বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭

ফোর্ড স্কয়ার এশাআতুল ইসলাম মসজিদ এর নতুন ভবনের কাজ শেষ করতে সাহায্যের জন্য কমিউনিটির প্রতি বিশেষ সাহায্যের আহবান

ফোর্ড স্কয়ার এশাআতুল ইসলাম মসজিদ এর নতুন ভবনের কাজ শেষ করতে সাহায্যের জন্য কমিউনিটির প্রতি বিশেষ সাহায্যের আহবান

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি এলাকার পুরনো মসজিদের মধ্যে অন্যতম একটি মসজিদ ফোর্ড স্কয়ার এশাআতুল ইসলাম জামে মসজিদ। সাথে রয়েছে মাদ্রাসা এবং কালচারাল সেন্টার। শুক্রবার এই প্রাচীন মসজিদের সম্পর্কে জানাতে এবং এই মসজিদের নতুন ভবন ও কার্যক্রম সম্পর্কে কমিউনিটিকে অবহিত করতে আয়োজন করা হয় এক সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মসজিদের জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা শামসুল হক। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি মাওলানা তহুর উদ্দিন যিনি প্রতিষ্টালগ্ন থেকে জড়িত আছেন এই মসজিদ কমিটির সাথে। আরো উপস্থিত ছিলেন এসিসটেন্ট সেক্রেটারী ইউনূস মিয়া, হেড টিচার আব্দুল হাদি মামুন, এসিসটেন্ট হেড টিচার মাওলানা এনাম উদ্দিন, ইংরেজী টিচার মাবরুর আহমদ, মসজিদের দ্বিতীয় ইমাম সাদিকুর রহমান, মসজিদ কমিটির সদস্যে শামিম আহমদ সহ আরো অনেকে।

এই মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্টাতা মরহুম হাফিজ মাওলানা মুজাহিদ উদ্দিন। তার একান্ত উদ্যেগে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ। ছোট্র পরিসরে যাত্রা শুরু করে লন্ডন ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ। একটি ছোট বিল্ডিং থেকে যাত্রা শুরু করে এখানে টাইটেল পর্যন্ত মাদ্রাসা চালু হয়েছে যা বাংলাদেশর কওমী মাদ্রাসার সমপরিমান বলে জানান মসজিদের জেনারেল সেক্রেটারী।

এখানে ইসলামিক কারিকুলাম ইংলিশ, মেথস এবং সাইন্স, আলিমুল প্রোগ্রাম ছাড়াও সান্ধ্যকালীন মাদ্রাসাও চালু আছে। মহিলা ও পুরুষ শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত এই মাদ্রাসায় পড়তে আসে স্থানীয় বাচ্চারা। প্রায় ৩৫ বছরে ধরে এই সান্ধ্যকালীন মাদ্রাসা চালু রয়েছে।

ফোর্ড স্কয়ার এশাআতুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং কালচারাল সেন্টারের নতুন ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে আয়েশা একাডেমী। এই ভবনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড। সেন্টারের ফান্ডে ২ মিলিয়ন পাউন্ড আছে। আরো দরকার ৪ মিলিয়ন পাউন্ড চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে নামায পড়তে পারবেন এক সাথে প্রায় ৪ হাজার মুসল্লি যা অফিসিয়ালী বলে জানান কতৃপক্ষ। তবে এখানে আনঅফিসিয়ালী ৫হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন বলে জানান কতৃপক্ষ।

যখন এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এই এলাকায় মুসলমানদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। তখন সবেমাত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আর বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে আসতে শুরু করেছেন যা তাদের স্থায়ী হতেই অনেক কষ্ট হচ্ছিল। এ সময় শত শত হাজার হাজার ছেলে মেয়ে আসতে শুরু করলো। যাদের ইসলামিক শিক্ষা দেয়া খুবই জরুরী ছিল। এ সময় স্থানীয় মুরুব্বিয়ানরা চিন্তু করলেন কিভাবে ছেলেমেয়েদের ইসলামী শিক্ষা দিয়ে দীক্ষিত করা যায়। তাই এ কথা চিন্তা করে এই ফোর্ড স্কয়ারে মসজিদের সাথে একটি মকতব শিক্ষা চালু করা হলো। এই মকতবের সুনাম ব্রিটেনজুড়ে অনেক আছে যা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক ছেলেমেয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সুনামের সাথে তাদের প্রফেশনাল জীবন যাপন করছে।

