সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২

জিয়া বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক

জিয়া বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক

সুমন আহমেদ: মেজর জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক। দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত তিনিই ছিলেন রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতার ঘোষণা যদিও রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু কেউ দিতে পারেননি। দেশের একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক হিসেবে মেজর জিয়া নিজে ড্রাফট করেছেন এবং নিজেই তা পাঠ করেছেন বলেও দাবি করেন জিয়ার বড় সন্তান ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার লন্ডন সময় বেলা ১টায় শুরু হওয়া বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় তারেক উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সংগঠনের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া-শীর্ষক এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. মুজিবুর রহমান।

তারেক তার বক্তব্যে বলেন, আজকে আমরা অনেকের বলতে শুনি শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন ৭ মার্চ। এটা কোনো বিতর্কের বিষয় না।  এটা হচ্ছে ইতিহাসের ব্যাপার, এভিডেন্সের ব্যাপার। তিনি বলেন, শেখ মুজিব যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, এর পক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে। তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন এরকম প্রমাণ কোনো দলিলে নেই। তারেকের মতে আওয়ামী লীগ ছয় দফার জন্য আন্দোলন করেছে, পাকিস্তানের ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য আন্দোলন করেছে তার প্রমাণ আছে, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেনি। ইতিহাসে তার কোনো প্রমাণ নেই। তারেক বলেন, আমরা সবাই জানি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে।

স্বাধীনতার সময়ে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে প্রচুর বিদেশি সাংবাদিক ছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ মুজিব চিরকুটের মাধ্যমে ওয়ারলেসে করে নাকি চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন। কাছের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চিরকুট না পাঠিয়ে উনি কেন তা দুইশ’ মাইল দূরে চট্টগ্রামে তা পাঠালেন? তারেক বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান কখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের ক্ষমতা ভাগাভাগি। তিনি যদি স্বাধীনতা চাইতেন তাহলে ৭ মার্চের ভাষণেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি।

তারেক রহমান বলেন, ২৫ মার্চের আগে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবের যে কয়েকদফা বৈঠক হয় তার মূল আলোচ্য ছিল পাকিস্তানের ক্ষমতা ভাগাভাগি, এই আলোচনায় স্বাধীনতার কোনো ইঙ্গিত ছিল না। তিনি বলেন, মুজিব পরবর্তী সময়ে কল্পকাহিনী ছড়িয়ে শেখ মুজিবকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করেছে আওয়ামী লীগই, এর দায় আর কারো নয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাদের ভুলে গেলে চলবে না এটি ইন্টাননেটের যুগ, ইচ্ছে করলেই বিকৃত ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া যায় না।  ইদানিং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তারেক প্রশ্ন রাখেন, তাই যদি হয় তবে আওয়ামী লীগ কেন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করে।

এসময় তিনি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয় বলে মন্তব্য করলেও বিএনপি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বিশ্বাস করে কি না, তা পরিস্কার করেননি। তারেকের বক্তৃতায় বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুই ছিল না, ছিল না পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নৃশংসতার কথা। শুধুই ছিল মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের ভূমিকা কতটুকু খাটো করা যায় এবং জিয়াকে মূল নায়ক হিসেবে কতটুকু তুলে ধরা যায় তার চেষ্টা। বক্তৃতার এক পরযায়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধ বললেও এই সরকারের বিরুদ্ধে নতুন আন্দোলনের আহ্বান অন্য বক্তারা জানালেও তারেক রহমান এড়িয়ে যান।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার বদরুদ্দোজা বাদল, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. কে এম মালেক, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম ও আহাদ নাসিম রেজা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদ হোসেন টিপু প্রমুখ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026