শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাংলাদেশে বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতে শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
এক সিংহ পুরুষ ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, কিন্তু মুক্তি দিতে পারেন নাই। তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু, এই দায়িত্ব নিতে হবে তার সন্তানকে। মান্না দে’র যদি কাগজে লিখ নাম গানটি উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, অফিসে দুটি ছবি থাকে। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রীর। বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকলেও তার নাম হৃদয়ে থাকবে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকলে, আপনার নাম স্মরণ করবো কি না, ভেবে দেখতে হবে।
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকারের কথা আমরা শুনতে পারি না। অনেক সুস্মিতা তার বাবার অপেক্ষায় রয়েছে। এই অবস্থা বাংলাদেশে ছিল না, বাংলাদেশ এখন মৃত্যুপুরী। সাম্প্রতিক অপহরণ, গুম, খুনের ঘটনার অসন্তোষ প্রকাশ করে এ থেকে পরিত্রাণে সরকারকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন বিএনপিবিহীন সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান। আমরা গডফাদার চাই না। গডফাদার নিপাত চাই। আমরা মাফিয়া চাই না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী রাত ১১টার পর কমলাপুর স্টেশনে যাবেন। দেখবেন, কত মানুষ শুয়ে আছে। সকালে রাস্তার মোড়ে মোড়ে যাবেন। সেখানে মানুষ ডালা হাতে কাজের আশায় বসে আছে। বাজেট কী হল, তা বোঝে না। তারা কাজ চায়। শান্তি চায়। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ বর্তমান সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে বলেন, একজন মন্ত্রী ২০ একর জমি নিয়ে শুরু করেছিল, এখন তিন হাজার একর জমির মালিক হয়েছে। এটাকে দুর্নীতি বলব কিনা?
পুঁজিবাজারে কারসাজি এবং ব্যাংকের অর্থ লোপাটে জড়িতদের শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ট্রলার কিনেছেন। বিদেশে বাড়ি করেছেন। অনেকে মালয়েশিয়ায় বাড়ি কিনেছেন। এটা কি খুঁজে বের করতে পারি না। ফরমালিনবিরোধী পুলিশি অভিযান শুধু ঢাকায় চালানোর সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, ঢাকার মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করছেন। ঢাকার বাইরের মানুষরা কি মানুষ না?