বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭

সেবায় আমূল পরিবর্তন এসেছে শাহজালাল বিমানবন্দরে

সেবায় আমূল পরিবর্তন এসেছে শাহজালাল বিমানবন্দরে

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের চিত্র পুরোই বদলে গেছে। ফ্লাইট অবতরণের অল্প সময়ের মধ্যেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে।

বেল্টে যাওয়ার আগেই লাগেজ পৌঁছে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফ্রিতে টেলিফোনে কথা বলতে পারছি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য ওয়াইফাই সংযোগও ফ্রি।

আর বিমানবন্দরে কর্মরত সবাই প্রবাসীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথাও বলছেন। যা আগে ফ্লাইট থেকে বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো। এরপর লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এর সামনে সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেন বলেন, ‘চাকরির সুবাদে দীর্ঘ ১০ বছর জেদ্দায় থাকি। প্রতি বছরই ছুটিতে দেশে আসি।

সব সময়ই লাগেজ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় লাগেজ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এবার যাত্রীদের তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। এমনকি ইমিগ্রেশন পুলিশের যেসব সদস্য আগে গোমড়া মুখ করে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতেন, এখন তাদের ব্যবহার খুবই আন্তরিক।

আক্তার হোসেন এর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন গাজীপুরের সাইফুল আলম। তিনিও বিমানবন্দরের নাগরিক সেবায় সন্তুষ্টির কথা জানান।

সাইফুল আলম বলেন, দেশে ফিরে অনেক প্রবাসীর কাছে সিম থাকে না। পরিবারের কেউ বিমানবন্দরে এলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা খুঁজে বের করতে কষ্ট হতো। এখন দেখলাম, বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা স্থানে টেলিফোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কেউ টেলিফোন ব্যবহার না জানলে সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করছেন। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাই আছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এমন আন্তরিকতা আগে দেখেনি কেউ।

বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা স্থানে টেলিফোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ টেলিফোন ব্যবহার না জানলে সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করছেন। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাই আছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এমন আন্তরিকতা আগে দেখেনি কেউ।

বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, গত আগস্ট থেকে বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় যে পরিবর্তন লেগেছে, তা যেন অব্যাহত থাকে।

সে জন্য প্রায় প্রতিদিনই বিমানবন্দর পরির্দশন করি। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলি, যাতে তারা যাত্রীদের পর্যাপ্ত সেবা দেন।

তিনি বলেন, এছাড়া সবাইকে বলেছি, যাতে তারা যাত্রীদের তথা প্রবাসীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। একদিন আমি পরিচয় গোপন রেখে যাত্রীদের সঙ্গে ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ, চেকিং কার্যক্রম পরির্দশন করেছি।

দেখেছি, বিমানবন্দরের সেবায় প্রায় সব যাত্রী সন্তুষ্ট। এখন শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিশ্বমানের সেবা পাবেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন ফেনীর মাহবুব আলম। ফ্লাইট থেকে নেমে দ্বিতীয় টার্মিনাল দিয়ে বের হতে তার সময় লেগেছে ৩০ মিনিট।

মাহবুব আলম বলেন, সাধারণত প্লেন থেকে নামার পর ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহসহ অন্য ফর্মালিটি মেনে বের হতে গড়ে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। আজ কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই বিমানবন্দর থেকে বের হতে পেরেছি। ইমিগ্রেশন শেষ করে বেল্টে আসার পরপরই লাগেজ পেয়েছি। আবার বিমানবন্দরের ভেতর থাকা ফ্রি টেলিফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছি।

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কল সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। এখন দেশের যে কেউ কল সেন্টারে (০৯৬১৪-০১৩৬০০) যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারছেন।

এছাড়া যাত্রীসেবা বাড়াতে একই দিন একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ কল সেন্টারে বিমানবন্দর-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানা যায়।

আর পোর্টালে কাস্টমস ডিউটি অফিসারদের নামের তালিকা, ইমিগ্রেশন পুলিশের সেবা, নিরাপত্তা সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার তথ্য, হুইলচেয়ার সেবা, ব্যাংকিং ও মানি এক্সচেঞ্জ সেবা, জরুরি প্রয়োজনে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত সব কর্মকর্তার ফোন নম্বর, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেবা, কোন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার কোন উড়োজাহাজ কখন ছেড়ে যাবে, কখন এসে পৌঁছাবে তা ঘরে বসেই জানতে পারছেন যাত্রীরা। তবে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে এসব সেবার প্রচার বেড়েছে। আর বিমানবন্দরে কর্মরত সবার ব্যবহারেও পরিবর্তন ঘটেছে।

এছাড়া সবাইকে বলেছি, যাতে তারা যাত্রীদের তথা প্রবাসীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। একদিন আমি পরিচয় গোপন রেখে যাত্রীদের সঙ্গে ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ, চেকিং কার্যক্রম পরির্দশন করেছি। দেখেছি, বিমানবন্দরের সেবায় প্রায় সব যাত্রী সন্তুষ্ট।- বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া

উল্লেখ্য, শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তাদের রদবদল হয়।

মূলত তখন থেকেই বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা বাড়তে থাকে। এখন এই ধারা অব্যাহত রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026