জেসমিন পাপড়ি: আমাদের মধ্য থেকে ভারতীয় নাবিক রাজুকে ধরে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই গুলি করে জলদস্যুরা। নিথর হয়ে যায় আমাদের বন্ধু, সহকর্মী।
ওর লাশটি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দীর্ঘ আড়াই বছর ডিপ ফ্রিজে রেখে দেই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এক সময় জাহাজের জেনারেটর চালানোর রসদ ফুরিয়ে যায়। দস্যুদের দেওয়া জ্বালানিতে প্রতি দিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা জেনারেটর চালানো যেত। ফলে ফ্রিজের মধ্যে রাজুর লাশ পচতে শুরু করে। এক সময় দুর্গন্ধে ছড়ালে বাধ্য হয়েই ওকে সোমালিয়ার সাগরে ফেলে দিতে হয়। এভাবে প্রিয় বন্ধুকে হারানোর কষ্ট কত কঠিন সেটা কীভাবে বোঝাবো!
থেমে থেমে কথাগুলো বাংলানিউজকে বলছিলেন সোমালিয়ার জলদস্যুর হাত থেকে সাড়ে তিন বছর পর মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি নাবিক চাঁদপুরের জাকির হোসেন।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর হোটেল মেরিনোতে বসে তিনি জানান দুঃসহ দিনের কাহিনী। প্রায় ১৩শ’ দিনের প্রতিটি দিন নির্যাতিত হওয়া জাকির অকপটে বলতে পারছিলেন না সেসব কাহিনী। বেশ সময় নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি। কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁপে কেঁপে উঠছিলেন। তার চোখ মুখ বারবার অন্যরকম হয়ে যাচ্ছিল।
কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন এই নাবিক। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাদের দিয়ে প্রতিদিনই প্রচুর কাজ করানো হতো। তাদের ফরমায়েশ তো খাটতামই। কাজ শেষে সবাইকে জাহাজের ব্রিজে স্বল্প জায়গায় বসিয়ে রাখা হতো। সেদিন হঠাৎই জলদস্যুদের একজন এসে আমাদের মধ্য থেকে ভারতীয় নাবিক রাজুকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তিনটি গুলির শব্দ শুনি। এরপর ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের ক্যাপ্টেনকে। তিনি ফিরে এসে বলেন, রাজু শুয়ে আছে। পাশে অনেক রক্ত। তখনও আমরা ভাবতে পারিনি কি ঘটেছে সেখানে।
আমাদের কয়েকজনকে বলা হয়- রাজুকে নিয়ে আসতে। কিন্তু ওকে আনতে গিয়ে দেখি বুক বরাবর তিনটি গুলি করা হয়েছে। নিথর হয়ে গেছে আমাদের বন্ধু, সহকর্মী রাজু।
মাত্র তিন জলদস্যু দখল করে জাহাজটি:
জাহাজটি কীভাবে জলদস্যুদের কবলে পড়ে তা বর্ণনা করতে গিয়ে জাকির বলেন, মালয়েশিয়ান কোম্পানির জাহাজ এমভি আলবেদো নিয়ে আমরা ২৩ জন ক্রু যাচ্ছিলাম কেনিয়ার দিকে। যাত্রা শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় হঠাৎই তিনজন অস্ত্রধারী জাহাজে উঠে আসে। অন্য একজন ছিল স্পিডবোটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের মারধর শুরু করে।
তিনি বলেন, প্রথমে তিনজন এসে আমাদের জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করে ১০/১২ কিমি দূরে একটি মাছ ধরা জাহাজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে গেলেই ইরানি ট্রলার থেকে আরো সাতজন জলদস্যু জাহাজে ওঠে। তাদের কাছে থাকা একে ৪৭ রাইফেল, রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন আগ্নোস্ত্রের মুখে ওদের দেখানো ম্যাপ অনুযায়ী আমাদের জাহাজ সোমালিয়ার গভীর সমুদ্রে হারিডারো নামক স্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য হই। সেখানে গিয়ে দেখি আরো সাত-আটটি জাহাজ আছে। জানতে পারি এগুলোও জলদস্যুরা আটক করেছে।
