শীর্ষবিন্দু নিউজ: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না বিএনপিতে। তবে স্থায়ী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক পদে রদবদল হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দলীয় সূত্র। সম্প্রতি সরকার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তরিকতার পরীক্ষায় বিএনপির সব নেতাকর্মী উত্তীর্ণ হয়েছে বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতারা।
সূত্রমতে, মহাসচিব পদে পরিবর্তনসহ কেন্দ্রীয় কমিটি আমুল পাল্টে ফেলার খবর দলীয় পরিমণ্ডলে আলোচিত হলেও কার্যত সে পথে হাঁটবেন না দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। তবে সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেককেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ইচ্ছা আছে তার। ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মুক্তি পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ১৯ দলের আন্দোলনের সফলতা ও নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
এর কয়েকদিন পরে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়া তার গুলশান অফিসে আরেকটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও ঢাকা মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা ছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করায় প্রায় সবারই প্রশংসা করেন খালেদা। তবে যারা আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে পারেননি তারা দাবি করেন, পুলিশের বেপরোয়া গুলিবর্ষণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি, রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে গ্রেফতারের ভয় ইত্যাদি কারণে তারা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হননি।
শুধু ঢাকা নয় সারাদেশের সব নেতাকর্মীই দলের আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে মনে করেন খালেদা সহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা মনে করছেন, সরকার একতরফা নির্বাচনের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপিকে ভেঙে বিএনফসহ বিভিন্ন দল তৈরির পায়তারা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। এতেই বোঝা যায়, বিএনপি নেতারা দলের প্রতি, খালেদা জিয়ার প্রতি এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি অনুগত রয়েছেন।
এ কারণে নির্বাচনের পর দলের মধ্যে পরিবর্তনের ব্যাপারে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেলেও এ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে আগামীতে বিএনপির যে কাউন্সিল হবে, সে কাউন্সিলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে মহানগর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগর কমিটি করার জন্য একটা প্রস্তুতি কমিটি করার কথা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ কমিটি করা হয়নি। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামকে কেন্দ্রীয় একটি সম্পাদকীয় পদ দিয়ে সেখানে দায়িত্বশীল কাউকে বসানোর চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
গ্রেফতার, নির্যাতন, হামলা, মামলা, বিপর্যয়, টানা আন্দোলননের পরও যদি দলের মধ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয় তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এমনকি দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই পরিবর্তনের ব্যাপারে তড়িঘড়ি করতে চাইছেন না সিনিয়র নেতারা।
এছাড়া সংস্কারন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহদে, সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল, অধ্যাপক রেজাউল করিমসহ আরো যে সব নেতা এখনও দূরে সরে রয়েছেন তাদেরও দলের মূল ভূমিকায় আনা হবে। তবে আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতার ওপর খালেদা জিয়ার ক্ষোভ আছে বলে জানা গেছে। এ জন্য ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্বে কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। ইতোমধ্যেই এসব পদে কাকে আনা যায় সে ব্যাপারেও নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন খালেদা।
পাশাপাশি স্থায়ী কমিটিতে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। মৃত্যু ও অসুস্থতা জনিত কারণে ইতোমধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এসব পদে দলের সিনিয়র অন্য নেতাদের দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম। এমনকি সাদেক হোসেন খোকাকেও ঢাকা মহানগর কমিটি থেকে সরিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আনা হতে পারে। সাম্প্রতিক আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য সাবেক ছাত্র ও যুবনেতাদের ওপর খালেদা জিয়া সন্তুষ্ট। দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসব সাবেক ছাত্রনেতাকে আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।