নিউজ ডেস্ক: ৭২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই চার প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫শ’ ৬৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ১শ’ ৫৬ কোটি টাকা। প্রকল্প ৪টির মধ্যে ২টি নতুন প্রকল্প এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প। ৩টি প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এবং বাকি প্রকল্পটি সরকারি ও প্রকল্প সাহায্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেক সভায় ‘লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলা এবং তৎসংলগ্ন এলাকাকে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন হতে রক্ষাকল্পে নদী তীর সংরক্ষণ (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ১৯৮ কোটি ২ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি পাশ হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘জুলাই, ২০১৪’ হতে ‘জুন, ২০১৯’ এর মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করবে।
সভায় জানানো হয় উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত মেঘনা নদীর বাম তীরের ভাঙ্গন হতে সাধারণ মানুষের জীবন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রকল্পটি নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ ১৯৭৬ সালে নির্মিত ৫৯/২ পোল্ডারটির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, শস্য উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি প্রবাহ রোধ করা হচ্ছিল।
কিন্তু ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে উক্ত পোল্ডারে উপকূলীয় বেষ্টনী বাঁধের ৩৭ কি. মি. মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে প্রকল্প এলাকা রক্ষাকল্পে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেয়া হয়। সভায় ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ বরিশাল বিভাগীয় কার্যক্রম-১ (প্রথম সংশোধন) প্রস্তাব’ শীর্ষক একটি সংশোধিত প্রকল্প পাস হয়। ২০১০ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে তৎকালীন ব্যয় ধরা হয় ২শ’ ৬৭ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা।
প্রকল্পটিতে আইডিবি’র ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প সাহায্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সাথে ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় জুন ২০১৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২৪ জুন ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আইডিবি’র চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্যে সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০১৬ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুদ্রার বিনিময় হার ২০১০ সালের তুলনায় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৩শ’ ৩১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে, পূর্বে যা ২শ’ ৬৭ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ছিল।
এ প্রকল্পের আওতায় ২২০০ কি.মি. নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ ও ৩০০ কি.মি. লাইন পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়াও মোট লাইন নির্মাণ অপরিবর্তিত রেখে এইচটি, এলটি, ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে দেশের সকল গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হলে বরিশাল বিভাগে আজকের ২২০০ কি. মি. নতুন লাইনের সাথে আরও ৭৩০০ কি.মি. নতুন লাইন নির্মাণ করতে হবে।’ ভিশন ২০২১ অনুয়ায়ী বাংলাদেশে দৈনিক জনপ্রতি ১৫০ মি.লি. দুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে দুধ উৎপাদনের বাৎসরিক বৃদ্ধির হার ৩ ভাগ হতে ১০ ভাগে উন্নীত করতে হবে। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে নিয়মিতভাবে ‘প্রুভেন বুল’ উৎপাদন করতে হবে যেন অব্যাহতভাবে অধিক উৎপাদনশীল গাভী তৈরি হয়। এ জন্য সভায় ‘ব্রিড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনি টেস্ট (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাশ হয়। ৪৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর
‘জুলাই, ২০১৪’ থেকে ‘জুন, ২০১৯’ মেয়াদে সম্পন্ন করবে। ‘১৯ টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক অপর একটি সংশোধিত প্রকল্পও আজকের একনেক সভায় পাশ হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।