বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২২

কুব্বাত আস-সাখরা ও আল-কিবলি মসজিদ

কুব্বাত আস-সাখরা ও আল-কিবলি মসজিদ

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘কুব্বাত আস-সাখরা ও আল-কিবলি মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

কুব্বাত আস-সাখরাই মূলত দ্য ডোম অফ দ্য রক (Dome of the Rock) নামে পরিচিত। সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে নির্মিত চমৎকার ইসলামী সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য শিল্প ঐতিহ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইমারত এই কুব্বাত আস-সাখরা। এর ঝলমলে সোনার প্লেটেড গম্বুজ থেকে শুরু করে এর জটিল টাইলসের কাজ পর্যন্ত, কুব্বাত আস-সাখরা ইসলামী শিল্প ও নকশার একটি সত্যিকারের মাস্টারপিস।

একদিকে যেমন মুসলিম স্থাপত্যকলার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্থাপত্য শিল্প গুণ আছে অন্যদিকে এর তাৎপর্য তার শিল্প সৌন্দর্যের বাইরেও আছে; এটি মুসলমানদের কাছে মহান ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্বের একটি স্থান। ইসলামি বিশ্বাস মতে এখান থেকেই থেকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মিরাজে গমন করেছিলেন।

শত শত বছর ধরে গম্বুজ অফ দ্য রক ইসলামী সংস্কৃতির স্থায়ী শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিস্ময় এবং বিস্ময়কে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

স্থাপত্য শিল্পের গুরুত্বে কুব্বাত আস-সাখরা একদিকে যেমন অনবদ্য মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাস গড়ে ওঠার কাহিনীকে আমাদের চোখের সামনে উন্মোচন করে অন্যদিকে তেমনি এটির সুসামঞ্জস্য ও ঐশ্বর্য মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের দিগন্তকে প্রসারিত করার ইঙ্গিত দেয়। খোলাফায়ে রাশেদিনের পরবর্তী উমাইয়া শাসনামলের একটি অসামান্য অবদান হলো এই কুব্বাত আস-সাখরা।

‘মসজিদুল আকসা’ যে আসলে কী, সেটা কুরআনেই আছে। আমরা খেয়াল করে পড়ি না বিধায় বুঝি না। কালো গম্বুজের মসজিদটা প্রথম নির্মাণ করেন উমার (রা.), তাঁর খিলাফতকালে ফিলিস্তিন বিজয়ের পরে।

সোনালী গম্বুজের মসজিদটা (কুব্বাতুস সাখরা/Dome of Rock) নির্মাণ করেন উমাইয়া শাসক আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান, ৭২ হিজরিতে। [১] এর একটা মসজিদও রাসুল(ﷺ) এর জীবদ্দশায় ছিলো না। অথচ রাসুল(ﷺ) মসজিদুল আকসায় গিয়েছেন বলে কুরআনে উল্লেখ আছে! তিনি মসজিদুল আকসায় গিয়েছিলেন ইসরা-মিরাজের রাতে।

“পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে #মসজিদুল_আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [আল কুরআন, বনী ইস্রাঈল (ইসরা) ১৭ : ১]

কালো গম্বুজ বা সোনালী গম্বুজ – এই ২ মসজিদ নির্মানেরও আগে থেকে “মসজিদুল আকসা” ছিল বলে আল কুরআন থেকেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে! “মসজিদুল আকসা” তাহলে কোনটা?

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়া(র.) বলেছেন, “মসজিদুল আকসা সেই পুরো এলাকার নাম, যেখানে সুলাইমান (আ.) মসজিদ বানিয়েছিলেন।” [মাজমু’আতুর রাসাইল আল কুবরা ২/৬১]

ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশ্বকোষ ‘মাউসুআতুল ফিলাসতিনিয়্যাহ’তে বলা হয়েছে, “মসজিদুল আকসা” এই নামটি ঐতিহাসিকভাবে পুরো হারাম শারিফ এলাকাটিকে এবং এর মাঝের ইমারতগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।” [মাউসুআতুল ফিলাসতিনিয়্যাহ ৪/২০৩] [২]

Islamqa (Hanafi) ওয়েবসাইটের এক ফতোয়াতে অনেক পূর্বযুগের উলামার রেফারেন্স উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ Masjid al-Aqsa covers one-sixth of the south east area of old Jerusalem. The whole area within the compound walls (a total area of 144,000 m2) is Masjid al-Aqsa. Masjid al-Qibli, Dome of the Rock, Masjid al-Buraq are all inside the compound of Masjid al-Aqsa. Some people have a misconception that Masjid a-Qibli is only the Masjid. This is incorrect. The entire compound is a Masjid.

অর্থঃ পুরাতন জেরুজালেমের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এলাকার ৬ ভাগের ১ অংশ জুড়ে মসজিদুল আকসা অবস্থিত। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা পুরো এলাকাটিই (মোট ১৪৪,০০০ বর্গমিটার) ‘মসজিদুল আকসা’।

মসজিদুল কিবলি, কুব্বাতুস সাখরা, মসজিদুল বুরাক এই সবগুলোই ‘মসজিদুল আকসা’ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। কারো কারো একটি ভুল ধারণা আছে যে মসজিদুল কিবলি (কালো গম্বুজের) বুঝি একমাত্র , মসজিদ (আল আকসা)। এমন ধারণা সঠিক নয়। পুরো এলাকাটিই মসজিদ (আল আকসা)। [৩]

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনো ইমারত না বরং পুরো এলাকাটিই ‘মসজিদুল আকসা’। এর মাঝের যে কোনো ইমারত বা মসজিদ, খালি জায়গা – সবই ‘মসজিদুল আকসা’র অন্তর্ভুক্ত। ঠিক যেমন মক্কায় মসজিদুল হারাম একটা নির্দিষ্ট এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এই এলাকার মধ্যে কাবা ঘর আছে, ইমারত আছে, খালি জায়গাও আছে। এই নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সবটাই ‘মসজিদুল হারাম’। মসজিদুল আকসার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।

রাসুল(ﷺ) ইসরা-মিরাজের রাতে যখন মসজিদুল আকসায় গিয়েছিলেন, তখন কিন্তু সেখানে কোনো ইমারত ছিলো না। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা খালি স্থানটিই ছিলো ‘মসজিদ’। [৩.৫] ঐ স্থানেই বহুকাল পূর্বে সুলাইমান (আ.) এবং বনী ইস্রাঈলের নবীদের মসজিদ ছিলো।

মসজিদুল আকসা এলাকার মধ্যেই উমার(রা.) একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। সেই মসজিদেরই বর্তমান রূপ কালো গম্বুজের মসজিদটি। এই মসজিদটি উমারী মসজিদ ও কিবলি মসজিদ নামে পরিচিত।

সোনালী গম্বুজের মসজিদটির নাম কুব্বাতুস সাখরা (Dome of Rock)। উমারী মসজিদ, কুব্বাতুস সাখরা – উভয়ই মসজিদুল আকসা এলাকার মাঝে। কাজেই এর যে কোনোটিতে সলাত আদায় মানেই ‘মসজিদুল আকসা’তে সলাত আদায় করা।

এমনকি ঐ এলাকার মাঝের খালিও জায়গায় সলাত আদায় করলেও তা ‘মসজিদুল আকসা’তে সলাত আদায় রূপে গণ্য হবে। বাইতুল মুকাদ্দাস/বাইতুল মাকদিস কথাটি মসজিদুল আকসাকে বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026