আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘ফিলিস্তিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মসজিদ ইবরাহিমি মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
ফিলিস্তিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মসজিদের নাম হলো ইবরাহিমি মসজিদ। মসজিদটি মুসলিম জাতির পিতা খ্যাত নবী হজরত ইবরাহিম আ.-এর নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক হেবরন আল-খলিলশহরে অবস্থিত ইবরাহিমি মসজিদ ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম—তিনটি ধর্মের কাছেই পবিত্র একটি স্থান।
বিশ্বাস করা হয়, এখানে হযরত ইবরাহিম আ: হযরত ইসহাক আ: ও হযরত ইয়াকুব আ:সহ তাঁদের সহধর্মিনীদের পবিত্র মাজার ও সমাধি রয়েছে। যুগ যুগ ধরে এতে নামাজ আদায় করে আসছেন মুসলমানরা। বিভিন্ন সময় এতে নামাজ আদায়ে মুসলমানদের বাধা প্রদান করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।
১৯৯৪ সালে এই মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গণহত্যা চালায় ইসরায়েল। ইব্রাহিমি মসজিদটি পশ্চিম তীরের দক্ষিণে হেবরন শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এখানে চার হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহীম (আ.)-কে সমাহিত করা হয়েছে। কিছু ঐতিহাসিকের মতে এখানে নবী ইবরাহিম আ.-এর স্ত্রী সারা, পুত্র ইসহাক, ইসমাইল আ.-এর কবর রয়েছে।
ফিলিস্তিন বিজয়ের পর ১৫ হিজরিতে মুসলমানরা এখানে মসজিদটি নিমার্ণ করেন। উমাইয়া এবং আব্বাসীয় যুগে ক্রুসেড হামলার আগপর্যন্ত এটি মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ক্রুসেড হামলার পর এটি ৯০ গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
৫৮৭ হিজরিতে আল আকসা বিজেতা সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ূবি মসজিদটি পুনরুদ্ধার করেন এবং এর দেখ-ভালের জন্য ১০টি পরিবারকে নিয়োগ করেন। মসজিদের মিম্বারটি প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এটি মিসরে তৈরি করা হয়েছিল।
মসজিদটি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত মুসলমানেদের অধীনে ছিল। ১৯৬৭ সালে ৪ জুন এতে ইসরায়েলি পতাকা স্থাপন করে দখলদার বাহিনী। এবং ১৯৯৪ সালে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়।
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ‘তাওরাত ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্কিত লোককথা অনুযায়ী হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ‘ইবরাহিমি মসজিদ’-এর স্থান ও পার্শ্ববর্তী পাহাড় ও জমি তার দাফনের জন্য ক্রয় করেছিলেন।


Leave a Reply