শীর্ষবিন্দু নিউজ: এরশাদকে বাদ দিয়ে গঠন করা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যে তামাশা হচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। এ ঘটনার কারণে ইতিহাসে একদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন আমলকে ম্যাড প্রশাসন বলা হবে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে গুলশানের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাজী জাফর আহমদ এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, এস এম এম আলম, সাংসদ নওয়াব আলী আব্বাস খানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ সংবিধানের ‘ম্যাড পার্লামেন্ট’র কথা উল্লেখ করে কাজী জাফর আহমদ বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে যে তামাশা হচ্ছে তা ইতিহাসে ‘ম্যাড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিউরিং দ্য টেনিউর অব অফিস অব প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা বলা হবে। কাজী জাফর বলেন, ১৫১ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তাঁরা সরকার গঠন করতে পারেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির আছে বলে আমার জানা নেই। যেখানে সরকার ও বিরোধী দল একাকার হয়ে গেছে। তার চেয়ে বড় কথা বিরোধী দলকে জেতানোর জন্য সরকারি দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
নির্বাচনের প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি একই অবস্থানে অটল আছে বলে দাবি করেন কাজী জাফর। তবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে অবস্থান ঘোলাটে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এরশাদ এখন বন্দী আছেন। তাই তাঁর সম্পর্কে এখন কোথাও কোনো কথা বলতে চাই না। কাজী জাফর বলেন, এরশাদের জাতীয় পার্টির একদিকে নেতৃত্বে আছেন এরশাদ, আরেক দিকে তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ। এক দলের অবস্থান সরকারের পক্ষে, আরেক দল বিরোধী দলের পক্ষে। তিনি বলেন, তাঁরা যদি কোনো একসময় আবার এক হন, তাহলে জাতি হতাশ ও ব্যথিত হবে। তবে এরশাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী জাফর নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে সব দলকে ডেকে সমাধানের একটি সূত্র বের করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নইলে অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি রাজনীতিবিদদের হাতের বাইরে চলে যেতে পারে এবং অসাংবিধানিক কিছু ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।