শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৫

বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি হবে

বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি হবে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রাজধানীমুখী জাতীয় পতাকা হাতে গণতন্ত্রের জন্য অভিযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকার বাধা দিতে পারে- আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার কর্মসূচি করতে না-ও দিতে পারে। অবরুদ্ধ করে রাখতে পারে। এমনটি করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ, কঠিন ও করুণ। সরকারকে বলবো, সাহস থাকলে কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। আমাকেও বাধা দেবেন না। বাধা দিলে বুঝবো সরকার কত দুর্বল।

বড়দিন উপলক্ষে গত রাতে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে খালেদা জিয়া একথা বলেন। পাশাপাশি তফসিল স্থগিত করে আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান।

সরকারকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, দেশের কল্যাণ চাইলে জেদ ও প্রতারণা ছেড়ে তফসিল স্থগিত করে নতুন করে আলোচনা করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সংবিধান সংশোধন করে, সংসদ ভেঙে দিয়ে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের যে ফর্মুলা দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অবরোধের সময় গাড়িতে আগুন ও হত্যার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা বাস পোড়াচ্ছে, বাসের ভেতরে মানুষ রেখে জ্বালিয়ে দিচ্ছে আর বলছে আমাদের নেতারা করছেন। এটা নতুন নয়, এই জিনিস অনেক আগেই থেকেই তারা করে। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪টি আসনে নির্বাচিত হয়ে গেছে। বাকি ১৪৬টি আসনে নির্বাচনের প্রয়োজন কি?

এসব বাদ দিয়ে গণতন্ত্রের পথে আসতে হবে, সংবিধানের পথে আসতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গুম ও মানুষ খুনে বিশ্বাসী। সাতক্ষীরায় মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে গরিব মানুষদের ঘর ভেঙে দেয়া হচ্ছে। মেয়েদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। পিলখানায় অনেক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই সরকার গুম ও হত্যায় বিশ্বাসী। সরকার কি মানুষ রক্ষা করবে- না মানুষ মারবে? সরকার কি শুধু মানুষ হত্যা ও লুটপাটের জন্য ক্ষমতায় এসেছে? তিনি বলেন, বড়দিনের আনন্দ যেভাবে পালন করা উচিত ছিল সেভাবে হয়নি। যে কোন কারণেই হোক মানুষের মনে আনন্দ নেই।

খালেদা বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশী। সামনের দিনগুলো আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার প্রশ্ন। ২৯শে ডিসেম্বর আপনারা যে যেখানে আছেন ঢাকায় চলে আসবেন। আমরা সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মসূচি পালন করবো। যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে এই সরকার দুর্বল ভীতু বলে প্রমাণ হবে। খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা দেখছেন আজ দেশের কি অবস্থা। এখানে আরও অনেক নেতৃবৃন্দ আসার কথা  ছিল। তারা আজ আসতে পারেননি। আপনাদের অনেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর নাম কি গণতন্ত্র? সরকার শুধু মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন তারা ভাগ-বাটোয়ারা করবেন। উনারা ক্ষমতায় আছেন ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার জন্য। দেশটা যেন আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ২৯শে ডিসেম্বর আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আহ্বান করেছি। সেখানে সকল ধর্মের, সকল মতের মানুষেরা অংশ নেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ বলে তারা জনগণের দল। তারা জনগণকে ভয় পায়। গণতন্ত্রকে ভয় পায়। জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। দেশে আজ কাজের অভাব, বিনিয়োগ নেই। মানুষ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়। আর সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও তাদের লোকেরা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তারা যে হিসাব দিয়েছে তা সঠিক নয়। আংশিক হিসাব তারা দিয়েছে।

এ জন্য তারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারছে না। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করছে। আজ প্রার্থীহীন নির্বাচন করছেন। নির্বাচন কমিশন কোন ভূমিকাই রাখতে পারছে না। এটি একটি ব্যর্থ, মেরুদণ্ডহীন ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। সরকার যদি দেশকে ভালবাসেন, দেশের মানুষকে ভালবাসেন তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল বাতিল করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। তারা যে অপরাধ করছে জনগণ তাতে ক্ষুব্ধ। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।  জনগণের ভোটে তারা সরকার গঠন করার সুযোগ পাবে না।  তিনি খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের নেতাদের বিএনপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা বিএনপিতে যোগ দিন। আপনাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া হবে।
খালেদা জিয়ার বাসভবনে পুলিশি নিরাপত্তা

আগামী ২৯শে ডিসেম্বর রাজধানী অভিমুখী ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণার পর বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘিরে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। মঙ্গলবার মধ্যরাতেই সেখানে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। গতকাল সকাল থেকেই বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে গৃহবন্দি করা হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। দুপুর থেকে তার বাসভবনে যাওয়ার চেষ্টা করেন দলের একাধিক সিনিয়র নেতা। তাদের কেউ পুলিশি বাধায় ফিরে গেলেও গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজনকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিনকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ।

তবে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে গাড়িতে করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যান তিনি। একই ভাবে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খান দুপুর আড়াইটার দিকে খালেদা জিয়ার বাসভবনে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশের কর্মকর্তা তাকে অপেক্ষা করার কথা বলেন। কিছু সময় পর দ্রুত গাড়িতে করে চলে যান তিনি। সন্ধ্যায় গিয়েছিলেন সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ৬টা ২৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এমপি শাম্মী আক্তার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাফসির আউয়ালসহ কয়েকজনকে। আটক করে ছেড়ে দেয়া হয় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাংবাদিক শফিক রেহমানকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয় কয়েকজন সাংবাদিক নেতাকে।

এর আগে রাতে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন খালেদা জিয়া। সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে তিনি বাসভবন থেকে বের হয়ে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। পাঁচ দফা অবরোধে সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হত্যা, হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে থানা, উপজেলা, জেলা ও মহানগরে বিরোধী জোট এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ওদিকে মঙ্গলবার রাতে বাংলামোটরে পেট্রল বোমায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় গতকাল দুপুরে রমনা থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ ১৮ দলীয় শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েকজনকে। এদিকে ‘একতরফা’ নির্বাচন প্রতিহত করতে ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত ও সহযোগিতা চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) দু’টি চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে ফ্যাক্সযোগে চিঠি দেবে বলে জানিয়েছে দলটি। সংশ্লিষ্ট চিঠি পৌঁছে দিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সকালে ডিএমপির কার্যালয়ে যান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026