Featuredইসলাম থেকে

আল-কোরআনে নারীদের পর্দার নির্দেশ

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘আল-কোরআনে নারীদের পর্দার নির্দেশ’। ইসলাম ধর্ম মতে একজন মুসলিম নারী কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কিভাবে বাহিরে বের হবেন। এসব জরুরী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান। ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ।

আল-কোরআনে পর্দার নির্দেশ
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: “(হে নারীগণ!) তোমরা তোমাদের ঘরের (বাড়ীর চতুর্সীমানার) ভিতর অবস্থান কর এবং বাইরে বের হইও না– যেমন ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগের মেয়েরা বের হত।” (সূরাহ আহযাব, আয়াত: ৪৩)

আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন: “(হে নবী!) আপনি আপনার পত্মীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, যখন কোন প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়, তখন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (যেন পর্দার ফরজ লংঘন না করে। এমনকি চেহারাও যেন খোলা না রাখে। তারা যেন বড় চাদরের ঘোমটা দ্বারা নিজেদের চেহারাকে আবৃত করে রাখে।) ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরাহ আহযাব, আয়াত : ৬০)

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন : “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন। আর ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান – তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশে দিয়ে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্তবাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক– যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।” (সূরাহ নূর, আয়াত : ৩০ – ৩১)

হাদীস শরীফে পর্দার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন – “যে সতর দেখবে এবং যে দেখাবে, তাদের উপর আল্লাহ লা‘নত করেন।” (বাইহাকী)

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন– “স্ত্রী জাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।” (তিরমিযী)

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন– “খবরদার! কোন পুরুষ যেন কোন মেয়ে লোকের সাথে একাকী না থাকে। কেননা, যখনই কোন পুরুষ কোন মেয়ে লোকের সাথে একাকী হয়, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়ে যায় এবং তাদের পিছনে লাগে।” (তিরমিযী)

নবীজী (সা.) আরো ইরশাদ করেন– “মেয়েরা যখন বালিগা হয়ে যায়, তখন তাদের শরীরের কোন অংশ দেখা বা দেখানো জায়িয নয়। অনেক কাপড় পরিধানকারিণী (পাতলা কাপড়ের কারণে) কিয়ামতের দিন উলংগ সাব্যস্ত হবে।” (মুসলিম)

আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিম নর নারীদের পর্দা করার তৌফিক দিন। আমিন!

লেখক: ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যয়ানকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close