শুরুতেই ২০ মিলিয়ন মুক্তিপণ দাবি:
জাকিরের বর্ণনায় জলদস্যুরা সদ্য রং করা জাহাজটি পেয়ে খুশিতে আটখানা হয়। প্রথম চার পাঁচদিন তারা জাহাজের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আনন্দের সঙ্গে অনেককে
জানায় যে, একটি বড় ইউরোপিয়ান জাহাজ আটক করেছে তারা।
জাকিরসহ অন্য নাবিকদের বর্ণনামতে, জলদস্যুরাও দীর্ঘদিন ধরে অভুক্ত আর ক্লান্ত ছিল। যারা জাহাজটি আটক করে তারা বিদায় নেয়, আসে নতুন ৩০ জলদস্যু। তাদের মধ্য থেকে একজনকে কমান্ডার করা হয়। আটক অবস্থার প্রায় চার পাঁচদিন পর ওরা একজন দোভাষি নিয়ে আসে। যার মাধ্যমে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে দস্যুরা। যদিও তার আগেই ক্যাপ্টেনের জরুরি বার্তার মাধ্যমে জলদস্যুদের হাতে আটক হওয়ার কথা জানতে পেরেছিলেন জাহাজের মালিক।
জলদস্যুরা শুরুতেই মালিকের কাছে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করে। মালিক তাদের কাছে কান্নাকাটি করে জানায়-এটা তার একটা মাত্র জাহাজ। অত টাকা তার নেই। তিনি তিন লাখ ডলার দিতে রাজি হন। কিন্তু তা মানতে রাজি হয় না জলদস্যুরা। দোভাষির মধ্যস্থতায় নিয়মিত চলতে থাকে দেন দরবার। তিন চার মাস পরে জানা যায়, মালিকের সঙ্গে ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ১৫দিন পরে শুনি তারা নতুন দোভাষি নিয়ে এসেছে। মুক্তির স্বপ্ন ভেঙে যায়।
পহেলা এপ্রিল ২০১১ তারিখে আসে নতুন দোভাষি। এই দোভাষিরা শুধু ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন। আবারও নতুনভাবে মালিকের সঙ্গে দেনদরবার শুরু হয়। জানানো হয় ১.২ মিলিয়নে ছাড়তে রাজি নয় তারা। মালিক জানায় কোনভাবেই মুক্তিপণ বাড়ানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
দীর্ঘদিন পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ:
নতুন দোভাষি এসেই সবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেয়। প্রত্যেকে তিন মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পায়। দীর্ঘদিন আটক আর নির্যাতনের পর পরিবারের কাছে ফোন করে তিন মিনিট ধরে কেঁদেই পার করেন অনেকে।
এর আগে একদিন জাতিতে মুসলমান সোমালিয়ান দস্যুরা নাবিকদের পাসপোর্ট দেখে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানদের আলাদা করে চিহ্নিত করে।
২৫ জুন ২০১১, রাজুকে খুন করে জলদস্যুরা:
এদিন বেশ রাগান্বিত চেহারা দেখা যায় জলদস্যুদের। ধারণা করা হয় ওপরের নির্দেশে কাউকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রথমত, ধর্মীয় পার্থক্য এবং ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে বহু সোমালীয় জলদস্যু আটক থাকার ক্ষোভ মেটাতেই তারা ভারতীয় নাগরিক রাজুকেই বেছে নেয়। রাজুকে খুন করার ভিডিও পাঠানো হয় মালিকের কাছে। এ ঘটনা জাহাজের নাবিকদের মধ্যেও ভীতির সঞ্চার করে।
মধ্যস্থতায় হাজির পাকিস্তানি আইনজীবী:
