মান্নান মারুফ: নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীতে। দলের নাম পরিবর্তন, সিনিয়র নেতাদের রক্ষায় আন্দোলন ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনাকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সৃষ্টি হয় ক্যাডারভিত্তিক দলটিতে। ঈদের পরে আন্দোলন না নিজেদের মতবিরোধের সমাধান, তা নিয়েই এখন চিন্তিত দলটির শীর্ষ নেতারা।
দলটির সাবেক আমির অধ্যাক গোলাম আযম, আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মাওলানা আবদুস সুবহান, সেক্রেটরি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ১০ শীর্ষ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ফাঁসি হয়েছে কাদের মোল্লার।
এ কারণে দল সর্মথিত কিছু আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলাম। এর কিছু নমুনাও লক্ষ্য করা গেছে গত ৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে দলটির দেয়া ইফতার পার্টিতে। ইফতার মাহফিলের পুরো আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করেন দল সমর্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন না অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র নেতা।
ইফতার মাহফিলে দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতা উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা মহানগরের এক নেতা বলেন, দলটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তরুণ ও সিনিয়র নেতাদের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান উপস্থিত হলেও আসেননি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল হোসেন ও সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেলিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের প্রচার বিভাগের সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম ও সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এসব নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কথা উঠেছে ইফতার পার্টিতে। উপস্থিত অনেকেরই প্রশ্ন গ্রেপ্তারের ভয়ে যদি ইফতার পার্টিতে না আসতে পারে তাহলে তারা বাসায় থাকেন কিভাবে। জেল মুক্ত নেতারা ঢাকায় প্রকাশ্য চলাফেরা করলেও ইফতার পার্টিতে না আসায় তাদের ভিন্ন চোখে দেখছেন উপস্থিত জামায়াত সমথির্ত মুসল্লিরাও।
সরকারের সাথে আতাঁতের জন্য জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খানকে প্রকাশ্যেই দোষারোপ করেন ইফতারে যোগ দেওয়া কয়েকজন সমর্থক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইফতারে আসা জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য বলেন, ঢাকা মহানগর সেক্রেটারী জেনারেল নুরুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেলিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হালিম গ্রেপ্তার এড়াতেই ইফতার মাহফিলে আসেননি। সব কিছু মিলিয়ে সময় এখন জামায়াতের প্রতিকূলে। এ পরিস্থিতিতে সব ঝড় ঝাপটা সামলিয়ে দল হিসেবে টিকে থাকাই এখন জামায়াতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।