রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১

ইসলামোফোবিয়া’র যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম কবির প্রতিরোধ

ইসলামোফোবিয়া’র যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম কবির প্রতিরোধ

মাহাদী হাসান: ‘আধুনিকতা’, ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা’ আর ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’র পাশ্চাত্য ডিসকোর্সে যে দেশের পরিচয় নির্মিত; সেই যুক্তরাজ্যে বছরে প্রায় ৭ হাজারটি মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধ সংঘটিত হয়। ইসলামফোবিয়াবিরোধী ব্রিটিশ সংগঠন মেন্ডের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ১,৪৩,৯২০টি মুসলিমবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী টুইট করতে দেখা গেছে। লন্ডন মেট্রো পুলিশের ২০১৭ সালের পরিসংখ্যানেও ক্রমাগত সেখানে মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী হামলা বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এসিড ও ছুরি দিয়ে চালানো কয়েকটি হামলার ক্ষেত্রেও ইসলামবিদ্বেষের আলামত পাওয়া গেছে। এই বিদ্বেষী বাস্তবতাতেই বাস করেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নারী সুহাইমাহ মানজুর। ইসলামফোবিয়া, বর্ণবাদ, লিঙ্গ বৈষম্য আর রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার এই নারী ২০১৭ সালের রাউন্ডহাউস পোয়েট্রি স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় এসেছিলেন ইসলাম সংক্রান্ত ভীতি আর বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিবাদী কবিতা নিয়ে। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ আউটস্পোকিং প্রাইজ ফর পারফর্মেন্স পোয়েট্রি সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা করে নেয় কবিতাটি।  কেবল কর্তৃপক্ষের কাছে নয়, জনমানুষের মনেও তীব্র আলোড়ন তোলে সেই কবিতা। অনলাইনে ভাইরাল হওয়া কবিতাটির ভিডিওটিতে ক্লিক হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি বার।  জার্মান, ইতালীয়, স্প্যানিশ, আইসল্যান্ডিক ও উর্দু ভাষায় ভাষান্তরিত হয় কবিতাটি।

যুক্তরাজ্যে তিন প্রজন্ম ধরে বাস করছে সুহাইমাহ’র পরিবার। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্র্যাডফোর্ডে। পড়েছেন লিডসের রাষ্ট্রীয় স্কুলে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন উত্তর উপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বের ওপর। ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছেন তিনি। কাজ করেছেন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে। ইসলামোফোবিয়া, নারীবাদ, বর্ণবাদ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালা করেছেন। তার কবিতা-প্রবন্ধ-বক্তৃতায় ঘুরে ঘুরে এসেছে এইসব বিষয়। ২০১৪ সালে ‘দ্য ব্রাউন হিজাবি’ নামে একটি ব্লগ শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে তার চিন্তাধারা আরও বিস্তৃত হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি রেডিও, স্কাই টিভি দ্য ইসলামিক চ্যানেলের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে ফিচার হয়েছে। বক্তৃতা করেছেন নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ টেড এক্স, বিভিন্ন সঙ্গীত উৎসব আর কবিতা প্রতিযোগিতায়। ২০১৭ সালের রাউন্ডহাউস পোয়েট্রি স্ল্যাম প্রতিযোগিতা তাকে পরিচিত করে বিশ্বব্যাপী। ‘দিস ইজ নট অ্যা হিউম্যানাইজিং পোয়েম’ নামে রচিত কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে আনেন পাশ্চাত্য দুনিয়ায় বসবাসকারী মুসলমান সম্প্রদায়ের মনোবেদনা। মানবিকতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের দ্বিমুখী আচরণ, সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বর্ণবাদ আর বিদ্বেষী বাস্তবতাকে তিনি নগ্ন করে ছাড়েন ওই কবিতার মধ্য দিয়ে।

