সমাজ এমন হোক তা কোন সভ্য সমাজের লোক মেনে নিতে পারে না। যেমন আমরা মেনে নিতে পারছি না, পারছে না সিলেটের জনগন, পারছে না গোটা দেশ। তাইতো উত্তাল আজ সিলেট নগরী। অনলাইন পাড়াসহ উত্তাল গোটা বাংলাদেশ।

ধর্ষণ! সমাজের নিকৃষ্ট কাজ সমূহের সবচেয়ে ধিকৃত এবং জঘণ্য অপরাধ। বিবেক-বুদ্ধি থাকা অবস্থায় কোন মানুষ তা করতে পারে না। স্বামী তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে যে নিকৃষ্ট আর বর্বরতার শিকার হয়েছেন, যারা ভুক্তভোগী তারা ছাড়া আর কেউ এর সঠিক অনুধাবন করার মতো নয়। আর করতেও পারবে না। তাদের এই দূর্বিসহ বেদনাময় স্মৃতি নিয়ে জীবন পরিচালনা সত্যিই কতই না কষ্ঠকর আর নির্মম হবে?

সিলেট শহর যাকে আধ্যাত্নিক রাজধানী হিসেবে বাংলাদেশের জনগন চিনে। সিলেট শহরের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এম সি কলেজ সারা বাংলাদেশে প্রসিদ্ধ একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান। এই এমসি কলেজে একের পর বিভিন্ন দূর্ঘটনা সিলেটসহ বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশীকে ভাবিয়ে তুলছে। রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সমাজে যাচ্ছেতাই করে বেড়াবে তা কোন সমাজই গ্রহণ করবে না। আজ অন্য পরিবারের একজন বোন ধর্ষিত হলে কাল যে আমার আপনার পরিবারের কেউ ধর্ষিত হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? আমরা কি চোখ কান বন্ধ করেই সমাজে বসবাস করবো? ঘর থেকে বের হবো না? আমাদের সাথে মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে নিয়ে বের হতে পারবো না? এসব প্রশ্নের জবাব কি সমাজের কাছে আছে? যদি থাকে তাহলে তো এরকম ঘটনা ঘটার নয়।

সর্বশেষে বলবো, এই ছয় ধর্ষকসহ যারা এই অন্যায় বর্বরতা ও নির্মমতায় জড়িত আজ বিচার নয়, ওদের জনসমক্ষে প্রস্থারাঘাতে ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখতে চাই। দেখুক ওদের মা-বাবা আর আত্নীয়স্বজন। আর না হয় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এর চেয়ে জঘণ্য কিছু দেখার। আসুন নারীদের বসবাসযোগ্য সমাজ নির্মাণ করে দয়া চেষ্টা করি।

লেখক: মাহফুজ আল মাদানী, পরিচালক, খিদমাতুল উম্মাহ্ ফাউন্ডেশন।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close