শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেন-ট্রাম্প, আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেন-ট্রাম্প, আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ

পর্নো তারকা থেকে যুদ্ধ, অর্থনীতি থেকে পররাষ্ট্রনীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, নিজেদের বয়স সহ ইত্যকার ইস্যুতে ধুন্ধমার এক বিতর্কে অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

আগামী ৫ই নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মুখোমুখি এই বিতর্ক হয়।

সিএনএন স্টুডিওতে প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বিতর্কে ট্রাম্প ৪০ মিনিট ১২ সেকেন্ডের মতো কথা বলেছেন। অপর দিকে বাইডেন কথা বলেছেন ৩৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। চার বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে একে অন্যের মুখোমুখি হলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনী বিতর্কে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিতর্কের পারফন্সকে তার দলের পক্ষ থেকেই এক কথায় বলা হয়েছে ‘নাথিং গুড’। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হারিস যদিও বাইডেনের বিতর্ককে প্রথমে ধীর গতিতে শুরু এবং শেষমেষ জোরালো ও শক্তিশালী বলে মুখরক্ষার চেষ্টা করছেন কিন্তু ডেমোক্রেটরা তা মানতে নারাজ।

মুখোমুখি বিতর্ক চলাকালে কথা বলার সময়ের দিক থেকে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্রেট নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পকে জোরালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি বাইডেন। এ সুযোগে ট্রাম্প অনর্গল মিথ্যা বলে গেছেন।

জর্জিয়ার আটলান্টায় সিএনএনের স্টুডিওতে প্রবেশ করে তারা করমর্দন করেননি। পোডিয়ামে উঠার পর তাদের এই আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে তাদের ভিতর যে বিরোধ কি পর্যায়ে আছে তা ফুটে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ৪ মাসের সামান্য বেশি সময় হাতে আছে।

এ সময়ে তাদের এই বিতর্কের দিকে দৃষ্টি ছিল পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাসীর। ৯০ মিনিট বা দেড় ঘন্টার বিতর্কে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২০ সালে মিনিয়াপোলিসে যখন কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় অসন্তোষ দেখা দেয়, তখন তিনি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনায় যখন পোর্টল্যান্ডকে তছনছ করা হলো, অনেক শহরকে তছনছ করা হলো, তখন আপনি গিয়েছিলেন মিনেসোটা, মিনিয়াপোলিসে। শহরজুড়ে তারা আগুন নিয়ে খেলা করছিল।

যদি আমি ন্যাশনাল গার্ডদের মোতায়েন না করতাম,তাহলে শহরটি ধ্বংস হয়ে যেতো। তবে এনডিটিভি বলছে,  ট্রাম্পের এই দাবি মিথ্যা। ট্রাম্প নন, ২০২০ সালের অসন্তোষের সময় মিনেসোটায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন মিনেসোটার ডেমোক্রেটিক গভর্নর টিম ওয়ালজ।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি দেয়ার কমপক্ষে ৭ ঘন্টা আগে এই গার্ডদের প্রথম সক্রিয় করা হয়েছিল। ওই সময় ওয়ালজের অফিস সিএনএনকে বলেছিল, মিনিয়াপোলিস ও সেইন্ট পলের কর্মকর্তাদের অনুরোধে গভর্নর সক্রিয় করেছিলেন গার্ডদের।

ওদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, মিলিয়নিয়ারদেরকে ট্যাক্সের ‘ফেয়ার শেয়ার’ নিশ্চিত করাবেন। বর্তমানে যারা এক লাখ ৭০ হাজার ডলারের নিচে আয় করেন, তারা সবাই আয়ের শতকরা ৬ ভাগ ট্যাক্স দেন। মিলিয়নিয়াররা দেন শতকরা এক ভাগ।

ফলে যাদের আয় চার লাখ ডলারের নিচে তাদের কারো সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে না। তাই ধনশালীরা যাতে শতকরা এক ভাগের চেয়ে বেশি দিয়ে জীবনমানের উন্নতি ঘটান। সেই অনুরোধ করবো।

