রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪

সিলেট থেকে লন্ডন যাত্রীর মৃত্যুর তিন মাস পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিমান

সিলেট থেকে লন্ডন যাত্রীর মৃত্যুর তিন মাস পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিমান

সিলেট থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে চলন্ত বিমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিক শোয়াইবুর রহমান চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শোয়াইবুর রহমানের পরিবারসহ যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি অব্যাহত রেখেছে।

নিয়ম অনুযায়ী- যখনই ফ্লাইটের কোনো যাত্রীর মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়, তখনই উড়োজাহাজ থেকে মেডিকেলি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে একটি এসওএস পাঠাতে হয় এবং সবচেয়ে নিকটতম বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।

কিন্তু সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের ১১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট পর ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

ওই সময় ওই ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ওই যাত্রীকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার পর, পার্সার তার মরদেহটি নিয়ে একটি খালি সিটের সারিতে শুইয়ে দেয়।

যাত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও পাইলট কাছের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ কেন করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরুরি অবতরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকে বাঁচানো, জানাজার ব্যবস্থা করা নয়। আমরা যখন জানতে পারলাম, ততক্ষণে তাকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

তবে ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করার জন্য সেই ফ্লাইটে কোনো ডাক্তার ছিল না। পাইলট এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, ফ্লাইট পার্সারের ওপর নির্ভর করেই শুয়াইবুর রহমান চৌধুরীকে মৃত বলে ধরে নেন তিনি।

ফ্লাইট পার্সার একজন প্রশিক্ষিত মেডিকেল পেশাদার নয়। তাদেরকে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ফ্লাইট লগ অনুসারে, ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় ১২ নভেম্বর প্রায় সোয়া ১০টার দিকে উড্ডয়ন করে। জিএমটি/ইউটিসি অনুযায়ী সময় তখন সকাল ৪টা ১৬ মিনিট।

আনুমানিক ৬টা ৫৫ ইউটিসিতে কেবিনের প্রধান ফ্লাইট পার্সার পাইলটকে একজন যাত্রী সম্পর্কে অবহিত করেন, (যিনি) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে অক্সিজেন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে কেবিনের প্রধান ফ্লাইট পার্সার জানান যে- ওই যাত্রীকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। বিমানটি ১৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৬ মিনিটে (জিএমটি) হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এদিকে, এ মৃত্যুর তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে গত সোমবার। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত শোয়াইবুর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে কি না বা হয়ে থাকলে তার কোনো রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন মুখর হয়েছে দেশি-প্রবাসী অনেক সংগঠন। এগুলো হচ্ছে- ভয়েস ফর জাস্টিজ, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে, প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ, হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ ইউকে ।

এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ- শোয়াইবুর রহমান চৌধুরীকে প্রথমে যে অক্সিজেন দেওয়া হয় সেখানে কোনো অক্সিজেনই ছিল না বা বিমানে প্রশিক্ষিত কোনো ফাস্ট এইডার বা ডাক্তার ছিলো না।

মৃত্যুর পর যাত্রীর লাশকে বিমানের সিটে বসিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়, যার ফলে লাশের প্রতি ঠিকমত সম্মান প্রদর্শনও করা হয়নি। এসব বিমানের অব্যবস্থাপনারই নজির।

সুতরাং এভাবে আর কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয় সে জন্যই এ সমস্ত অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়ম দূর করতে হবে ও প্রবাসীদের স্বার্থে বিমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, চলন্ত বিমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিক সুয়াইবুর রহমান চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর এক সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্ব লন্ডনের প্রিন্সলেট স্টীটস্থ দর্পণ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক রহমত আলী।

যুগ্ম সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মুকিত চুন্নু এমবিই, সহ সভাপতি ও ব্রিকলেন ট্রাস্টের চেয়ারপারসন শাহ মুনিম, ট্রেজারার মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, লিগেল সেক্রেটারি সলিসিটর মনিরুজ্জামান, সাংবাদিক নাজমুল হোসাইন, কমিউনিটি নেতা আবুল কালাম আজাদ ছোটন, ফয়জুর রহমান ফয়েজ, আলমগীর খান, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, সাবের চৌধুরী, আনোয়ার খান, মরহুমের ছোট ভাই সাইফুর রহমান চৌধুরী শাহেদ প্রমুখ।

তাছাড়া ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী বিমানযাত্রী খলিলুর রহমান সে সময়ের বর্ণনা করেন। বক্তাগণ এ ঘটনায় বিমানের উদাসীনতা, ব্যবস্থাপনা ও চরম অবহেলার জন্য তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের সিলেট থেকে লন্ডনগামী চলন্ত ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে মারা যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী শোয়াইবুর রহমান চৌধুরী। ফ্লাইট লগ অনুসারে জানা যায়, ব্রিটিশ নাগরিক শুয়াইবুর রহমান চৌধুরী প্রথমে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026