প্রতিমাসে একবার করে মধ্যস্থতাকারী দোভাষি এসে মালিকের সঙ্গে কথা বলত। এর মাঝে একদিন শুনি মালিক অসুস্থ। তার পরিবর্তে আহমেদ চেন্নাই নামে পাকিস্তানি একজন আইনজীবী সমধ্যস্থতা করছেন। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও ইরানের নাবিকরা ছিলেন। ২০১২ সালের ১১ মার্চ এই আইনজীবীর সঙ্গে ২.৮ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণের চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ১০ দিন পর সে অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যর্থ হয় মলিক। এ ঘটনায় ক্ষেপে যায় জলদস্যুরা। আমাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। পাকিস্তানি আইনজীবীকে তারা জানায় বেলা দু’টার মধ্যে মুক্তিপণ না এলে দু’জনকে গুলি করা হবে। সে কথা অনুযায়ী সেদিন বেলা দু’টোর আগে নিরোসেন এবং রাহুল নামের দু’জন নাবিকের হাত পা, চোখ বেঁধে গুলি করার প্রস্তুতিও নেয় তারা। ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনায় পাকিস্তানি আইনজীবীকে। কিন্তু আলাপচারিতা চালিয়ে যাওয়ায় সেই দুই নাবিক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। এদিনই জলদস্যুরা তৃতীয় দোভাষী নিয়ে আসে।
২০১২ সালের জুনে তিন পাকিস্তানি নাগরিক জাহাজের ক্যাপ্টেন, চিফ ও থার্ড অফিসার, শ্রীলঙ্কার নাগরিক সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাবল সিমেন পদের বাংলাদেশি আমিনুল ইসলাম, অর্ডিনারি সিমেন ভারতীয় নাগরিক আমান এবং ইরানি নাগরিক শাহরিয়ারকে জাহাজের বাইরে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর চালানো হয় অকথ্য নিযাতন। এর মাঝে জাহাজে কোন দোভাষি আসেনি। বাইরে থেকেই দেন দরবার চালাত জলদস্যুরা।
লুকোনো ডিজেল ডেকে আনে বর্বর নির্যাতন:
জাহাজে জলদস্যুরাই ডিজেল সরবরাহ করত। প্রায় ৮০ টন ডিজেল সাপ্লাই দেয় তারা। তবে দিনে মাত্র ২/৩ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে দিত। যখন মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা চলছে তখন নাবিকরা কিছুটা ডিজেল লুকিয়ে রাখে। যাতে করে জাহাজটি দ্রুত বিপদসীমা থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারেন তারা। সেই ডিজেল জলদস্যুরা দেখতে পেয়ে মারধর করে চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ বেশ কিছু নাবিককে। এ সময় তারা অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কয়েকদিন পর পর মাত্র এক লিটার পানিতে গোসল সারতে হতো তাদের। খাওয়া ছিল মাত্র একটি রুটি। এক লিটার পানি। কখনও ৩৬ ঘণ্টাও না খেয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। রোজার মাসেও সেহরি না খেয়ে রোজা থেকেছেন এসব নাবিকরা। জাহাজের খাবার শেষ হয়ে এলে কিছু কালো চাল, আলু, পেঁয়াজ এবং খোসাসহ কিছু ডাল কিনে আনতেন তারা। এ দিয়েই জীবন চলত নাবিকদের।
এসব নাবিকদের জাহাজের সুইমিংপুলে ঠান্ডা পানিতে নামিয়ে দিয়ে জলদস্যুরা ওপর থেকে প্রস্রাব করত। নানাভাবে চালাত নির্যাতন।
ছয়মাস পরে জাহাজে আনা হয় আমিনুলদের:
আমিনুলসহ বাকি ছয় নাবিককে ছয়মাস পরে জঙ্গল থেকে জাহাজে আনা হয়। জঙ্গলে তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। গরমে বালুর ঘরে আটকে রাখা হতো। রাতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে অস্ত্রের মুখে পরিবারকে ফোন করি মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ দেওয়া হতো।
কুমিল্লার আমিনুল বাংলানিউজকে বলেন, নিজের তো কষ্ট পাচ্ছি, সেই সঙ্গে এমন পরস্থিতিতে বাবা মা কি করছেন সেটা ভাবতেই মনে হতো এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। পালানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই। কারণ, যেখোনে নেওয়া হয়েছিল সেখানে অসংখ্য ঘরে আমাদের মতো নাবিকদের রাখা হয়েছে। দস্যুরা পাহারায়। যেই পালাতে যাবে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করতে প্রস্তুত তারা।
