বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪

আমি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার, গার্ডিয়ানকে টিউলিপ

আমি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার, গার্ডিয়ানকে টিউলিপ

বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী ও হ্যাম্পস্টেড-হাইগেট আসনের লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

টিউলিপ বলেন, বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই। তার দাবি তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার এবং বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতির মামলার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ১১ আগস্ট ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে টিউলিপসহ আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

টিউলিপের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে মা, ভাই ও বোনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা ‘পুরোপুরি অবাস্তব’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

টিউলিপ বলেন, আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাইনি। আমাকে কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে এক প্রহসনের বিচারে বসানো হচ্ছে, অথচ অভিযোগ আসলে কী, তা আমি জানিই না।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে টিউলিপের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার বিচার হবে। যদিও ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।

গত বছর জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার টিউলিপকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। অর্থনৈতিক সংস্কার ও সিটি অব লন্ডনের আর্থিক খাত পুনর্মূল্যায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন।

কিন্তু একই সময়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে বাংলাদেশে ১৫ বছর শাসনের পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। শত শত মানুষের মৃত্যু ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারত পালিয়ে যান। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টিউলিপের নাম ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি’ তার জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। অজ্ঞাত কিছু ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ হতে শুরু করে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রুশ চুক্তি থেকে তিনি ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।

২০১৩ সালের একটি ছবিতে হাসিনা, পুতিন ও টিউলিপকে একসঙ্গে দেখা যায়। যা ওই অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্দিক বলেন, তিনি তখন মস্কোতে বেড়াতে গিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।

পৃথক আরেক অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে লন্ডনের কিংস ক্রসে টিউলিপ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি তার গডফাদারের ছিল, যিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অতীতে বাবা-মায়ের ভুল স্মৃতির কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন যে, তার বাবা-মা ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন।

এছাড়া, ক্রিকলউডে নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন একজন বাংলাদেশি ডেভেলপারের বাসায় থাকছেন- এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিদ্দিক জানান, নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে হঠাৎ স্থানান্তরিত হতে হয় এবং তিনি বাজারদরে ভাড়া দিয়েছেন।

বিতর্ক থামাতে তিনি নিজেই মন্ত্রীসভার আচরণবিধি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে যান। দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে ম্যাগনাস জানান, সিদ্দিক আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি, তবে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে আসা ‘সম্ভাব্য ভাবমূর্তির ঝুঁকি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত ছিল।

স্টার্মারের সমর্থন সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে সরকারের কাজে বিভ্রান্তি না আসে। স্টার্মার তাকে ভবিষ্যতে ফেরার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশে প্রতিশ্রুত নির্বাচন এখনো হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জন্য আইনজীবীরা সহিংসতা, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। টিউলিপ ব্রিটেনে সফররত ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

অন্যদিকে, ব্রিটেনের অপরাধ দমন সংস্থা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের লন্ডনের সম্পদ জব্দ করেছে, যার একটি বাড়িতে টিউলিপের মা থাকতেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সত্য কথা হলো, আমি ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও আমার খালার বিরোধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র। বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026