এক পর্যায়ে বয়সের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। যদি তিনি নির্বাচিত হন তাহলে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে তার বয়স হবে ৮২ বছর। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমি এ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। বাইডেনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনিও এমন বয়সের পরীক্ষা দিন- তা চাই।

তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার বয়স নিয়ে কটাক্ষের জবাবে বলেন, আমার ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময় সবচেয়ে ‘ইয়াঙ্গেস্ট’ থাকার জন্য সমালোচিত হয়েছি। এখন সমালোচিত হচ্ছি সবচেয়ে বেশি বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য।

এ সময় তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, তিনি আমার চেয়ে ৩ বছরের ছোট। কিন্তু তিনি খুব কমই যোগ্য। তিনি আমাকে হোয়াইট হাউসে ছেড়ে যাওয়ার পর কি অর্জন করেছি, তার সবটার দিকে তাকান। অন্যদিকে বাইডেনের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ হাঁকান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘বাইডেন ইন পেইড বাই চায়না’। তিনি একজন মাঞ্চুরিয়ান প্রার্থী।

ওদিকে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বাইডেন বলেন, মধ্যবিত্তদের ট্যাক্স কখনো  বাড়াইনি আমি। তাদের কাছ থেকে সহায়তা নেয়ার কথা বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় আপনার সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে।

তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট। বিশ্বে আমরা সবচেয়ে সম্মানীত দেশ। আমাদেরকে দুর্বল করার কথা কেউ ভাবে না। আমাকে সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট বানানোর ধারণায় প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসবেত্তা ১৫৯ জন ভোট দিয়েছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই (ট্রাম্প) ছিলেন সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট।

বাইডেনকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, আমার সারাজীবনে রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করেছি। এই ব্যক্তির (বাইডেন) মতো কাউকে কখনো দেখিনি। তিনি আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারে। বাইডেন বলেন, তার (ট্রাম্প) পরিবেশ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছেন।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্যারিস চুক্তির ফলে আমাদের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার মূল্য দিতে হয়েছে। তবে এর জন্য চীন, রাশিয়া ও ভারতকে কোনো মূল্য দিতে হয়নি। এই চুক্তির কারণে আমাদেরকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছিল বলে তা থেকে বেরিয়ে এসেছি।

তবে গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শেষে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন করবেন কিনা? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ট্রাম্প। পক্ষান্তরে তিনি বলেন, আমাকে এটা দেখতে হবে।

চার্লটসভিলে হামলা সম্পর্কে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট বলবেন স্বস্তিকা চিহ্ন ধারণকারী নাৎসীরা ভাল মানুষ! এই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র সম্পর্কে ধারণাই নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তার প্রেসিডেন্সি সবচেয়ে খারাপ ছিল। তিনি চার্লটসভিলে কাহিনী বানিয়েছেন।

তবে এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত যে মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সে সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, কোনো পর্নো তারকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করিনি আমি। এ মামলার রায় ও বিচারকের বিষয়ে আপিল করবো। একজন ভয়ানক বিচারক পেয়েছি আমরা। প্রসিকিউটররা সবাই ডেমোক্রেট। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য তিনি (বাইডেন) এসব করেছেন। কিন্তু জনগণ সত্যটা দেখেছে। জরিফে আমার পক্ষে জনমত বাড়ছেই। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দান করছেন তারা।

এক পর্যায়ে তিনি জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, আপনার ছেলে তো অভিযুক্ত। দায়িত্ব থাকা অবস্থায় যা যা করেছেন তার সবটার জন্য তিনি অভিযুক্ত হবেন। তিনি একজন ক্রিমিনাল। কিন্তু আমি অন্যায় করিনি। আমাদের জালিয়াতির একটি সিস্টেম আছে। এ সময় তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন বাইডেন।

বলেন, যারা ক্যাপিটল হিলে হামলা করেছিল তাদের বিষয়ে কি নিন্দা জানাবেন আপনি! বাইডেন বলেন, এই ব্যক্তি (ট্রাম্প) অভিযুক্ত। ক্যাপিটল হিলের ঘটনা বন্ধে তিনি কিছুই করেননি।

ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ কখনোই হতো না। বাইডেন বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় একটি সীমান্ত চুক্তি করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে তার প্রশাসন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তিনি মায়েদের কাছ থেকে বাচ্চাদের আলাদা করেছেন। তাদেরকে খাঁচায় ভরেছেন। তাদের পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন। সেই অবস্থার একটি সমাধান বের করেছি আমরা।

যদিও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে দুই প্রার্থীরই সমান সুযোগ ছিল। বিতর্কে দুই প্রার্থী একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। তবে বাইডেনের ভূমিকায় হতাশ কয়েকজন ডেমোক্রেট সমর্থকরা দাবি তুলেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী পরিবর্তনের। কেউ কেউ বলছেন আগামী নভেম্বরে এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন আর প্রার্থী পরিবর্তন করে সুবিধা হবে না।

তারা বলছেন, বিতর্কে ট্রাম্পের মিথ্যা কথাগুলোর পাল্টা জবাব দিতে পারেননি বাইডেন। এমনকি নিজের লক্ষ্য কী, তিনি দেশের জন্য কী কাজ করেছেন, তা সুস্পষ্টভাবেও ব্যাখ্যা করতে পারেননি বর্তমান এই প্রেসিডেন্ট।

ডেমোক্রেট পার্টির এক আইনপ্রণেতা একে ‘বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই আইনপ্রণেতা বলেন, ট্রাম্পকে দেখে মনে হয়েছে, তিনি যুক্তি খণ্ডনের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন, যদিও তিনি ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে মিথ্যা বলে গেছেন। বাইডেনের কথাবার্তা অস্পষ্ট ছিল। আরেক আইনপ্রণেতা মনে করেন, বাইডেন ধীরে ধীরে ভালো করছিলেন, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।

ডেমোক্রেটদের মূল উদ্বেগের জায়গাটি হলো, অন্যান্য সময়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন ট্রাম্প। আরেত আইনপ্রণেতা সিএনএনকে বলেন, ‘আমি মনে করি, বিতর্কের প্রথম ১৫ মিনিটের তুলনায় পরে বাইডেন ভালো করছিলেন। তবে আমার আশা ছিল, জো আরও অনেক দৃঢ়তার সঙ্গে তাকে (ট্রাম্প) মোকাবিলা করতে পারবেন।’

এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও স্বীকার করেছেন, বাইডেন ধীরগতিতে শুরু করেছিলেন। তবে তার দাবি, ‘বাইডেন পরে দৃঢ়ভাবেই বিতর্ক শেষ করতে পেরেছেন।’

বাইডেনের প্রচারণা শিবিরের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত কয়েক দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠান্ডা লাগায় তার কণ্ঠস্বরে সমস্যা হয়েছে। বাইডেনের প্রচারণা শিবির শুরুতে তার ঠান্ডা লাগার কথা প্রকাশ করেনি। বিতর্ক শুরু হওয়ার ৪৫ মিনিটের মাথায় তারা সাংবাদিকদের এ কথা জানায়।

পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনীতি, সীমান্ত ইস্যু, সামাজিক নিরাপত্তা, চাইল্ড কেয়ার, কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনা এবং গর্ভপাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার সময় তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন এবং পরস্পরকে তীব্র বাক্যবাণে জর্জরিত করার চেষ্টা করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি সামলানো, পররাষ্ট্র নীতির রেকর্ড ও ব্যাপক সংখ্যক অভিবাসীর বিষয়ে বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আদালতে সম্প্রতি ট্রাম্পের সাজার প্রসঙ্গ তুলে মি. ট্রাম্পকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন।

দেশটির স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাইডেন ও  ট্রাম্পের মধ্যকার প্রথম বিতর্কটি শুরু হয়। সিএনএন আয়োজিত এই বিতর্ক আটলান্টায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বিতর্কে ট্রাম্প ৪০ মিনিট ১২ সেকেন্ডের মতো কথা বলেছেন। অপর দিকে বাইডেন কথা বলেছেন ৩৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড।