ডুবে যায় এমভি আলবেদো:
হঠাৎ একদিন ডুবে যায় নাবিকদের বহনকারী জাহাজটি। নাবিকরা সাঁতরে পাশের একটি মাছধরা ট্রলারে ওঠে। নিখোঁজ হয় চার নাবিক। এ ঘটনায় সাতজন জলদস্যুও নিহত হয়। বাকি জলদস্যুরাও একই ট্রলারে উঠে নাবিকদের নিয়ে জঙ্গলে চলে যায়। জাহাজ ডুবে যাওয়ারে পর মালিকের আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে জলদস্যুরা পরিবারের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে।
পাকিস্তানিদের মুক্তি:
এরই মাঝে একদিন পাকিস্তানি নাবিকদের মুক্তি দেওয়া হয়। জাহাজের মালিকের সঙ্গে আপস না হওয়ায় পাকিস্তানি আইনজীবী ১.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পাকিস্তানী নাবিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করে। তখন বাকি নাবিকদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়।
ফেরার আশা ছিল না কারো:
দীর্ঘ দিন দাসের মতো আটক থেকে অত্যাচারিত হওয়ার পরে দেশে ফেরার আশা ছিল না কোন নাবিকেরই। জাকির বলেন, মনে হতো এখানেই জীবন দিয়ে যেতে হবে। আর কখনো প্রিয়জনদের দেখতে পারব না। প্রিয় দেশের মাটিতে পৌঁছাতে পারব না। মুক্তি পাওয়ার জন্য জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান এসব নাবিকরা।
ফিরতে চান একই পেশায়:
নাবিকরা জানান, এ ঘটনার পরেও তারা ফিরতে চান একই পেশায়। কারণ এই পেশাতেই দক্ষ তারা। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চান নাবিকরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এমপিএইচআরপি এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) মাধ্যমে ৭ জুন বাংলাদেশের সাত নাবিককে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করে সোমালিয়া থেকে কেনিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার দেশে আনা হয় তাদের। রাখা হয় উত্তরার একটি হোটেল স্বজনদের কাছে। শনিবার তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানোরও ব্যবস্থা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এমপিএইচআরপি।
জানা যায়, মুক্তিপণ হিসেবে বাংলাদেশের সাত নাবিকের জন্য সাত কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা৷ ২০১২ সালের মাঝামাঝি তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুরুতে নাইরোবির জাতিসংঘ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সোমালিয়ার মোগাদিসুতে কর্মরত এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অপহৃতদের উদ্ধারে উদ্যোগী হন৷ তিনিই প্রথম নিশ্চিত করেন বাংলাদেশি নাবিকরা জীবিত আছেন।
২০১২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ এমপিএইচআরপিকে সাত নাবিককে উদ্ধারের অনুরোধ জানায়৷ তখন সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, টাকা ছাড়া বাংলাদেশিদের অক্ষত অবস্থায় মুক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে৷ এদিকে দর-কষাকষি করতে করতে মুক্তিপণের দাবি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে দস্যুরা। এমপিএইচআরপির সহায়তায় ওই টাকা জোগাড়ে ভূমিকা রাখে যুক্তরাজ্যের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান।
উদ্ধার হওয়া ৭ বাংলাদেশি নাবিক হলেন সাতক্ষীরার গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান, আবুল কাশেম সরকার ও নুরুল হক। চাঁদপুরের লিমন সরকার ও জাকির হোসাইন এবং কুমিল্লার আমিনুল ইসলাম।