রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি

শীর্ষবিন্দু ডেস্ক / ০ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ কাল : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৫২ অপরাহ্ন

আজ শুক্রবারপবিত্র জুমাবারআজকের বিষয় ‘ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি‘। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান। ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি ) এর নাম(محمد) মুহাম্মদ। কুনিয়্যাত হলো আবু আবদুল্লাহ। যে উপাধিতে তিনি পাসিদ্ধ অর্জন করেন। (أمام المحدثين و أمير المؤمنين في الحديث ) ইমামুল মুহাদ্দিসীন ও আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস । তিনি হাদিসের জগতে প্রসিদ্ধ একটি নাম। তৃতীয় শতকের হাদিসের খেদমতের যে ইতিহাস বিনির্মাণ হয় তার পথ প্রদর্শক ছিলেন ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি ।আলোচ্য প্রবন্ধে ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি এর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ আলোচনা করা হয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে তার গ্রন্থের উপর স্বতন্ত্র আলোকপাত করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি এর নাম

মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ আল জু’ফী আল বুখারীতার নাম মুহাম্মদ। উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ। আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস তার উপাধি। বুখারা তার জন্মস্থান বলে তাকে বুখারী বলা হয়।

نسبة الولاء في الإسلام، فقد كان العرف أنّ الشخص الذي يُسلم على يديه يُنسب إلى قبيلته، وأمّا نسبته إلى بخارى فهي المدينة التي وُلد فيها، وتقع في الجزء الغربي من أوزبكستان

একজন বিখ্যাত হাদীসবেত্তা ছিলেন। তিনি “বুখারী শরীফ” নামে একটি হাদীসের সংকলন রচনা করেন, যা মুসলমানদের নিকট হাদীসের সবোর্ত্তম গ্রন্থ বিবেচিত হয়।

صنف وحدث وما في وجهه شعرة ، وكان رأسا في الذكاء ، رأسا في العلم ، ورأسا في الورع والعبادة . وكان شيخا نحيفا ليس بطويل ولا قصير ، مائلا إلى السمرة . كان يقول : لما طعنت في ثماني عشرة سنة جعلت أصنف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم في أيام عبيد الله بن موسى ، وحينئذ صنفت التاريخ عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة . وكان يقول : أحفظ مائة ألف حديث صحيح ، وأحفظ مائتي ألف حديث غير صحيح .

*জম্ম গ্রহণ

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি ১৩ই শাওয়াল,১৯৪ হিজরী,জুমুআ দিন (৮১০ খ্রিস্টাব্দের ২১জুলাই) বখারা নামক স্থানে জম্ম গ্রহন করেন।মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহীম ইবনে মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ ইবনে বাযযা।

নসব বিশ্লেষণ

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি ছিলেন অনারবী বংশোদ্ভূত একজন বিখ্যাত হাদীসবেত্তা। হাফিয ইবন হাজার আসকালানী রাহমাতুললাহ আলাইহি বলেন যে, মুগীরা ইমাম বুখারীর রাহমাতুললাহ আলাইহি প্রপিতামহ ছিলেন যিনি বুখারার হাকিমের হাতে মুসলমান হলেন। মুগীরা বুখারার স্থায়ী অধিবাসী হন। ঐ সময় ইসলামের এই আইন ছিল যে, যার নিকটে যে মুসলমান হতো সে তার বংশ হিসেবে পরিচিত হতো। এজন্যই ইমাম বুখারীর রাহমাতুললাহ আলাইহি বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে যোয়াফী(الجعفي) বলা হয়।

হাফিয ইবন হাজার আসকালানী রাহমাতুললাহ আলাইহি বলেন, মুগীরা ইমাম যু’ফীর হাতে মুসলমান হন। তাই তাঁকে যু’ফীর বংশ ধরে নেয়া হয়। বুখারীর রাহমাতুললাহ আলাইহি বংশে কোন ক্রীতদাস ছিল না। ইমাম বুখারীর রাহমাতুললাহ আলাইহি বংশ পরিচিতিতে কোন প্রকার মতভেদ নেই। বারদিযবাহকে (بردزبة) কেহ আহনাফ বলেছেন, যার অর্থ হচ্ছে বেশি জ্ঞানী। যেমন কোন ব্যক্তি দানশীল হলে তাকে হাতেম তাই বলা হয়। বারদিয বেশি জ্ঞানবান ছিলেন বলে তাঁকে আহনাফ বলা হয়।

