সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৯

রমজানে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকা

রমজানে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকা

শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: বছর পরিক্রমায় চাঁদের হিসেবে প্রতিবছর ১১ দিন করে রমজান এগিয়ে আসে। সেভাবে প্রতি ৩৩ বছরে একটি বছর চক্র ঘুরতে দেখা যায়। সেজন্য সারাবছরই রমজান ঘুরে-ফিরে আসে। কাজেই একজন মানুষের জীবদ্দশায় সব ঋতুতেই রমজানের রোজার স্বাদ পাওয়া যায়।

তারই ধারাবাহিকতায় এবারের রমজান মাসের রোজা শুরু হয়েছে একেবারে পুরোপুরি গরমকালে। এমন যে গরম তা সহ্য করা কঠিন। একদিকে গরমের দিন অন্যদিকে লম্বা দিন- দুটোই রোজা রাখার জন্য একটু কষ্টের বলেই মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু রমজানের রোজার মধ্যে সরাসরি আল্লাহতায়ালার রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বিষয়টি জড়িত থাকার কারণে কোনো কষ্টই রোজাদার মুসল্লিরা কষ্ট হিসেবে দেখেন না। তারপরও এমন কঠিন দিনে রোজা রাখতে গিয়ে কিছু বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়।

এখন সেহরির শেষ সময় যদি ৩টা ৪০ মিনিট ধরি এবং ইফতারের সময় ৬টা ৪৫ মিনিট, তাহলে মোট রোজা রাখার সময় হলো ১৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট। এমনিতেই দীর্ঘ সময়, তার উপর আবার প্রচণ্ড ও অসহ্য গরম। এটি মানুষের শরীর স্বাস্থ্যের উপর বিরাট একটি চাপ।

সাধারণত রমজানের খাদ্যের চাহিদার জন্য ক্ষুধার চেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয় পানির তৃষ্ণা পাওয়া নিয়ে। সে সময় পিপাসায় শরীরে পানির প্রচুর চাহিদা থাকে। সেজন্য পানি পান করার উপর সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হয় সেহরি ও ইফতারের সময়।

আমরা বাঙালি হিসেবে খুবই রসনা বিলাসী। আর রমজান হলে তো আর কোনো কথাই নেই। পাড়ায়- পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় ও বাড়িতে-বাড়িতে যেন ইফতারের বাহারি আইটেম বানানো নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।

সেখানে ইফতারের আইটেম হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থান পায় ভাজাপোড়া জাতীয় ও রসনার জন্য মুখরোচক অতি আকর্ষণীয় খাবার। হাটে-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে যেখানেই যাওয়া যায় সেখানেই সেসব সাজানো ইফতারের আইটেম চোখে পড়ে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ইফতারে এসব মুখরোচক ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বরং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সারাদিন রোজা রাখার পর পেটে যেসব খাবার সহজপাচ্য হয়, তাই সকলের গ্রহণ করা উচিত।

যেখানে রোজার সময় রোজার কষ্ট কিছুটা লাঘব করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস-আদালত পর্যন্ত কাজের সময় কমিয়ে দিয়ে থাকে। কারণ রোজার মধ্যে ভারী এবং কষ্টের কাজ না করাই ভালো। সেখানে দুইবারে একটু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া খুবই জরুরি। সে খাবারগুলো খুবই দামি হতে হবে এমন নয়। সেগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত হলেই যথেষ্ট। তাই সেহরি এবং ইফতারে খাবারের আইটেমগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা এখন সাধারণত সেহরিতে খাই বড় বড় দামি দামি মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলা, আম, পোলাও খুরমাসহ আরো বাহারি উচ্চ প্রোটিন এবং তৈলাক্ত খাবার-দাবার। কিন্তু নিয়মিত এগুলো খাওয়া পরিহার করতে হবে।বরং খেতে হবে অনিয়মিতভাবে।

কয়েকদিন পর পর স্বাভাবিক সকল খাবারের সাথে পর্যায়ক্রমে মাছ মাংস ডিম দুধ পোলাওসহ অন্য সব খাবার খেতে হবে। তাতে পেটের পাকস্থলিকে হজমের জন্য কিছু সময় দেওয়া যায় এবং আন্ত্রিক যন্ত্রাংশগুলো সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। সেহরি খাওয়ার উপরই যেহেতু সারাদিনের রোজার ধকলটি নির্ভর করে সেজন্য সে সময় খাবারে পুষ্টি পরিকল্পনা থাকলে ভালো হয়।

সেখানে নানারকম মৌসুমী ফলমূলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও আঁশ জাতীয় খাবার থাকা প্রয়োজন। আর পানির কথাতো না বললেই নয়। একেবারে সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পরিমিত পরিমাণ পানি পান করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে দিন শেষে শরীরে পানির টান পড়তে বাধ্য।

একইভাবে ইফতারের সময়ও সুচিন্তিত ইফতারের আইটেম গ্রহণ করতে হবে। সেখানে পবিত্র পুণ্যভূমির ফল হিসেবে পরিচিত খেজুর তো থাকবেই। সেইসাথে লেবু চিনির শরবত, ফ্রিজের বরফ ঠান্ডা পানি, নরম খাবার ইত্যাদি প্রয়োজনমত গ্রহণ করতে হবে। শরবত কিংবা অন্যান্য ইফতার জাতীয় খাবারের সাথে অতিরিক্ত কৃত্রিম রঙ পরিহার করতে হবে। কারণ এসব রঙ শরীর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

ইফতারের অনেক বাহারি আইটেমের জন্য অনেক বিখ্যাত স্থান রয়েছে যেখানে মনোলোভা বিভিন্ন আইটেম পাওয়া যায়। এসব বিশেষ আইটেম শুধু সেই এলাকায় নয় বরং সারাদেশেই এগুলোর ঐতিহ্য রয়েছে। যেমন ঢাকার চকবাজারের মনোহর বাহারি ইফতার। এগুলো প্রতিদিনই টেলিভিশনের পর্দায় দেখলে জিহ্বায় জল আসে ঠিকই কিন্তু তা দুয়েকদিনের বেশি খাওয়া ঠিক নয়। তাতে বদহজম হয়ে রোজা রাখার উপর প্রভাব পড়তে পারে।

এভাবে দেখে-শুনে খেলে একদিকে যেমন রোজাগুলো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পালন করা যায়, অপরদিকে পরিমিত পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ব্যবহারের অভ্যাস করতে পারলে রমজান মাসে অহেতুক নিত্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি না হয়ে বরং দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তাতে সবারই মঙ্গল।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026