রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

ইমাম তিরমিজি (রহ.)

শীর্ষবিন্দু ডেস্ক / ১ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ কাল : শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

আজ শুক্রবারপবিত্র জুমাবারআজকের বিষয় ‘ইমাম তিরমিজি (রহ.)‘। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান। ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ

তৃতীয় শতাব্দীর প্রসিদ্ধ ইসলামি পন্ডিত ও হাদীস সংগ্রাহক ইমাম তিরমিজি অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি সুনান আল-তিরমিজী (سنن الترمذي ) হাদীস গ্রন্থের সংকলক। এই গ্রন্থ কুতুব আল-সিত্তাহর অন্যতম। এটি সুন্নিদের মধ্যে একটা নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

এছাড়াও তিনি শামাইল মুহাম্মাদিয়াহ যা ( شمايل الترمذي) (শামাইল আত-তিরমিজি নামে পরিচিত) গ্রন্থের রচয়িতা। এটিও একটি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ। এতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যক্তি ও চরিত্র সম্পর্কে হাদীস আলোচনা করা হয়েছে। ইমাম আত-তিরমিজি একজন দক্ষ আরবি ব্যকরণবিদ ছিলেন। তিনি বসরার চেয়ে কুফার ধারার চর্চা করার পক্ষপাতী ছিলেন।

আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবন সাওরাহ ইবন মূসা ইবন দাহাক অথবা ইবন সাকান বা ইবন সাদ্দাদ ইবন ঈসা আস-সুলামি আদ-দারির আল-বুগি আত-তিরমিজি। তিনি ইমাম তিরমিজি নামে হাদীসের জগতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

ইমাম তিরমিজি রহ এর পিতামহ ছিলেন সুরত বা সাওরাহ মারওয়াজী। তিনি মারওয়ার নামক স্থানে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে তার পিতা মহ আল-লেথ ইবন সাইয়ারের সময়ে বাগ নামক স্থানে চলে এসেছিলেন। আর আল-সালামি হলো ঘাইলানের উপজাতি বনি সেলিমের সাথে সম্পর্কযুক্ত এ হিসেবে সালামী বলা হয়।

ইমাম তিরমিজি রহঃ বর্তমান উজবেকিস্তানের(রুশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বর্তমান উজবেকিস্তান বুখারা আমিরাত, খিভা খানাত এবং কোকান্দ খানাতের মধ্যে বিভক্ত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে উজবেকিস্তান রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়) যার রাজধানী হলোরাজধানী ও বৃহত্তর শহর তাশখন্দ সরকারি ভাষা উজবেক ও রুশ। ইমাম তিরমিজির পূর্বপুরুষরা ‘মুরাদ নামক শহরের বাসিন্দা ছিলেন।

অতঃপর তাঁরা উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরে হিজরত করেন। তিরমিজ ছিল অসংখ্য মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ আলেমের জন্মস্থান। যেমন- *মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি, তিনি তিরমিজের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি জামি আত-তিরমিজি নামক হাদিস সংকলনের প্রণেতা। এই গ্রন্থ সিহাহ সিত্তাহর অন্যতম।

*মুহাম্মদ ইবনে আলি আত-তিরমিজি, বিখ্যাত সুফি ধর্মতাত্ত্বিক।
*সাইদ বারাকা, দার্শনিক, যুদ্ধকুশলী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তৈমুরের শিক্ষক।
*সাইদ আলি শাহ তিরমিজি, পীরবাবা বলে পরিচিত।

তিনি জিহুন নদীর (জিহুন এশিয়ান নদী যার দৈর্ঘ্য ২,৫৫৫ কিলোমিটার । এটি অতীতে “অক্সাস” নামে পরিচিত ছিল। আরবদের একটি নাম গিহোন রয়েছে যা ফখশ ও বান্দিজ নদীর মিশ্রণ নিয়ে গঠিত যা মধ্য এশিয়ার পামির পর্বতমালা থেকে উত্পন্ন হয়, যার মধ্য দিয়ে আল-ফাতিহ কুতায়বা বিন মুসলিম তার সেনাবাহিনীকে পেরিয়েছিল। এই নদীটি আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমানা হিসাবে পরিচিত ছিল) বেলাভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত শহর তিরমিজের ‘(তিরমিজ উজবেকিস্তানের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান) বুগ’নামক পল্লীতে ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে।জন্মগ্রহণ করেন।

ইমাম তিরমিজি (রহ.)-কে তাঁর জন্মস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক করে তিরমিজি ও বুগি বলা হয়।

ইমাম তিরমিজি রহ. ইলমুল হাদীসের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ইলমুল হাদীসে সে উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ইমাম তিরমিজি (রহ.) খুব অল্প বয়সেই ঘর থেকে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।

* তিনি হিজাজ(বর্তমান সৌদি আরবের পশ্চিম অংশ। এর পশ্চিমে লোহিত সাগর, উত্তরে জর্ডান, পূর্বে নজদ ও দক্ষিণে আসির অবস্থিত। এর প্রধান শহর জেদ্দা। তবে ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার জন্য এই অঞ্চল অধিক পরিচিত)

*, মিসর,(আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে ও এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি আন্তঃমহাদেশীয় ভূমধ্যসাগরীয় রাষ্ট্র। এর পূর্ণ সরকারী নাম মিশর আরব প্রজাতন্ত্র। প্রাচীন যুগে মিশর সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সভ্যতা ছিল।)