বর্তমান কালের ঐই বিল্ডিং আমারা ভাড়াটিয়া হিসেবে চালু হলেও পরবর্তীতে অনেক কষ্টে ক্রয় করতে সক্ষম হই। আর এই বিল্ডিং এর মালিক যখন বললো আমরা এই বিল্ডিং বিক্রি করে দেব তখন আমরা চিন্তা করলাম। এই টাওয়ার হ্যামলেটসে এর মধ্যে আমরা আর কোন বড় বিল্ডিং এ স্থানান্তরিত হতে পারব না তাই অনেক কষ্টে ১৯৯৮ সালে আমরা ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার পাউন্ড ক্রয় করে নেয়া হয়। এখন সুসজ্জিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন৷

এখানে একটি নামকরা স্টুডিও ছিল। নাম জেমস স্টোন স্টুডিও। এই স্টুডিও লিজ শেষ হয় নাই। আর আমরাও বের হতে পারব না। তাই কাউন্সিলের শরনাপন্ন হলে তার আমাদের সহয়তা করে স্টুডিও এর লিজ নবায়ন না করে তাদের বের হতে বাধ্য করে। এতে কমিউনিটির ব্যাক্তিদের অনেক অবদান ছিল। তখন থেকে বৃহৎ পরিসরে আমাদের ফুল টাইম মাদ্রাসার যাত্রা শুরু। যার নাম দেয়া হয় লন্ডন ইসলামিক স্কুল। এই ইসলামিক স্কুলের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালে। মদিনা ইউনিভাসিটির আদলে পরিচালিত এই পূর্ণ মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।

আগে আমাদের চুক্তি ছিল লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে যা মসজিদের নীচ দিয়ে চলাচল করে। পরবর্তী যখন ওভারগ্রাউন্ড চালু হলো তখন তারা জানালো যে, আমাদেরকে পূণরায় ওভারগ্রাউন্ডের সাথে চুক্তি করতে হবে। আর এই সময় সীমা বেধে দেয়া হয় ২৪ ফেব্রুয়ারী। এর মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে সময় শেষ হওয়ার আগে তাদের সাথে চুক্তি করতে সক্ষম হই এবং ২২ ফেব্রুয়ারী কাজ শুরু করতে সক্ষম হই।

আমাদের বর্তমান মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় নতুন আরো একটি বিল্ডিং এর কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে ৯ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়ে গেছে। বাকি অর্থের সংকোলান করতে কমিউনিটির দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ক্যাভেল স্ট্রীটের খালি জায়গার উপর চারতলা ভবন ও বর্তমান মসজিদ ভবনের সাথে সংযোগ সাধন ও উপরে লফট নির্মানের প্লানিং অনুমতি দিয়ে তিন বছরের মেয়াদ বেধে দিয়েছে৷ তাই দ্রুত কাজ শেষ করতে সবার সহযোগীতা প্রয়োজন৷ যিনি এই বিল্ডিং এর কাজ করছেন তার নাম আরিফ জবালি তিনি ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও মরিয়ম সেন্টারেরও কাজ করেছেন।

নতুন ভবন প্রতিষ্ঠিত হলে মা-বোনদের জন্য নামায, দ্বিনি শিক্ষা, স্কুল মাদ্রাসার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেণী কক্ষ, কমিউনিটি ও সমাজের জন্য বিভিন্ন কল্যানমুখি প্রজেক্ট পরিচালিত হবে। শুক্রবার মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসবের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

নতুন ভবন চালু হলে এখানে মহিলাদের নাজাযের জায়গাসহ একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্টা করা হবে যার নাম দেয়া হয়েছে ফেইথ লাইব্রেরী। ২২ জুলাই শনিবার ও ২৩ জুলাই রবিবার খতমে বোখারী ও বার্ষিক জলসা অনুষ্ঠিত হবে এতে ফান্ড সংগ্রহ করা হবে। কুমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষকে এই জলসায় উপস্থিত থেকে মসজিদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে বিশেষ অনুরোধ জানান মসজিদ কতুপক্ষ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026