রাজনীতি ডেস্ক: এমন প্রশ্ন যখন রাজনীতিতে চাউর হচ্ছে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সেই আলোচনাকে এগিয়ে দিলেন।
তিনি বললেন, খালেদা জিয়া প্যারোলের আবেদন করলে সরকার তা ভেবে দেখবে। আর সরকারের এই বক্তব্যের পর বিএনপির হাইকমান্ড খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের নতুন আরেকটি ষড়যন্ত্র দেখছেন।
দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তারা দুজনই বলেছেন খালেদা জিয়ার মুক্তি তারা প্যারোলে চান না। সরাসরি নিঃশর্ত মুক্তি চান। এখানে সমঝোতার কিছু নেই বলে মনে করেন এই দুই নেতা।
আর বিএনপির আইনজীবীদের দাবি প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যত মামলা রয়েছে তার সবগুলোই জামিনযোগ্য। যদি আইন বাধাগ্রস্থ না হয় তাহলে তিনি মুক্তি পাবেন। এজন্য প্যারোলের দরকার হয় না।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে এটা সরকারের নতুন আরেকটি খেলা ও চক্রান্তের অংশ। তাই এই ফাঁদে পা না দিয়ে বরং রাজনৈতিক ফয়সালা হিসেবে আন্দোলনকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে বিএনপি সক্রিয়তার পাশাপাশি এরসঙ্গে যুক্ত হবে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো। তবে কৌশলগত কারণে জামায়াত থাকবে এর বাইরে। প্রথম দিকে নমনীয় কিছু কর্মসূচির পাশাপাশি ধাপে ধাপে কর্মসূচির কঠোরতা বাড়ানো হবে। ঢাকা অভিমুখে পদযাত্রা, স্বেচ্ছায় কারাবরণ, কালো পতাকা মিছিল, কারাগার কেন্দ্রীক মানব প্রাচীর, মৌন মিছিলের মত কর্মসূচি, রাজপথ রেলপথ অবরোধের মত কর্মসূচি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, সরকার প্যারোলের কথা এমন এক সময় বলছে যখন তাারা দেখছেন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র। আইন যদি নিজস্ব গতিতে চলার নূন্যতম সুযোগ পায় তাহলেও তিনি মুক্তি পাবেন।
জিয়া পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার নিজেও প্যারোলে মুক্তি চান না। তিনি মনে করেন, এই মুক্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় যত না সমস্যা তার চেয়ে বেশি সমস্যা রাজনৈতিক কারণে। প্যারোলে মুক্তি মানেই শৃঙ্খলিত মুক্তি।
সূত্র আরো জানায়, বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া নিজেই রাজি নন। তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে চান না। যদি তাই হতো তাহলে অনেক আগেই সরকারের সঙ্গে আপোস করে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দেশ ছাড়বেন না এমন সিদ্ধান্তে অনঢ় রয়েছেন। তবে তার চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে নিতে চান।