বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭

মার্কিন সরকার ঋণে জর্জরিত

মার্কিন সরকার ঋণে জর্জরিত

ঋণের বোঝায় আক্রান্ত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের একটি সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় এই তথ্য প্রকাশ পায়।

এতে দেখা গিয়েছে, দেশের মোট ঋণ এবং মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের অনুপাত ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ, যত বেশি ঋণ, উৎপাদন তত বেশি হচ্ছে না। সূত্র: ভারতের আনন্দবাজার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার ঋণ এবং উৎপাদনের অনুপাত ২০২৩ সালে ৯৮ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২০৫৩ সালে পৌঁছে যেতে পারে ১৮১ শতাংশে। অন্য একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনুপাত ২২২ শতাংশ ছাড়াতে পারে বলেও দেখানো হয়েছে।

কোভিড অতিমারির পর থেকেই আমেরিকার অর্থনীতি নড়বড়ে। ঋণ নিতে নিতে ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই সীমা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে মার্কিন ব্যাঙ্কগুলি লাগাতার সুদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে চলেছে। ঋণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সুদ। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মার্কিন সরকার বিপুল ঋণের দায়ে ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

আমেরিকায় বর্তমানে সুদের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০০১ সালের পর থেকে এই পাহাড়প্রমাণ সুদ আর দেখা যায়নি। জুলাই মাসেও এক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে সুদের হার।

ঋণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন সরকারের ঋণের ‘সার্ভিসিং কস্ট’ (ঋণ নিলে সুদ বাবদ বাড়তি যে খরচ হয়) বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এই খরচ ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।

অথচ, এক বছর আগেই সরকারের ঋণ ‘সার্ভিসিং কস্ট’ ছিল ৩৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, চলতি বছরে এই খরচ পৌঁছতে পারে ৬৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমেরিকা অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি পড়তে পারে। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকেই মন্দার দিকে এগোতে পারে দেশের অর্থনীতি। বিভিন্ন আর্থিক সমীক্ষার মতে, সেই সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে। ৮০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন হয় মার্কিন মুদ্রা ডলারের মাধ্যমে। তবে সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারকে কিছুটা হলেও পিছু হটতে হয়েছে।

আমেরিকার অর্থনীতি যে সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকা। যার ফলে পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা চেপেছে বর্তমান বাইডেন সরকারের ঘাড়ে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করে থাকে। এই বাড়তি অর্থ আসে ঋণ থেকে। বিভিন্ন দেশ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আমেরিকার ঋণ রয়েছে। গত কয়েক বছরে সেই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে হু হু করে।

তবে আমেরিকার অর্থনীতি অত্যন্ত সুরক্ষিত। কারণ, বিশ্ব অর্থনীতির পরিচালক মুদ্রা বা ডলার ছাপে তারাই। যে দেশ নিজস্ব পণ্য বিক্রি করে যত ডলার আয় করে, তা তারা আবার আমেরিকাতেই বিনিয়োগ করে। ফলে আমেরিকার খরচ করা ডলার ফিরে যায় আমেরিকাতেই।

যখনই কোনও সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমেরিকা ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফেলে। অতিরিক্ত ডলার ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় তারা। অতিমারির সময় বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। ২০২০ সালে মাত্র এক বছরে আমেরিকা রাতারাতি ৩ লাখ কোটি ডলার ছেপে ফেলেছিল। তা দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকার বিলিয়ে দেয়।

কিন্তু সরকারের এই নীতির সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। আমেরিকার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বেশি মুদ্রা ছাপায় মানুষ বেশি টাকার অধিকারী হন ঠিকই, কিন্তু বাজারে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের পরিমাণ তাতে কমে আসে। চাহিদা বেড়ে যায়, জোগান তার সঙ্গে মেলে না।

সঙ্কটের সময়ে আমেরিকার রাস্তায় সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতেও দেখা গিয়েছে। মানুষের কাছে টাকা আছে, কিন্তু উৎপাদন না থাকায় দোকানে জিনিস নেই। দিন দিন এই সঙ্কট মাথাচাড়া দিচ্ছে আমেরিকায়।

ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমেরিকার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাই তারা ঋণ নিয়ে নিয়ে অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। কিন্তু এই নীতির সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। কারণ ঋণ গ্রহণের অর্থই হল, ভবিষ্যতের আয় থেকে অর্থ চুরি করা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026