* বুখারা পশ্চিম উজবেকিস্তানের বোখারা প্রদেশের রাজধানী শহর। এটি জেরফ্‌শন নদীর তীরে এক মরূদ্যানে, তুর্কমেনিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বোখারার আশেপাশের অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস, তুলা, ফল এবং রেশম উৎপাদিত হয়। এখানে বস্ত্র, কার্পেট, এবং পশমের কারখানা আছে। বোখারাতে অনেক স্থাপত্য নিদর্শন আছে, যেগুলির কিছু কিছু ৯ম শতকের। এদের মধ্যে আছে অনেকগুলি মসজিদ, আর্ক নামের একটি দুর্গ, এবং ইসমাইল সামানির (৯ম-১০ম শতক) সমাধি। এখানে একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ অবস্থিত। বুখারার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলটিকে ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

বুখারা বর্তমান উজবেকিস্তানে অবস্থিতবুখারা নগরীতে, যা আজ তুর্কিস্তানের উজবেকিস্তানের একটি শহর। তিনি এক ফারসি পরিবারের উত্তরসুরী যারা তাঁর তিন প্রজন্ম আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল-বুখারী শিশু থাকা অবস্থাতেই বাবাকে হারান, যার ফলে তাঁর মায়ের উপর তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব বর্তায়। কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও, অল্প বয়স থেকেই আল-বুখারী ইসলাম বিজ্ঞান শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি এর শিক্ষাজীবন

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি শিশুকাল থেকে শিক্ষা অর্জন শুরু করেন। তিনি সর্ব প্রথম শিক্ষা নেন মায়ের নিকট থেকে। তার মাতা আলেমা,আবদাহ ও মুহাদ্দিসা ছিলেন।

ইবন হাজার আসকালানী রাহমাতুললাহ আলাইহি বলেন যে, মায়ের কোল থেকেই ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি শিক্ষালাভ করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর মা’র দুধ পান করা থেকে শুরু করে দুধ পান শেষ করা পর্যন্ত মা’র নিকট শিক্ষালাভ করেন। তাঁর মা ছিলেন হাদীসের একজন পন্ডিত।

* ইবনে হাজার আসকালানী ফতহুল বারীর(مقدمة فتح الباري) ভূমিকায় বর্ননা করেন,

ইমাম বুখারীর রাহমাতুললাহ আলাইহি এর পিতা বাল্যকালে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদের তাঁর মাতাই লালন-পালনকরেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি হাদীস মুখস্থ করেন। তাঁর পিতা ঈসমাইল একজন হাদীসের পন্ডিত ছিলেন। তার মাতাও ছিলেন হাদীসের একজন পন্ডিত।

* মুহাম্মাদ বিন হাতেম ইরাকী বলেন, আমি ইমাম বুখারীর নিকট শুনেছি তিনি বলেছেন, আমি বাড়িতে পড়াকালীন হাদীস হিফয করার ইচ্ছা করি।

** আবু জাফর ইরাকী বলেন, আমি আমার উস্তাদকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কত বৎসর বয়সে হাদীস পড়া শুরু করেছিলেন? তিনি বলেন : আমার বয়স যখন ১০ বৎসর, তার আগে থেকেই হাদীস পড়া আরম্ভ করেছিলাম।

ইবন হাজার আসকালানী রাহমাতুললাহ আলাইহি ফতহুল বারী’র ভূমিকায় বর্ণনা করেন, ঐ এলাকার প্রসিদ্ধ শিক্ষক আল্লামা দাখেলী রাহমাতুললাহ আলাইহি এর নিকট তিনি শিক্ষালাভ করেন। ইমাম বুখারীর (র.) উপস্থিতিতে তিনি তাঁর ছাত্রগণকে একটি হাদীসের সনদ লেখাইতেছিলেন-