*বসরা, (ইরাকের একটি শহর। এই শহরটি কুয়েত এবং ইরানের মধ্যবর্তী শাত-ইল-আরবে অবস্থিত।)

*কুফা(ইরাকের একটি শহর। শহরটি বাগদাদ হতে ১৭০ কিলোমিটার (১১০ মা) দক্ষিণে এবং নাজাফ হতে ১০ কিলোমিটার (৬.২ মা) উত্তরপূর্বে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত।)

* শাম(বিলাদ আল-শাম সমগ্র শাম বা বৃহত্তর সিরিয়া অঞ্চল বোঝাতে ব্যবহৃত করা যায়। এই অঞ্চলকে কখনো কখনো দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক কেন্দ্র দামেস্ক শাসিত এলাকা হিসেবে দেখা হয়। বস্তুত আরবি শব্দ আল-শাম الشام দামেস্ক বোঝাতে ব্যবহার করা যায়।)

* খুরাসান,(আধুনিক ইরান, তুর্কমেনিস্তান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। পূর্বে এর নাম ছিল পারথিয়া। সাসানীয় সাম্রাজ্যের সময় এর নাম বদলে খোরাসান রাখা হয়।)

বাগদাদসহ (ইরাকের রাজধানী। দজলা নদীর তীরে অবস্থিত এ শহরটি ৮ম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে এটি রাজধানীতে পরিনত হয়। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই বাগদাদ মুসলিম বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসাবে বিকশিত হয়েছিল। অন্যতম কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (যেমন, বাইতুল হিকমাহ) সহ বহুবিধ জাতিগোষ্ঠি ও বহুবধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের আতিথ্যের জন্য এই শহরটি “জ্ঞানের শহর” হিসাবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল) বহু দেশ ও শহর ভ্রমণ করেন। তিনি তৎকালীন সব বিখ্যাত মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদীস সংগ্রহ করেন এবং ইলমুল হাদীসের গভীর জ্ঞান লাভ করেন।

ইমাম তিরমিজি রাহমাতুললাহ আলাইহি বিভিন্ন শাযখদের ইলমুল হাদীসের সে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ইমাম তিরমিজি রাহমাতুললাহ আলাইহি এক হাজারেরও বেশি মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন। তাঁর ওস্তাদদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন_

*ইমাম বুখারি,(মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ ইমাম বুখারী (জন্মঃ ১৯৪ হিঃ-মৃত্যুঃ ২৫৬ হিঃ )

*ইমাম মুসলিম,(আল-ইমাম আল-হাফেজ হুজ্জাতুল ইসলাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশিয়ারী আন-নায়সাবুরী ২০২/৮১৭ মতান্তরে ২০৬/৮২১ অথবা ২০৪/৮১৯ সনে খুরাসানের অন্তর্গত নায়সাবুরে জন্মগ্রহণ করেন। ইমাম মুসলিম ২৬১/৮৭৫ সনের ২৫শে রজব রোববার নায়সাবূরে মৃত্যুবরণ করেন । )

*ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানি,(আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস আল-আজদি আস-সিজিস্তানি জন্ম ৮১৭–১৮ খ্রিষ্টাব্দ সিজিস্তান মৃত্যু ৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দ বসরা)

*আইমাদ বিন মুনা,(احمد ابن مني )

* মুহাম্মদ বিন মুছান্না,(محمد ابن مثنى )

*মুহাম্মদ বিন বাশ্শার,(محمد ابن بشار)

*হান্নাদ বিন সুরি,(حماد ابن سوري)

*কুতাইবা বিন সাঈদ,(قتيبة ابن سعيد )

*মাহমুদ বিন গায়লান,(محمود ابن غيلان)

*ইসহাক বিন মুসা আনসারী ( إسحاق ابن موسى الأنصاري ) এ ছাড়াআবু রাজা উতাইবা ইবনে সাইদ আল-বালখি আল-বাগলানি[
আলি ইবনে হুজর ইবনে ইয়াস আস-সাদি আল-মারওয়াজি
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আল-বসরি
আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-জুমাহি আল-বসরি
আবু মুসাব আজ-জুহরি আল-মাদানি[
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবি আশ-শাওয়ারিব আল-উমাউয়ি আল-বসরি
ইসমাইল ইবনে মুসা আল-ফাজারি আল-কুফি
মুহাম্মদ ইবনে আবি মাশার আস-সিন্দি আল-মাদানি
আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনে আল-আলা আল-কুফি
হানাদ ইবনে আল-সারি আল-কুফি
ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-হারাউয়ি
সুওয়াইদ ইবনে নাসের ইবনে সুয়াইদ আল-মারওয়াজি
মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-বসরি
জায়েদ ইবনে আখজাম আল-বসরি
আল-আব্বাস আল-আনবারি আল-বসরি
মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসান্না আল-বসরি
মুহাম্মদ ইবনে মামার আল-বসরি
আদ-দারিমি

লেখক: ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।


এই বিভাগের আরও সংবাদ
  • নামাজের সময়সূচি
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১
  • সূর্যোদয় :- ৫:১০ সূর্যাস্ত :- ৬:৪৯
    নাম সময়
    ফজর ৪:১৫
    যোহর ১২:১০
    আছর ৪:৫০
    মাগরিব ৬:৪৫
    এশা ৮:১৫
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