মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান এবং যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও আলী আযমের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সংবাদকে ‘ফেইক’ বলে দাবি করেছেন সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইটস এ ফেক নিউজ।
আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। আমাকে সরকার যে টেলিফোন দিয়েছে সেটা আমি ব্যবহার করি না। আমি আগের নম্বরই ব্যবহার করছি।
নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে প্রকাশিত স্ক্রিনশট নিয়ে তিনি বলেন, আমার মোবাইল হলো স্যামসাং। তারা যেটা শো করেছে সেটি হলো আইফোন। আইফোন কি আমি ব্যবহার করি? আমি ব্যবহার করি স্যামসাং। উনারা কে কি দেখাল ওনাদের জিজ্ঞেস করবেন। আমি এটার বিষয়ে কিছুই জানি না।
এ বিষয়ে মানহানির মামলা করবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে বলবো-যারা এই নিউজ করেছেন তাদেরকে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দেই। রাস্তার লোক অনেক কথা বলতে পারে, তাই বলে আমি কি তার পেছনে দৌঁড়াবো? কখনই না।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিসি নিয়োগে লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আজ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ডিসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি, আমার টাকা-পয়সার প্রতি লোভ নেই, ৫ কোটি হলেই চলবে’ শিরোনামে ওই সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই সারাদেশে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সংবাদ প্রকাশের পর দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোখলেস উর রহমান। তার দাবি, সারা দেশে জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে লেনদেনের অভিযোগ সংক্রান্ত যে সংবাদ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সেটি সত্য নয়।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান, যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও আলী আযম সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে হোয়াটসঅ্যাপে ডিসি নিয়োগ নিয়ে কথোপকথন ও বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তথ্যও প্রকাশিত হয়।
Leave a Reply