‘সুফিয়ান আন আবি যুবাইয়ের আন ইব্রাহীম।’ ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি বললেন, শাযখ, আবু যুবাইয়ের সাথে ইব্রাহীমের সাক্ষাৎ হয়নি। এই সনদ ভুল হয়ে গেল। ইমাম দাখেলী রাহমাতুললাহ আলাইহি ছেলেকে ধমক দিয়ে বললেন যে, তুমি কি বলছে? বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, শাযখ সনদ ভুল হয়েছে, আবার হাদীসের দিকে ভালভাবে দেখুন। ইমাম দাখেলী রাহমাতুললাহ আলাইহি আবার সেই কিতাবটা দেখে নিজের বুল বুঝতে পারলেন এবং মনে মনে খুশি হয়ে সনদ সম্পর্কে ইমাম বুখারীকে পরীক্ষা স্বরূপ বললেন: كيف هو غلامঅর্থ, ওহে ছেলে সহীহ সনদটা তাহলে কি হবে বলতো দেখি? ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি বললেন, আন জুবাইরিন ইবন আদি আন ইব্রাহীমা অর্থ-জুবাইর হলেন আদির পুত্র। তিনি বর্ণনা করেন ইব্রাহীম থেকে। প্রথম বাক্যের অর্থ ছিল জুবাইরের বাপ ইব্রাহীম হতে বর্ণনা করেন, কিন্তু জুবাইর-এর পিতার সঙ্গে ইব্রাহীমের সাক্ষাৎ হয়নি। আল্লামা দাখেলী বললেন, ও ছেলে, তোমারটাই সহীহ, আমি ভুল করেছিলাম।

ইমাম বুখারী রাহমাতুললাহ আলাইহি এর দেশ ভ্রমণ

رحلة البخاري في طلب الحديث بدأت هذه الرحلة عندما خرج البخاري مع أخيه وأمه لأداء مناسك الحج، فقد عادت أمه وأخوه إلى بخارى بعد أداء مناسك الحج، ولكنه بقي هناك، وأصر أن يتخذ من منطقة الحرمين الشريفين نقطة البداية لرحتله، فقد بقي ستة أعوام بهما يتعلم من شيوخهما، ثم بعدها بدأ يتنقل بين البلاد الإسلامية، كما أخذ يحاور المحدثين، ويجالس العلماء، ويعقد الجلسات للتحدث، ويجمع الحديث هناك، وقد تحمل مشاق الانتقال والسفر، ولم يترك بلداً للعلم إلّا وقد نزل به، وروى عن كبار شيوخه، فقد نزل في

ষোল বছর বয়সে তিনি মা এবং বড় ভাইয়ের সাথে হজ্জে গমন করেন। হজ্জের পর তিনি মক্কাতে রয়ে গেলেন এবং হিজাযের হাদীসবিশারদদের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করতে থাকলেন। এ সময় তিনি “কাজায়াস সাহাবা ওয়াত তাবীয়ীন” নামক গ্রণ্থ রচনা করেন। এরপর হাদীস অন্বেষণের জন্য তিনি ইরাক, সিরিয়া ও মিশরসহ বহু অঞ্চলে সফর করেন। একদা ইমাম বুখারি মুহাদ্দিস দাখেলির দরসগাহে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি হাদীস অন্বেষণের ভ্রমণ শেষ করে নিজ মাতৃভূমি বুখারায় ফিরে আসেন।

লেখক: ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।


এই বিভাগের আরও সংবাদ
  • নামাজের সময়সূচি
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১
  • সূর্যোদয় :- ৫:১০ সূর্যাস্ত :- ৬:৪৯
    নাম সময়
    ফজর ৪:১৫
    যোহর ১২:১০
    আছর ৪:৫০
    মাগরিব ৬:৪৫
    এশা ৮:১৫
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