বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪

সন্তানের শারীরিক অক্ষমতার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে নির্বাসিত হচ্ছে বাংলাদেশি পরিবার

সন্তানের শারীরিক অক্ষমতার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে নির্বাসিত হচ্ছে বাংলাদেশি পরিবার

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া পাঁচ বছরের বালককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শারীরিক অক্ষমতার কারণে সে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য খাতের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আদিয়ান নামের ওই বালকের বাবা ড. মাহেদি হাসান ভুঁইয়া ২০১১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেখান থেকে ফিরে ২০১২ সালে তিনি রেবাকা সুলতানাকে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। এর পরের বছর তার স্ত্রী রেবাকাও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। ২০১৪ সালে তাদের সন্তান আদিয়ানের জন্ম হয় অস্ট্রেলিয়ার গিলং হাসপাতালে।

জন্মের কয়েক মাস পর মাহেদি ও রেবাকা লক্ষ্য করেন তাদের সন্তান আদিয়ানের মাথা ওঠাতে কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, জন্মের কিছুক্ষণ পরেই স্ট্রোক করেছিলো আদিয়ান।

আর এতেই তার সেরিব্রাল প্যালসিতে আক্রান্ত হয় সে। মাহেদির বাংলাদেশি ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি ভিক্টোরিয়ান প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকে অভিবাসন ভিসা পান। ফলে তিনি ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় আজীবন বসবাসের সুযোগ পান।

তবে আদিয়ানের ওই শারীরিক সমস্যা ধরা পরার পরে তার ওই ভিসা বাতিল করে দেয়া হয়। মাহেদি এ নিয়ে আবারো আপিল করেন। এর আড়াই বছর পর অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ আবারো এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তারা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে যে পরীক্ষা হয়েছে তাতে জানা গেছে আদিয়ানের অবস্থা পূর্বের থেকে খারাপ হয়েছে এবং বিকলতা স্থায়ী হয়ে গেছে।

ফলে তাকে হয়ত বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। এ নিয়ে তার বাবা মাহেদি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না একটা শিশু যার কিনা একটি হাত নারাচারা করতে সমস্যা হয় তার কেনো বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা লাগবে! আমি যতদূর বুঝি, বিশেষ শিক্ষা তারই প্রয়োজন যে মূলধারার স্কুলগুলোতে যেতে অক্ষম।

প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান আদিয়ানের শারীরিক অবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট দেখেছে। তাতে দেখা গেছে সে নিজেই হাটাচলা করতে পারে। শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তার সাহায্যের দরকার পরে।

এছাড়া সে ফুটবল খেলতে পারে ও আস্তে আস্তে সে তার অক্ষমতাকে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে তাকে এখনি স্কুলে পাঠানো সমর্থন করেনা ওই রিপোর্ট। তাতে আরো সময় ধরে তাকে থেরাপি দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আদিয়ান এখন প্রতিদিনই থেরাপি নিচ্ছে। এখন সে আগের থেকে অনেক ভালো করছে। শেখায় তার কোনো বাঁধা নেই। সে স্কুলে যাচ্ছে এবং সব কিছু শিখছে। বাসায় সে বাচ্চাদের ভিডিও দেখছে। এখন সে সবকিছু হাত দিয়ে ধরতে পারে। কিন্তু পূর্বে সে কিছুই ধরতে পারতো না।

অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে পরিবারটি এখন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। সেখান থেকে তাকে সাময়িক ভিসা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কাছে করা আপিলের ফলাফল জানার জন্য তাদেরকে ৩ মাসের ভিসা দেয়া হয়েছে। মাহেদি সেখানে চাকরি করেন আর রেবাকা পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রেবাকার সামনে পরীক্ষা রয়েছে। এটিতে উত্তীর্ণ হলে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় স্বীকৃত ডাক্তার হবেন।

মাহেদি বলেন, প্রত্যেক তিন মাস পরপর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এটা খুবই কঠিন আমার জন্য। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারভাইসর আমাকে জানিয়েছেন, আমার ভিসার সমস্যা সমাধান হয়ে গেলেই আমি একটা প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবো। তবে আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নই। আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চাই আমার সন্তানের পড়াশুনার জন্য।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026