সুহাইমাহ তার কবিতা শুরু করেন এভাবে: ‘কিছু কবিতা এমন, যা না লিখে আপনার নিস্তার নেই/যেমন করে রাত্তিরে আপনার জানালা ভেদ করে ঢুকে পড়ে সাইরেনের শব্দ/ আপনি হাজার চেষ্টাতেও তা রুখতে পারেন না।’ পাশ্চাত্য দুনিয়ায় মুসলমান ধর্ম-পরিচয়ের কোনও মানুষের দ্বারা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলেই বিদ্বেষের শিকার হওয়ার আতঙ্কে আতঙ্কিত হতে হয় সেখানকার সব মুসলিমকে। ইসলামফোবিক পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কী করে প্রত্যেক মুসলমান এই ভীতির বিপরীতে নিজেকে ‘ভালো’ প্রমাণ করতে তাড়িত হন, তাই যেন উঠে আসে তার কবিতায়। কবিতায় তিনি বলেন, ‘একটি মানবীয় কবিতার জন্ম দাও’/ আমার লিখবার খাতা-কলম আমাকে সদা-তাড়নায় ব্যস্ত করে তোলে/ বলতে থাকে, উন্মোচন করো এ নিয়ে পূর্ববর্তী সব মিথ্যে ধারণা.. মানবিকতা প্রমাণ করতে নিজেদের মানবীয় কাজের ফিরিস্তি দেওয়া, কিংবা ওয়েস্টার্ন ভাবাদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, কিংবা পুরনো দিনের অভিজ্ঞতা থেকে কোনও মানবিক ইস্যু তুলে এনে নিজেকে সন্ত্রাসী মুসলমানের থেকে আলাদা প্রমাণ করার চেষ্টার মতো বিষয়গুলো তিনি তুলে আনেন কবিতায়। এরপর সোচ্চার কণ্ঠে এমন কোনও ‘মানবীয় কবিতা’র জন্ম দিতে অস্বীকার করেন তিনি। কবিতায় তিনি বলতে চান, জোর করে এমন কিছু লিখতে চান না, যা তাকে তাড়িত করে না।

কবিতাতেই তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিম মাত্রই সন্ত্রাসী নয়, তারা আমার মতো’ জাতীয় কবিতা লিখেতে চান না। সম্মানীয় কেউ-ও হতে চাই না। পাশ্চাত্য ভাবধারার মানুষ হতে অস্বীকার করে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যখন অলস, তখনও তোমাদের ভালোবাসা চাই/ গরীব হয়েও তোমাদের ভালোবাসা চাই/ আকাশসম ভালোবাসা চাই তখনও যখন আমরা চাকরিহীন/ স্কুলে ব্যর্থ কিংবা সময় নষ্ট করে চলি’। তিনি লিখেছেন, যখন তিনি পার্সপোর্ট অনুযায়ী শ্বেতাঙ্গ নন, যখন ভালো উচ্চারণে ইংরেজি বলতে পারেন না, যখন তিনি হতাশ, অপরিষ্কার আর ছিচ কাদুনে, তখনও পাশ্চাত্যের কাছে ভালোবাসা চান। কবিতায় সুহাইমাহ প্রশ্ন তোলেন, কেন তাকে মানবিকতা প্রমাণ করতে হবে। তিনি তো মানুষ ছাড়া অন্যকিছু নন।

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের আতঙ্ক আর শঙ্কার জীবসবাস্তবতাকে তুলে ধরতে গিয়ে নিজের মায়ের প্রসঙ্গ তোলেন সুহাইমাহ। কবিতায় তিনি লিখেন, সেখানে কোনও সন্ত্রাসী হামলা হলেই মা তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি নিরাপদে আছেন কিনা। সুহাইমাহ জানান, তার মা আসলে কেবল সন্ত্রাসী হামলা থেকে তিনি নিরাপদ আছেন কিনা তা জিজ্ঞেন করেন না। মা আসলে জানতে চান, ঘটনার প্রতিক্রিয়া থেকে তিনি নিরাপদ কিনা; কেননা কখন তাকে উদার আর কখন কট্টর বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন থাকেন মা। কবিতায় বিশ্বজুড়ে ইঙ্গো-মার্কিন দখলদারিত্ব আর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রসঙ্গেও সোচ্চার হন সুহাইমাহ। দখলদারিত্ব আর সম্পদ লুণ্ঠনকে নিরঙ্কুশ করতে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’র লড়াইয়ের নামে ইরাক-আফগানিস্তান থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত যুদ্ধ ফেরি করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও বোমা মরণঘাতী আর কোনও বোমা গণতন্ত্রকামী হয় কী করে? তিনি কবিতার শেষে আবারও ‘মানবিকতা’র প্রমাণ দিতে অস্বীকার করেন। প্রশ্ন রাখেন, এসব কথার জন্য তাকে চরমপন্থী বিবেচনা করা হবে কিনা।

