নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,বারকিনোফাসোর ফার্স্ট লেডি চানতাল কমপাওরে এবং পাকিস্তানের কিশোরী মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফ জাইকে সাথে নিয়ে গার্লস সামিটের প্লেনারি সেশনে ডেলিগেটসদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
প্রশ্নোত্তরের আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ফিমেইল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম) এবং আর্লি ফোর্স ম্যারেজ (সিইএফএম) এফজিএম প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক সম্প্রাদায়ের প্রতি। ব্রিটিশ সরকার এই খাতে বিরাট অংকের বাজেট বরাদ্দ রেখেছে মন্তব্য করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন একটি একক রাষ্ট্রের পক্ষে একা এইসব ক্ষতিকর প্রথা বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। এফজিএম এবং সিইএফএম যে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ ডেলিগেটদের তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই এটি নিষিদ্ধ হবে, প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এই গার্ল সামিট নিশ্চয়ই এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বৈষম্য ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বসবাসের মাধ্যমে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অধিকার রয়েছে মহিলা ও মেয়েদের। কিন্তু লাখ লাখ মহিলা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রতিদিন শিকার হচ্ছে এফজিএম ও সিইএফএম এর মত ক্ষতিকারক প্রথার। নিজের ১০ বছর বয়সী মেয়ের কথা স্মরণ করে ক্যামেরন বলেন, প্রতিটি পরিবারেই কারো না কারো মেয়ে আছে, এফজিএম ও সিইএফএম এর ক্ষতিকর প্রথা থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে, আর এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রাদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই।
ক্যামেরন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন পরিস্থিতি দ্রুতই বদলাচ্ছে, এটি অবশ্যই বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্যে একটি সুসংবাদ। ব্রিটেন, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে এখন উপরোক্ত ক্ষতিকারক প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সচেতনতাকে সমর্থন ও সহযোগিতাদানে এখন প্রয়োজন বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রয়াস। এর আগে প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে দারিদ্র্য নিরসন শিক্ষা ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মেয়েদের বাল্যবিবাহ কমবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আর তার সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন ডেলিগেটসদের। তিনি জানান, নারীশিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দেওয়া হয়েছে।ভবিষ্যতে মাস্টার্স পর্যন্ত তা নিশ্চিত করার তার স্বপ্নের কথাও এ সময় জানান শেখ হাসিনা। নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে ইসলামের নাম নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে পাকিস্তানের কিশোরী মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেন, এটি যারা করেন তা তাদের নিজস্ব মতামত, ইসলামের সথে এর কোন সম্পর্ক নেই। নবী করিম (স.) স্ত্রী বিবি খাদিজার (র.) ব্যবসার কথা উল্লেখ করে মালালা বলেন, এতেই প্রমাণ হয় নারী শিক্ষা, ব্যবসা, সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ ইসলাম সমর্থন করে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য সমর্থন করে মালালাও বলেন দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মেয়েদের বাল্য বিবাহ অবশ্যই বন্ধ হবে। পাকিস্তানে নিজের এলাকা সোয়াতকে একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মালালা বলেন, ধর্মের নামে সন্ত্রাসের কারণে এই এলাকাটিও আজ বিপদসংকুল জনপদ। মালালা তার বক্তৃতায় গাজার সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আগ্রাসনেরও সমালোচনা করেন।