খবরে বলা হয়েছে, বাইডেনের এমন বিতর্কে অনেক ডেমোক্র্যাট সমর্থকই হতাশ। ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পকে জোরালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি বাইডেন। এ সুযোগে ট্রাম্প অনর্গল মিথ্যা বলে গেছেন। অনেকে এটিকে বাইডেনের জন্য হতাশার রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এইদিন ট্রাম্প বিতর্কের শুরুতে বলেছেন, আমি আসলে জানিনা বাইডেন বাক্যের শুরুতে কী বলেছেন। আমার মনে হয়না তিনিও বুঝতে পেরেছেন। আমরা তার প্রেসিডেন্সিকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিন বাইডেন ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, এই মঞ্চে একমাত্র সাব্যস্ত ব্যক্তি যার দিকে এখন আমি তাকিয়ে আছি। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটাল হিলে হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আপনি অনেক নির্দোষ মানুষের জীবন ধ্বংস করেছেন। তবে এ নিয়ে ট্রাম্প মিথ্যা বলেছেন বলে টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যদিও এর জবাবে বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পের এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।

এদিকে বাইডেনের বিতর্ক নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, হ্যাঁ শুরুটা ধীরগতি ছিল তবে শেষটা জোরালো হয়েছে। টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন বাইডেন ছোট এবং ধীর গতিতে মঞ্চে আসেন। তাকে বিতর্ক করার সময় প্রায় ডেস্কে হাত ধরে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিতর্কের সময় নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের জবাব না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবিসির স্পেশাল করেসপন্ডেন্ড কেইটি কে লিখেছেন, এবারের বিতর্কের ফরম্যাট ছিলো আমেরিকানদের জন্য তুলনামূলক ভালো। তবে সঞ্চালকরা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেননি এবং এটা ছিল জো বাইডেনের জন্য একটি খারাপ রাত।

তার অনেক জবাবই পরিষ্কার ছিলো না। তাকে বয়স্ক মনে হচ্ছিল। তবে বিতর্কের দ্বিতীয় ধাপ তার জন্য কিছুটা ভালো ছিল এবং তিনি কিছুটা শক্তি পেয়েছিলেন। তবে এটা হতে হতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছেন।

এদিন বিতর্কের সময় বাইডেনের কণ্ঠ খসখসে শোনাচ্ছিল। তবে এ নিয়ে তার প্রচার দল বলেছে,  গত কয়েকদিন ধরে বাইডেনের ঠাণ্ডা লাগার কারণে কণ্ঠ এমন শোনাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান স্টেফাইন মারফি বিবিসিকে বলেছেন,  কিছু মুহূর্ত ছিল যেখানে বাইডেন তার বয়স তুলে ধরেছেন। তাকে বোঝাটা কষ্টসাধ্য ছিল।

কিন্তু অন্যদিকে তার মতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু মন্তব্য করেছেন যা ‘সত্যি নয়’ এবং এগুলো সত্যতা যাচাই করা উচিত। তিনি বলেন তার উদ্বেগের জায়গা হলো নির্বাচনের ফল গ্রহণ করবেন কিনা তা বলতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনীহা দেখিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান রোডনি ডেভিস বলেছেন বিতর্কটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিষ্কার জয়। আমেরিকাজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য দুঃখজনক যে বিতর্কের ধরণটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সহায়তা করেছে, বলেছেন তিনি।

বিবিসির ম্যাডেলাইন হ্যালপার্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর কোরউইন স্মিডট বলেছেন,  বাইডেন তার অনেক দুর্বলতা দেখিয়েছেন এবং খুব বেশি শক্তির জায়গা দেখাননি।

ভিজুয়াল, কণ্ঠ ও জবাব দেয়ার গতির কারণে তাকে অনুসরণ করাটা কঠিন ছিল। অনেক তথ্যভিত্তিক জবাব ও পয়েন্ট প্রেসিডেন্ট বাইডেন দিয়েছেন। কিন্তু বলার ধরণের কারণে সেগুলো দ্রুত হারিয়ে গেছে, বলছিলেন তিনি। তাই বাইডেনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বানও জোরালো হচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026