‘দিস ইজ নট অ্যা হিউম্যানাইজিং পোয়েম’ নামের ওই কবিতা নয় কেবল, বিভিন্ন রচনা-বক্তৃতায় সুহাইমাহ বারংবার সোচ্চার হয়েছেন ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে। কথিত উদারপন্থী পাশ্চাত্যের পোশাকের রাজনীতি ও হিজাবেবিরোধিতার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। নিজের ব্লগে লেখা এক রচনায় তিনি পাশ্চাত্যের কথিত নারীবাদের দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে বলেন: আমরা নারীবাদীরা প্রায়শই ‘নারী-শরীরের ওপর খবরদারি’র বিরোধিতা করি; বিরোধিতা করি নিপীড়নের শিকার নারীর বিরুদ্ধে দোষ চাপানোর। আমরা নারীর পণ্যায়নেরও বিরোধী। তবে মুসলিম নারীর ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কী? আমরা তাদের শরীর ঢেকে রাখা না রাখার ব্যাপারে এমন  করে কথা বলি, যেন তারা অক্রিয় কোনও বস্তু। আমরা তাদের ওপর খবরদারি করি, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাই যে তারা কী পরবে, কী পরবে না। আমরা জ্ঞান দিতে থাকি, কী করে নারীর পোশাক নিত্যকার জীবনকে প্রভাবিত করে, নারীর পর্দা করার বিষয়টি কী করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে তার আত্মসমর্পণের সমার্থক। কী নারীবাদী বন্ধুরা, আমরা তবে কী করে ‘নারীর পোশাকের স্বাধীনতা’র পক্ষে হলাম, এটা কী একটা ভান নয়? এমন অবস্থানের মধ্য দিয়ে আমরা কি দ্বিমুখী আচরণ করছি না? নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটা কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আমাদের এই অবস্থান কী সেটাই বলে না? নারী ধর্মীয় পোশাক না পরলে তার সমালোচনার কিছু নাই, ধর্মীয় পোশাক পরলে তার ওপর খবরদারি করা যাবে, আমরা কি সেটাই বলতে চাইছি না?

সুহাইমাহ লিখেছেন, স্কার্ফ, হিজাব কিংবা একটি কাপড়ের টুকরো; আমরা তাকে যেমন করে দেখতে চাই, তেমন করেই তার অর্থ তৈরি হয় । ‘আমি যখন ১৪ বছর বয়সে প্রথম হিজাব পড়ি সেটা মূলত ধর্মীয় কারণেই।  ছয় বছর পেরিয়ে এ নিয়ে আমার বোঝাপড়া আরও পোক্ত হয়েছে। এখন একে আমি নারীবাদের প্রতীক হিসেবে, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমার মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে পরি। আমি বলতে চাই যে আমি শরীর ঢেকে রাখতে চাই এবং এখানে আমার ইচ্ছাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই ত্রিকোণাকৃতির কাপড় আমার ইচ্ছার প্রতীক। এবং যৌন-আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে নিজেকে রক্ষার প্রতীক।  যৌনতা প্রশ্নে আমার নিজ শরীরের ওপর আমার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতীক।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে মুসলিমদের নিয়ে ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মুসলিম নারীদের পোশাকের ওপর চরমপন্থী খবরদারিকে চরমপন্থাবিরোধী অবস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত পোশাক নিয়ে হেনস্থার শিকার হচ্ছে, ফরাসি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে তাদের মুক্তির প্রশ্নটা খুব জরুরি প্রশ্ন।  মুসলিম নারীদের স্বাধীন করার নামে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি ফ্রান্সে নতুন কিছ নয়। পর্দার প্রশ্নকেই পশ্চিমা ধারণার বিপরীতে স্থাপন করেছেন সুহাইমাহ; বলছেন, ফ্রান্স আসলে পর্দা দিয়ে নিজেদের বর্ণবাদকে আড়াল করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শ্বেতাঙ্গ নারীর ক্ষেত্রে পোশাক চাপিয়ে দেওয়াকে যদি অপরাধ বিবেচনা করা হয়, মুসলিম নারীর ক্ষেত্রে তা হয় না কেন?

