Featuredস্বদেশ জুড়ে

বিবস্ত্র করে গৃহবধূকে নির্যাতন: প্রতিবাদ, মানববন্ধন জেলায় জেলায়

নিউজ ডেস্ক: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত কর্তৃক বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সারা দেশে। নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে।

নোয়াখালী: জেলার বেগমগঞ্জে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে সংঘবদ্ধভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ‘নোয়াখালী নারী অধিকার জোট’ ও ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নোয়াখালী ইউনিট’ (এফপিএবি)।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শহর মাইজদীর মুজিব চত্বরে নোয়াখালী ‘নারী অধিকার জোট’ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ ও মাবনবন্ধন হয়। একই প্রতিবাদে ‘এফপিএবি’ নোয়াখালী শাখা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা মানুষরূপী হায়েনাদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া আরডিএন (রয়েল ডিস্ট্রিক্ট নোয়াখালী), সুবর্ণচর ছাত্র ও যুব সমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একই দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

চট্টগ্রাম: নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাাতনসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ কারণে একের পর এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে চলেছে। অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ধর্ষক ও নিপীড়কদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই অপরাধ প্রবণতা থামবে না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তারা এই দাবি জানান। ‘সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ’র ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিতারা শামীম, সাংবাদিক আহমেদ মুনীর, সৌমেন ধর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রচার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী প্রণব চৌধুরী, নারী শ্রমিক নেত্রী বাপ্পী দেব বর্মণ, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক মহররম হোসাইন, লতিফা আনসারী রুনা, হিউম্যানিটি ফার্স্ট মুভমেন্টের মিলন রায় প্রমুখ।

ফেনী: বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাাতনসহ সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ফেনীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিভিন্ন সংঘটন। সোমবার বিকালে শহরের ট্রাংক রোড় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সমাবেশসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ছাত্র-যুব ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বক্তারা বলেন, দ্রুত এসব ধর্ষণের ঘটনার বিচার করা না গেলে বাংলাদেশ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তাদের মানববন্ধন ও সমাবেশে বলেন, অন্যায় যখন নিয়ম হয়ে যায় প্রতিবাদ তখন কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। দেশে এভাবে একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, নয়ন পাশা, আহবায়ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ফেনী শহর শাখার আহবায়ক নয়ন পাশা, সাধারণ সম্পবদক পংকজনাথ সূর্য।

ইসলামী আন্দোলনের ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামু্র হক বলেন, সারা দেশে ধর্ষকরা বেপোরোয়া হয়ে গেছে। অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনায় সরকার দলের লোকজন জড়িত। তিনি আরও বলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন নারী তবুও দেশে নারীর প্রতি এমন বর্বর নৃশংসতা মেনে নেওয়া যায় না।

কুমিল্লা: বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে কুমিল্লার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণসহ ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি ধর্ষণের বিচার দাবি করেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিপাড় টাউনহল গেটে ছোট ছোট ফেস্টুন ও প্লে-কার্ড নিয়ে দেশে মহামারিতে রূপ নেওয়া ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, স্বাধীন দেশের এই মানচিত্রে আমাদের মা-বোন আজ নিরাপদ নেই। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন নরপশুদের হাতে। গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় না উঠলে ওই ধর্ষকরা আড়ালেই থেকে যান ক্ষমতার দাপটে। নির্যাতিত অনেক মা-বোনও প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েও পান না। যেমনটি ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গৃহবধূর ক্ষেত্রেও। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ দেশের প্রত্যেকটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার চাই।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের কুমিল্লা শাখা। এ সময় বক্তব্য রাখেন, পরিষদের সহ-সভাপতি এম এ হামজা, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আকাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম, সাইফ হোসেন, সোলতান আহম্মেদ, কুমিল্লা মহিলা কলেজের ছাত্রী সামিয়া হক, মারুফা মজুমদার এবং ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র নাহিদুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন যুবকবৃন্দ’র ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী যুবকসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া বলেন, আমি সরকারকে বলতে চাই আপনাদের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা সারা বাংলাদেশে ধর্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। আপনাদের মানসম্মান ও ভালো কাজগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। আমরা সুনিদিষ্টভাবে প্রস্তাব রাখতে চাই আগামী এক বছরের জন্য বাংলাদেশে যত ধর্ষণ হবে আসামিদের ক্রসফায়ার অথবা ফাঁসির রায় দিতে হবে।

মাওলানা মো. মাসুম বলেন, নির্যাতনের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হোক। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

বগুড়া: বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের সাতমাথায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ফোরামের জেলা আহ্বায়ক দিলরুবা নূরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সদস্য রাধা রানী বর্মন, তাহমিনা আক্তার অ্যানি, নিয়তি সরকার নিতু, মুক্তা আক্তার মীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, বেগমগঞ্জের বর্বর, মধ্যযুগীয় নির্যাতন-বিবস্ত্রতা, উলঙ্গ করেছে রাষ্ট্রকে। রাষ্ট্রের বিচারহীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একদল মানুষরূপী পশু ক্ষমতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে একের পর এক এই সমস্ত নির্যাতনের ঘটনা ঘটাতে পারে? ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ভাইরাল করতে পারে? এরপর নির্যাতিত নারীই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন এবং ৩২ দিন এই অপরাধীদের অপরাধ প্রকাশ পেল না।

বক্তারা আরও বলেন, ভিডিওটিতে অপরাধী এবং অপরাধ দুটো বিষয়ই চিহ্নিত, প্রমাণিত। কাজেই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকলে আইন পরিবর্তন করে হলেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close