মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৩

সূর্যের আলো

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূর্যের আলো’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

সূর্যের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবীতে দিন শুরু হয়। আবার সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় হতে অন্ধকার হয়ে রাত নেমে আসে। নামাজের সময় নির্ধারণেও সূর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর হতে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফাজরের কোরআন পাঠও। কারণ ভোরের কোরআন পাঠ সাক্ষীস্বরূপ।’ (সুরা ইসরা : ৭৮)।

আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)-কে সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পরে অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর প্রশংসা করার জন্য বলেছেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং রাতে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, আর দিনের প্রান্তসমূহে যাতে তুমি সন্তষ্ট হতে পারো।’ (সুরা ত্বহা : ১৩০)।

চাঁদ-সূর্য আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির অন্যতম সৃষ্টি-নিদর্শন। এসব দেখে মানুষ অজান্তেই বলে ওঠে- সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কত সুন্দর!

সূর্য মহান আল্লাহর কুদরতের নিদর্শনাবলির একটি। তিনি তাঁর এই সৃষ্টিকে পৃথিবীর জীবজগতের অস্তিত্বের চাবিকাঠি বানিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে তিনি তাঁর এই সৃষ্টির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে এর শপথ করেছেন।  ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ সূর্যের ও তার (উজ্জ্বল) কিরণের, শপথ চন্দ্রের, যখন ওটা সূর্যের পর আবির্ভূত হয়। শপথ দিনের, যখন তা সূর্যকে উদ্ভাসিত করে, শপথ রাতের, যখন তা সূর্যকে ঢেকে নেয়, শপথ আকাশের এবং যিনি ওটা নির্মাণ করেছেন তাঁর। শপথ পৃথিবীর এবং যিনি ওকে বিস্তৃত করেছেন তাঁর।’ (সুরা : শামস, আয়াত : ১-৬)

মহান আল্লাহর এই নিয়ামতের মাধ্যমে আমরা যেমন আলো পাই, দিন ও মাসের হিসাব রাখতে পারি, সময়ের হিসাব রাখতে পারি; তেমনি এটি আমাদের জ্বালানি চাহিদা পর্যন্ত মেটাতে সক্ষম। সুবহানাল্লাহ!

তা ছাড়া পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণী, গাছপালা, তরুলতা ইত্যাদি বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলো ও তাপের প্রয়োজন আছে। এ কারণেই হয়তো মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মানবজাতিকে জানিয়েছেন যে তিনি চন্দ্র-সূর্যকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ্ত, চন্দ্রকে করেছেন আলোকময় আর তার (হ্রাস-বৃদ্ধির) মানজিল সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছর গুনে (সময়ের) হিসাব রাখতে পারো।

আল্লাহ এটা অনর্থক সৃষ্টি করেননি, তিনি নিদর্শনগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত: ৫)

এই আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ্ত।’বাস্তবেও সূর্য বিশাল এক অগ্নিগোলকের নাম। নাসার তথ্যমতে, এক সেকেন্ডের প্রতি ১.৫ মিলিয়ন ভাগ সময়ে সূর্য যতটুকু শক্তি বিকিরণ করে, তা সব মানুষের সারা বছরের ব্যবহৃত শক্তির চেয়েও বেশি।

যদি কোনো কারণে মাটির নিচের মজুদ তেল, গ্যাস, কয়লা, পেট্রলসহ সব জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখনো পৃথিবীর জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য সৌরশক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা আসে সূর্যের আলো থেকে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026