বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১

ব্রিটেনে হোটেল থেকে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছেন অভিবাসীরা

ব্রিটেনে হোটেল থেকে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছেন অভিবাসীরা

ব্রিটেনে ছোট ছোট বোটে যাওয়া অভিবাসীদের আবাসনের ধরন পাল্টে গেছে। এতদিন পর্যন্ত যেসব মানুষকে অভিবাসী হোটেলগুলোতে রাখা হতো, এখন তাদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আবাসিক এলাকায়- শান্ত উপশহর, ঐতিহাসিক বাজারশহর, এমনকি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বাড়িগুলোতেও।

সমালোচকরা এ নীতির নাম দিয়েছেন- ‘অপারেশন স্ক্যাটার’। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল লিখেছে, নুনইটন শহরের একটি সাধারণ টেরেস বাড়িতে থাকেন আফ্রিকান তরুণ মোহাম্মদ কামারা। মাত্র ২০ বছর বয়সে গিনির নিজ দেশ ছেড়ে মরক্কো ও স্পেন ঘুরে ফ্রান্স হয়ে ছোট বোটে করে তিনি পৌঁছান ব্রিটেনে।

এখন তিনি আরও সাতজন তরুণের সঙ্গে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। প্রত্যেকের জন্য ছোট কক্ষ থাকলেও রান্নাঘর আধুনিক, বসার ঘরটিও বড়। মোহাম্মদ বলেন, আমি হোটেলে থাকার চেয়ে এখানে থাকতে পছন্দ করি। প্রতিবেশীরা ভালো ব্যবহার করছেন। দিন কাটে হেঁটে বেড়িয়ে। আমি ইংল্যান্ডেই থাকতে চাই।

কিন্তু স্থানীয় মানুষদের ক্ষোভ বাড়ছে। দুই আফগান অভিবাসীর বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নুনইটনে। স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েদের নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

অন্যদিকে অনেক বাড়ির মালিক মোটা অঙ্কের ভাড়া পাওয়ার আশায় পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে এসব বাড়ি অভিবাসীদের জন্য হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন বা এইচএমও বা বহুমুখী ভাড়াবাড়িতে রূপান্তর করছেন।

এতে ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে, স্থানীয় পরিবারগুলো আবাসন সংকটে পড়ছে। হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্য বলছে, শুধু নুনইটনেই বর্তমানে ২৭৪ জন অভিবাসী বাড়িঘরে বা এইচএমও’তে বাস করছেন।

দুই-তিন বছর আগে সংখ্যাটা ছিল শূন্য। বার্নলি ও পেন্ডল শহরগুলোতেও হোটেলে নয়, সরাসরি আবাসিক এলাকায় শত শত অভিবাসীকে রাখা হয়েছে। সিরীয় শরণার্থী মাহমুদ আহমেদ বার্নলিতে তিন সঙ্গীর সঙ্গে থাকেন। তিনি বলেন, আমাদের সপ্তাহে ৪৯ পাউন্ড ভাতা দেয়া হয়। কাজ করতে পারি না। ইংরেজি শেখার ক্লাস পাই। কিন্তু জীবন কঠিন।

সমালোচকেরা বলছেন, এই নীতি স্থানীয় মানুষের জন্য বাড়ি পাওয়া কঠিন করে তুলছে এবং সমাজে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তবে সরকার দাবি করছে, হোটেলের বিলাসবহুল খরচ কমিয়ে এভাবে সমাজের ভেতরে অভিবাসীদের ছড়িয়ে দিলে সমস্যা কম দৃশ্যমান হবে।

একদিকে নতুন আগত তরুণ অভিবাসীরা বলছেন তারা শান্তিতে থাকতে চান, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষ আতঙ্ক আর ক্ষোভে বলছেন- আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়া হচ্ছে, নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026