গার্ডিয়ানে তরুণদের এক আয়োজনে তিনি বলেন, মুসলিমদের পক্ষ থেকে যখন আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, তখন ইসলামফোবিয়া নিয়ে তাদের অবস্থানের সঙ্গে আমি তেমন একটা দ্বিমত করতে পারি না। আসলে সব মুসলমানকেই ‘ভালো অভিবাসী’ ‘খারাপ অভিবাসী’ জাতীয় অবাস্তব ভাবধারার মোকাবেলা করতে হয়। ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে যারা বলেন, তারাও আদতে বলতে চান এটা ভালো কিছু নয়, কেননা মুসলমান মাত্রই খারাপ নয়। এর মধ্য দিয়েও আসলে ইসলামফোবিয়াই তৈরি হয়। বিষয়টা এই সময়ের অমানবিকতার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতার ঘেরা সীমান্ত থাকে বলেইতো মানুষ বিভাজিত হয়। নাগরিকতার মধ্যে দিয়ে বলে দেওয়া হয়, কে থাকতে পারবে আর কে পারবে না।  কিন্তু আপনি কাকে বাদ দিচ্ছেন? এমন কিছু মানুষকে যাদের আপনি সেখানে থাকার যোগ্য মনে করেন না। ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে নজর ফেরালে বোঝা যায়, এটা নিরন্তর এক বাস্তবতা। ব্রেক্সিট থেকে শুরু করে ট্রাম্প, উইন্ডরাশ স্ক্যান্ডাল, উগ্র জাতীয়তাবাদ সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এটা কেন হচ্ছে? আমি বলবো ‘মনুষত্বহীন ও  হত্যাযজ্ঞের পৃথিবীতে বাস করি আমার। কিন্তু আমি এই কথা বললে আমাকে পাগল বলা হবে।’

জুনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজে হামলার পর থেকে যুক্তরাজ্যের এ দুটি শহরে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের হার বেড়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসলামবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ৩৪৩টি ঘটনা, ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ১,১০৯টি ঘটনা এবং এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ১,২৬০টি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা নথিভূক্ত হয়েছে। জুনে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড বলেছিলেন, প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী যারা বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হচ্ছেন তাদের অর্ধেকেরও বেশি মুসলিম এবং ধর্মের কারণেই তাদেরকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। জুনে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান কর্তৃক প্রকাশিত হামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লন্ডন ব্রিজে হামলার পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিক হামলার সংখ্যা ৫ গুণ বেড়েছে। আর বর্ণবাদী ঘটনা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। কেবল তাই নয়, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যুক্তরাজ্যে এসিড ছোড়ার প্রবণতাও বেড়েছে। বিদ্বেষমূলকসহ বিভিন্ন হামলায় এসিডকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। এইসব বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়েছেন সু্হাইমাহ।বর্তমানে `কাট ফ্রম দ্য সেম ক্লোথ’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। ব্রিটেনে মুসলিম নারীদের নিয়ে সাহিত্যসংকল ২০১৯ সালে বাজারে আসবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026