শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৮

সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে

সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে

আবু খালিদ: বেড়েই চলেছে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শতকরা হারে যা ১০ ভাগেরও বেশিসঠিক পর্য্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নিলে রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেকরা। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও কৃষি বিপণন অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে ।

শনিবার মহাখালী কাচাবাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রাসেল আহম্মেদ’র সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে কেনা-কাটার যে পরিকল্পনা নিয়ে বাসা থেকে বের হই বাজারে এসে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।

রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা (দেশি ৪০ টাকা), চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সজনে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পঁেপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কলমি শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাল শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, পুঁই শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নিউ সোসাইটি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আবদুল কাদের জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজরি দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

এদিকে ছোলার দাম প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০, বুটরে ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, খেসারির ৪০ টাকা, মসুর ৭৫ থেকে ১১০ টাকা, মুগ ৯০ থেকে ১২০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার (সুপার) ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা, সয়াবিন ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আদার দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নাদিদ রাইস অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ স্টোরের বিক্রেতা আফজাল জানান, গত সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম কম ছিল। আর কিছুদিন পরই শুরু হবে রমজান মাস। এ সময়ে পণ্যের দাম বাড়লে ক্রেতাদের নানা অভিযোগ শুনতে হবে। খুচরা বিক্রেতারাও চান না নিত্যপণ্যের দাম বাড়ুক।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগরে (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও বাজার বিশ্লেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে পণ্যের আমদানি ও মজুদের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কোনো বাধা আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি দরকার হলো বাজার মনিটরিং।

তিনি জানান, বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে এবং পণ্যের র্পযাপ্ত যোগান দিতে না পারলে রমজান মাসে দাম অনেক বেশি হওয়ার আশংকা।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনিতেই রমজান এলে এক ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তাই আগে থেকেই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নইলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিপণন অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৭ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত  কেজি প্রতি মসুর (দেশি ও বিদেশি) ডাল ১.৬৫ শতাংশ, ছোলার ডাল ১৮.৭০ শতাংশ, মুগ ডাল (মোটা ও সুরু) .৯২ শতাংশ, ছোলা (কলাই) ৯.৫২ শতাংশ, পাম তেল খোলা লিটার প্রতি ৮.০২ শতাংশ, পিঁয়াজ (দেশি ও বিদেশী) ৩.৩৯ শতাংশ, রসুন (দেশি ও বিদেশি) ১৫.৩৮ শতাংশ, আলু ১৫.১৫ শতাংশ, বেগুন ৫০ শতাংশ, রুই মাছ ১ কেজি থেকে ২ কেজি ৮.৩৩ শতাংশ, কাতল মাছ ৪.১৭ শতাংশ, ইলিশ মাছ (৪০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম) ১২.৫০ শতাংশ, পাংগাস মাছ গরুর মাংস ৩. ৬৪ শতাংশ, মুরগি ব্রয়লার ১০.৫৩ শতাংশ, চিনির দাম ১.১৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত মাসের চেয়ে চালের দাম প্রায় আড়াই শতাংশ কমেছে।

সূত্র আরও জানায়, শনিবার গরুর মাংস কেজি প্রতি ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা, খাসী ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, মোরগ-মুরগি ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা,  ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ডিম ৪টি (দিেশ মুরগি) ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা, ফার্ম সাদা ও লাল ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল (সরু) কেজি প্রতি ৪৬ থেকে ৫২ টাকা, মোটা ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026